প্রধান মেনু

করোনা সন্দেহে যেভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়

বিশ্বজুড়ে ত্রাস তৈরি করা করোনা মহামারি রোধে কোভিট-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে বা এমন সন্দেহ হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আশপাশের লোকজন সম্পূর্ণ আলাদা করে রাখাটাই হলো ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ বা ‘সেল্ফ-আইসোলেশন’ ব্যবস্থা। কারণ করোনাভাইরাসের ভয়ংকর দিক হলো, এটি সাংঘাতিক ছোঁয়াচে, দ্রুততম গতিতে এর ছড়িয়ে পড়াটাই হলো সবচেয়ে বিপদজনক দিক, বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তাররা এমনটাই বলছেন ।

কোয়ারেন্টাইন কী

কোয়ারেন্টাইন অর্থ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথক থাকা। তবে কোয়ারেন্টাইন মানে এই নয় যে, আপনাকে আজীবনের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা করে দেয়া হলো। যদি কোন ব্যক্তির করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে তাকে জনবহুল এলাকা থেকে দূরে রাখতে এবং ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ১৪ দিন আলাদা থাকতে বলা হয়। কেননা এ ভাইরাস ধীরে ধীরে সুস্থ কোষের সঙ্গে মেশে। আর এই সময়ের মধ্যে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিয়মিত সময়ে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা ও জ্বর কমাতে ওষুধ গ্রহণসহ ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুশীলন করানো হয়। ইউনিভার্সিটি অব নটিংহামের মলিকুলার ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোনাথন বল বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাসটির উন্মেষ পর্ব ১৪ দিন থাকে এবং এ কারণেই কোয়ারেন্টিনে ১৪ দিন রাখার কথা বলা হয়।

কেন কোয়ারেন্টাইন

কোয়ারেন্টাইন মানে বাড়িতে বা বদ্ধ ঘরে থেকে অথবা সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কোয়ারেন্টাইনে সর্বোচ্চ চার থেকে ছয়জনকে একসঙ্গে রাখা যায়। এর বেশি হলে সেটা আর কোয়ারেন্টাইন নয়। আলাদা করে সবাইকে রাখা হচ্ছে। অবজারভেশনে রাখা না হলে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর মধ্যে প্রধান দুটি নির্দেশনা হলো – হাত না ধুয়ে নিজের চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করা। আর প্রতিদিন কয়েকবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে।

কখন কোয়ারেন্টাইন

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম লক্ষণ হলো জ্বর এবং শুকনো কাশি। আপনার এরকম লক্ষণ দেখা দিলেই কোয়ারেন্টাইন বা সেল্ফ-আইসোলেশনে চলে যান – অর্থাৎ নিজেকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলুন। এর উদ্দেশ্য হলো যাতে আপনার বাসা, পরিবার, কর্মস্থল, বা সামাজিক পরিমন্ডলে অন্য যে মানুষেরা আছেন – তাদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে না পারে।

কীভাবে কোয়ারেন্টাইন

আগেই বলা হয়েছে, কোয়ারেন্টাইন বা সেল্ফ আইসোলেনের মানে হলো আপনাকে ঘরে থাকতে হবে। কর্মস্থলে, স্কুলে বা লোকসমাগম হয় এমন যে কোন প্রকাশ্য স্থানে যাওয়া বন্ধ করে দিন। কোন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট – অর্থাৎ বাস, ট্রেন, ট্রাম, ট্যাক্সি বা রিকশা যাই হোক না কেন ব্যবহার করা যাবে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এমন একটা ঘরে থাকতে হবে, যেখানে জানালা আছে, ভালোভাবে আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে। বাড়ির অন্য ঘরগুলো থেকে যেটি আলাদা। অন্যলোকদের আপনার ঘরে আসা-যাওয়া করতে নিষেধ করুন।আপনাকে কেউ যেন ‘দেখতে না আসে’ তা নিশ্চিত করুন।

আপনার যদি বাজার-হাট করতে হয়, বা কোন ওষুধ বা অন্য কিছু কিনতে হয় – তাহলে অন্য কারো সাহায্য নিন। আপনার বন্ধু, পরিবারের কোন সদস্য বা ডেলিভারি-ম্যান এটা করতে পারে।যারা আপনার জন্য খাবার বা জিনিসপত্র নিয়ে আসবে, তাদের বলুন আপনার ঘরের দরজার বাইরে সেগুলো রেখে যেতে। তারা চলে যাবার পর আপনি নিজের ঘরে সেগুলো নিয়ে আসুন।

কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যক্তির আলাদা একটি বাথরুম ব্যবহার করা উচিত। তা সম্ভব না হলে যিনি কোয়ারান্টাইনে আছেন- তিনি বাথরুম ব্যবহার করবেন সবার শেষে এবং ব্যবহারের পর অবশ্যই সেটি জীবানুনাশক দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

নিজেকে যদি সম্পূর্ণ আলাদা করা সম্ভব না হয়, কী করবেন?

যদি এমন হয় যে আপনি নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্য বা ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দাদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করতে পারছেন না, সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ হলো একে অপরের সংস্পর্শে আসা যতটা সম্ভব সীমিত করুন।যদি সম্ভব হয়, বাসার অন্য লোকদের থেকে কমপক্ষে ২ মিটার বা ৬ ফুট দূরে থাকুন। ঘুমানোর সময় একা ঘুমান। করোনাভাইরাস সংক্রমণ যাদের জন্য বেশি বিপজ্জনক হতে পারে – যেমন বয়স্ক মানুষেরা – তাদের থেকে দূরে থাকুন।

বাড়িতে কেউ কোয়ারেন্টাইনে থাকলে অন্যদের যা করতে হবে

কোয়ারাইন্টাইনে বা আইসোলেশনে থাকা কোন ব্যক্তির সাথে যারা এক বাড়িতে বসবাস করছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো: তাদের ঘন ঘন হাত ধুতে হবে। হাত ধোয়ার নিয়ম হলো, সাবান ও পানি ব্যবহার করে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে – বিশেষ করে সংক্রমিত কারো সংস্পর্শে আসার পর।

বাড়িতে কেউ কোয়ারাইন্টাইনে থাকলে কোন তোয়ালে, টুথপেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা এরকম কোন টয়লেট্রিজ সবাই মিলে ব্যবহার করা যাবে না।

ঘরের মেঝে, টেবিল চেয়ারের উপরিভাগ – এমন ‘সারফেস’গুলো প্রতিদিন তরল সাবান বা অন্য কোনো ক্লিনিং প্রোডাক্ট দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

কোয়ারান্টাইনে থাকা ব্যাক্তির ফেলা বা সংস্পর্শে আসা সব রকম আবর্জনা একটি বিনব্যাগে ভরে তা আবার আরেকটি ব্যাগে ভরে নিন।

যদি বাড়ির কারো করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয় , কোনোভাবেই তাকে আর ঘরে রাখা যাবে না। দ্রুততম সময়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।

সুত্র ; পূর্বপশ্চিম