প্রধান মেনু

করোনা উপেক্ষা করে চিরচেনা রূপে শরৎনগর হাট

গত তিন সপ্তাহ ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের শরৎনগর হাটে তেমন লোক সমাগম ঘটেনি। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ বুধবার হাটে হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সকালে হাট বসে দুপুর পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের অভিযানে লোকজন হাট থেকে ফিরতে শুরু করে। এ নিয়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাহলে জনগণ কি স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়েই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তে চাচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলার সর্ববৃহৎ হাট বসে পৌরশহরের শরৎনগর বাজারে। এই হাটে কেনাকাটা করতে আসে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। তাছাড়া কৃষকের উৎপাদিত ফসল এই হাটে বিক্রি করতে হয়। সপ্তাহের শনিবারে গরু-ছাগলও বেচাকেনা হয়। করোনা পরিস্থিতিতে গত ২৪ মার্চ জেলা প্রশাসন সব উপজেলাতে সাপ্তাহিক হাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। এরপর এক সপ্তাহ নির্দেশ অমান্য করেই হাট চালু রাখে ইজারাদার। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে গত তিন সপ্তাহ ধরে সীমিত পরিসরে সপ্তাহিক হাটের দিনে পণ্য কেনাবেচা হতো। মানুষের উপস্থিতিও থাকতো খুবই কম। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ বুধবার হাজার হাজার লোকের সমাগম ঘটে হাটে। মুহূর্তেই হাট শুরু হয় পূর্বের সেই চিরচেনা রূপে। সাপ্তাহিক এই হাটে হঠাৎ করেই এত লোকের সমাগম ঘটবে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন বা থানা পুলিশের ধারণা ছিল না। তাই সকাল থেকে হাটে নজরদারি ছিল না তাদের। কিন্তু হাজার হাজার লোকজনের উপস্থিত হওয়ার পরে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ হাটে অভিযান চালিয়ে লোকজনকে বের করে দেয়। তবে বিষয়টি বেশি ভাবিয়ে তুলেছে উপজেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের। এদিকে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে কয়েকশো বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাঙ্গুড়ায় ফিরেছে। তারা যদি এই হাটের মধ্যে আসে তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক হতে পারে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সচেতন মহল।
শরৎনগর বাজারের বাসিন্দা মামুন হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই আজকে হাটে হাজার হাজার মানুষের সমাগম কেন হলো বুঝলাম না। তবে মনে হয় রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করতেই এতো লোকজন হাটে এসেছে। এতে শরৎনগর বাজারের স্থায়ী বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ বলেন, অনেক চেষ্টা করে গত তিন সপ্তাহ মানুষকে হাট বাজারে আসা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আজ বুধবার পৌর শহরের শরৎনগর ও ভাঙ্গুড়া বাজার লোকারণ্য হয়ে যায়। এমনকি শহরের মধ্যে আগের দিনের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল শুরু করে। বিষয়টা নিয়ে সকলেই দুশ্চিন্তায় পড়েছি। আগামী দিন থেকে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে তার জন্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আজকে হাটে অনেক লোকের সমাগম হয়ে যায়। পরে অবশ্য প্রশাসন অভিযান চালিয়ে হাট থেকে লোকজনকে বের করে দেয়। তবে আগামী দিনগুলোতে যেন হাটে এভাবে লোকজন সমাগম না ঘটে আগে থেকেই তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।