প্রধান মেনু

করোনা কালের জীবন ধারা – (১৮)

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশে^ প্রতিদিন হাজার
হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটছে। মৃত ব্যক্তির লাশ নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে
মানুষ। কেউ করোনায় মৃত্যুবরণ করলে অতি আপনজনেরা পর হয়ে যায়।
কেউ তার ধারে কাছে যেতে সাহস করেনা। ফলে অধিকাংশ লাশই বলতে
গেলে একাকি নিষ্ঠুরভাবে দাফন করা হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত
লাশ নিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে হৃদয়স্পর্শি ঘটনা। এমনি একটি ঘটনার
অবতারনা হয়েছে ভারতে।
দৈনিক কালেরকন্ঠ গত ২১ এপ্রিল সংখ্যায় এইভাবেই তা বর্ণনা করেছে,
‘ বার্ত সংস্থা এপির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
মহিলার দেহ বহানকারি গাড়িটি ককবরস্থানের একেবারে শেষপ্রান্তে
অবস্থান করলেও গেটের পাশ দিয়ে জুম করে সেটি ক্যামেরায় ধারণ
করেছেন এপির ফটোগ্রাফার। এটি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কভিড-
১৯ এ মারা যাওয়া মুসলমানদের কবর দেওয়ার জন্য সংরক্ষিত স্থান। ড্রাইভার
গাড়ি থেকে নেমে বাইরে এসে মুখোশ এবং রাবারের গ্লোভস পরা
চারজনকে ডাকলেন। তারা হলুদ রঙের প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে ঢাকা দেহটি
টেনে নিয়ে চুপ করে রইলো। একটু দুরেই একটি আর্থমুভার(খনন যন্ত্র)
গর্জন করছে। এটি সংকেতের জন্য অপেক্ষা করছে। ৫২ বছর বয়সি ওই
মহিলার সমস্ত আত্মীয়দের মধ্যে মাত্র চারজন পুরুষ কবরস্থানের মাঝখানে
দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়, আর্থমুভারের বিশাল ধাতব চোয়ালটি মাটি
সরিয়ে বড় একটি গর্ত খনন করলো। সাধারণ মুসলিম সমাধির চেয়ে
এটা ছিলো সম্পুর্ণ অন্যরকম। অনেকটা ময়লা ফেলার গর্তের মত।
একজন ধর্মীয় ইমাম ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে জানাজা নামাজ শেষ করেন
এবং মৃতব্যক্তির এক আত্মীয় পকেট থেকে গোলাপ জলের শিশি বের করে

কিছুটা শরীরে ছিটিয়ে দেয়। এরপর দেহটি দড়িতে বেঁধে টেনে সেই
গর্তে নামিয়ে দেয়। কয়েকজন দুরে দাঁড়িয়ে কয়েক মুঠো মাটি কবরে
ফেলে দিলো এবং চলে গেলো। এবার আর্থমুভারটি আরো কাছে
পৌঁছে তার ধাতব চোয়াল দিয়ে মাটি তুলে কবরটি ঢেঁকে দিলো।
মরদেহ বহনকারি গাড়িটি ততক্ষণে সাইরেন বাজাতে বাজাতে দ্রুত
বেরিয়ে গেলো। গাড়িটিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে, কারণ
সেখানে আরো তিনটা লাশ রয়েছে যা এখানে কবর দিবার জন্য আনতে
হবে।’
আমাদের দেশেও করোনা উপসর্গ নিয়ে ফ্লাটের সিঁড়িতে
মৃত্যবরণকারি কোটিপতি ব্যবসায়ীর লাশের কাছে আসেনি স্বজনেরা।
নারায়নগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় নিজ বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে থাকা
সেই ব্যসায়ীর নাম খোকন সাহা (৫২)। ঐ বাড়িতে তার স্ত্রী এবং দুটি
ছোট মেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার শারিরিক অবস্থার অবনতি
হলে তখন তাদের আশেপাশে থাকা তার বন্ধুদের এবং তাদের আত্মীয়
স্বজনদের ডাকা হয়েছিলো হাসপাতালে নিয়ে যাবার জন্য । কিন্তু
করোনার ভয়ে কেউ সে ডাকে সাড়া দেয়নি। পরে স্ত্রী ও তার ছোট দুটি
মেয়ে ধরাধরি করে তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা তাকে
নিতে পারেনা। তারা আশেপাশের অনেককেই আকুতি জানায় তাদেরকে
সাহয্য করার জন্য। কিন্তু কেউই তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। ফলে
সিঁড়িতেই তার মৃত্যু ঘটে।
সারা বিশ^ জুড়েই করোনায় করুন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কে
কোন্খানে গেলে করোনার ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা পাবে তা নিয়ে চলছে
প্রতিযোগিতা। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সৌদি বাদশাহ সালমান
তো রাজপ্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে জেদ্দা নতুন ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।
যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও নিজ বাসভবন ছেড়ে চলে গেছেন
দুরবর্তী এলাকায়। নিউইয়র্ক টাইমস জানায় সৌদি পরিবারের অন্তত
দেড়শ সদস্য নোভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশ
কয়েকজন সম্প্রতি ইউরোপ ভ্রমণ করেছিলেন। এছাড়া রাজপরিবারের
আরো বেশ কয়েকজনের মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

রাজপরিবারেরর ঘনিষ্ট সুত্রে মার্কিন সংবাদ মাধ্যমটি জানায়,
আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন পরিবারের শীর্ষ সদস্য রিয়াদের গভর্ণর প্রিন্স
ফয়সাল বিন বান্দর বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ। তিনি নিবিড়
পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন। ( দেশ রূপান্তর-৯ এপ্রিল,২০২০) ।
মধ্যপ্রচ্যের সব চেয়ে বড় দেশ সৌদি আরবে গত ২১ মে পর্যন্ত
করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজারের বেশি। সিনহুয়া জানায়,
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-আবদুল আলী প্রেস
ব্রিফিং এ বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে নতুন করে
আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৬শ ৯১ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা
বেড়ে হয়েছে ৬২ হাজার ৫ শ ৪৫ জন। করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩শ ৩৯ জন।
এপর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ৩৩ হাজার ৪ শ ৭৮ জন।
(চলবে) (লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট)।
এবাদত আলী
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
সদস্য পাবনা প্রেসক্লাব। ঊসধরষ: বনধফধঃধষর ১৯৭১ @ মসধরষ .পড়স ২২ / ০৫ / ২০২০.