প্রধান মেনু

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষকদের হত্যার হুমকি শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের আগামী সাত দিনের মধ্যে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকিদাতারা নিজেদের পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির সেকেন্ড ইন কমান্ড ‘বিপ্লব’ ও কমান্ডার ইন চিফ পরিচয় দিয়ে শুক্রবার সকাল ৯টায় পর্যায়ক্রমে দুটি নম্বর থেকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের শিক্ষকদের মোবাইলে কল করে কারও কারও কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সব শিক্ষকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তারা জানিয়েছেন ।
ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ এব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহাম্মেদ হোসেন ভূঁইয়া, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক এবং ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকীর কাছে পৃথক পৃথকভাবে অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় অধ্যক্ষ শনিবার ঈশ্বরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম জানান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিরুল হক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামাল হোসেন শাহ, ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. শরিফ হাসান, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রভাষক অসীম কুমার পালসহ অন্য শিক্ষকদের দুটি নম্বর হতে ফোন করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। তিন দিনের মধ্যে চাঁদা না দিলে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, অপরাপর কলেজগুলোতেও একইভাবে এসব নম্বর হতে শিক্ষকদের ফোন করে চাঁদা দাবি ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকিরুল হককে একই নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে যুগ্ম সচিব পরিচয় দিয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সব শিক্ষকের নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তারা।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক বলেন, এরই মধ্যে ট্র্যাকিং করে ০১৯৩৪-৫০২৯০৪ নম্বরের মোবাইলটি ঢাকায় অবস্থান করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, পুলিশ এরই মধ্যে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হুমকিদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করেছে। ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম জানান, সরকারি কলেজের সব শিক্ষককে এভাবে হত্যার হুমকিতে শিক্ষকরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন।