প্রধান মেনু

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে এমপি-মন্ত্রীরা

একজন এমপি ও সংসদ ভবন এলাকায় দায়িত্বরত ৩ পুলিশ ও একজন আনসার সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্পিকারের বাসা ও সংসদের গেটে দায়িত্ব পালনরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সদস্যের সংস্পর্সে আসা ৫১ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এমপি-মন্ত্রীরা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্যদের নিরাপদে রাখতে ঘরমুখী হতে শুরু করেছেন অনেকে। বাইরে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের থেকেও বাধা পেতে হচ্ছে।

আক্রান্ত নওগাঁ-২ আসনের এমপি শহিদুজ্জামান সরকারও আইসোলেশনে রয়েছেন সংসদ ভবন সংলগ্ন এমপিদের জন্য নির্ধারিত কোয়াটারের (ন্যাম ভবন) চার নম্বর ভবনে। ইতোমধ্যে ওই ভবনটি লকডাউনও করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও গোটা বিষয়টি নিয়ে সংসদ এলাকার মধ্যে থাকা স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারসহ ভিআইপিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

সংসদের হুইপ আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ৬৫ বছর বয়সী এমপি শহিদুজ্জামান সরকার মোটামুটি ভালো আছেন। এর আগে এমপি শহিদুজ্জামান গত ২৮ এপ্রিল তার নির্বাচনী এলাকা থেকে ঢাকায় আসার পর জ্বর অনুভব করেন। এর পর নিজ থেকেই তিনি নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) অনুরোধ জানান। গত বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের প্রতিনিধিরা তার সরকারি বাসভবন থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন। পরদিন তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় ফলাফল পজিটিভ।

জানা গেছে, এমপি শহিদুজ্জামান যে ভবনে আইসোলেশনে রয়েছেন সেখানে বসবাসরত অন্যান্য ফ্ল্যাটেও বাইরের মানুষ আসা যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে। সেখান থেকেই ফোনে এমপি শহিদুজ্জামান জানান, তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পরিবার থেকে আলাদা আছেন। তিনি সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়াও চান। শহিদুজ্জামান সরকার একাদশ সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। দশম জাতীয় সংসদে তিনি হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে গত শুক্রবারই স্পিকারের বাসার সামনের বক্সে দায়িত্ব পালন করা দুই পুলিশ সদস্য, সংসদ এলাকায় ডিউটি করা এক পুলিশ সদস্য ও এক আনসার সদস্যও করোনা পজিটিভ বলে শনাক্ত হন। তারা প্রত্যেকেই এখন রাজারবাগ? পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্তরা পুলিশ সদস্যরা হলেন আরিফ, বাদল, মো. খালেক আর আনসার সদস্য হলেন মো. মাসুদ।

সংসদ কর্মকর্তারা জানান, স্পিকারের বাসার সামনের পুলিশ বক্সে ডিউট করা দুজন আক্রান্ত বলে শনাক্ত হওয়ার পর স্পিকারের বাসায় থাকা তার একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী কাজী মফিজুর রহমান ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েক জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তবে তাদের ফল নেগেটিভ এসেছে। কাজী মফিজুর রহমান বলেন, পুলিশ সদস্যদের করোনা পজিটিভ আসার পর সংস্পর্শে থাকার কারণে আমারও নমুনা নেওয়া হয়। তবে আলহামদুলিল্লাহ আমার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে। আমরা ভেতরে যারা আছি সবাই এখন পর্যন্ত নিরাপদে আছি।

সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এক সংসদ সদস্য ও দায়িত্বপালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা করোনা আক্রান্ত হওয়ায় এ এলাকায় বাস করা ভিআইপিদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সচিব হোস্টেলের বাসিন্দারাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। আগে বিকাল হলে সংসদ এলাকার ভেতরেই তাদের পরিবারের অনেকে হাঁটাহাঁটি করতেন। কিন্তু এখন সবাই আতঙ্কে আছেন।

জানা গেছে, সংসদ চত্বরের ভেতরে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, কয়েক জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের বাসা রয়েছে। সংসদ চত্ত্বরের ভেতরের বাংলো-এ-১ এ থাকেন সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, বাংলো-২-এ থাকেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া ভেতরে বাসা রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের। এ ছাড়া দুই জন হুইপও সংসদ চত্বরের ভেতরে থাকেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ৩ পুলিশ সদস্যের করোনা পজিটিভ হওয়ার পর নিরাপত্তায় থাকা বাহিনীর অন্য সদস্যদের বাইরে যাওয়া এবং কোনো ভবনের ভেতরে প্রবেশে নিষেধ করা হয়েছে। যারা আছেন তাদের খাবার ব্যবস্থাও ভেতরে করা হচ্ছে। সংসদ ভবন এলাকায় বটতলা পুলিশ রুমের ৫১ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। স্পিকারের বাসায় ১২ জন দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের রাখা হয়েছে সংসদের ৩ নম্বর ব্লকে। চার পুলিশ সদস্যকে রাখা হয়েছে এমপি হোস্টেলের ৬ নম্বর ব্লকে। অন্যরা ৪ নম্বর ব্লকে রয়েছেন কোয়ারেন্টিনে।

কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে ঘরের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের চাপ আগে থেকেই ছিল। এখন একজন সংসদ সদস্য আক্রান্ত হওয়ায় এই চাপ আরও বেড়েছে। তবে চাপ হোক আর উৎকণ্ঠা হোক, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই দুর্যোগের সময় ঘরে থাকার সুযোগ নেই। মানুষের পাশে তাদের দাঁড়াতেই হবে।

করোনা সতর্কতার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই দলের সিনিয়র নেতা, অসুস্থ ও প্রবীণ সংসদ সদস্যদের বাসার বাইরে না বের হতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এই নির্দেশনার কথা একাধিকবার তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সার্বক্ষণিক বাসায় অবস্থান করছেন।