প্রধান মেনু

কুড়িগ্রাম ডিসির জিঘাংসার শিকার সাংবাদিকঃ প্রাসঙ্গিক কথা

একজন সংবাদকর্মী হিসেবে একটি খবরে চমকে উঠলাম। কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা: সুলতানা পারভীনের নির্দেশে শুক্রবার রাত ১২ টায় আরডিসি নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আনসার বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ঢুকে তাকে মারপিট করে ধরে নিয়ে যায়। তার বাড়িতে কোন তল্লাশী না করে ডিসি অফিসে নিয়ে গিয়ে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা দেখিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ বছরের কারাদন্ড ৫০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন।

শনিবার সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের স্ত্রী জেলে স্বামীর সাথে দেখা করতে গিয়ে জানতে পারেন তাকে ডিসি অফিসে নিয়ে চোখ হাত বেঁধে উলঙ্গ করে পেটানো হয়। তার স্বামী খুবই অসুস্থ বলে তিনি জেলখানা থেকে ফিরে জানান। ওই সাংবাদিককে মাদকবিরোধী আইনে এ সাজা দেয়ার পিছনে জেলা প্রশাসকের যে জিঘাংসা কাজ করেছে তা এখন সুস্পষ্ট। কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা: সুলতানা পারভীন কাবিখা ও বেসরকারি অনুদানে একটি পুকুর সংস্কার করে নিজের নামে সুলতানা সরোবর নামকরণ করে তার ফেসবুকে ছাড়লে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম ্এ বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন করেন। জেলা প্রশাসককে ব্যাপক অসন্তোষের মুখে তার নামকরণের খায়েস থেকে সরে আসতে হয়। জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন এ যন্ত্রনা যেন মন থেকে মুছে ফেলতে পারেন নি।

তাই তিনি ওই সাংবাদিককে রাতে বেআইনিভাবে তুলে এনে মাদক দিয়ে ১ বছরের সাজা দিলেন।মধ্যরাতে টাস্কফোর্স অভিযানের নামে কাউকে তুলে এনে মোবাইলকোটে সাজা দেয়া বেআইনি হলেও জেলা প্রশাসক তার ধার ধারেন নি।জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার বলেছেন যদি অন্যায় হয়ে থাকে তবে জেলা প্রশাসককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।মন্ত্রী এও বলেন, মধ্যরাতে মোবাইল কোর্ট ও সাজা দেওয়া কোন কিছুই আইন সম্মত নয়।ডিসি বলেও তিনি আইনের উর্ধে নয়।কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের এ বেআইনিভাবে সাংবাদিককে সাজা দেয়ায় প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের অবৈধভাবে সাংবাদিককে জেল দেয়ার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ ও বিব্রত অবস্থায় পরেছে।মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এ ঘটনায় রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিলে রবিবার তদন্ত করে ঘটনায় জেলা প্রশাসকের জড়িতের সত্যতা পান।

এরপর বিকেলে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহারের নির্দেশসহ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নেয়। সংবাদটি শুনে আমি যেন হতবাক । একজন জেলা প্রশাসক কেমন করে এত নিলজ্জ বেহায়া ও জিঘাংসা পরায়ণ হতে পারে তা চিন্তা করে আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছি। এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক নিন্দার ঝড় বইছে।ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিকইউনিয়ন এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশিষ্ট টিভি ব্যাক্তিত্ব স্নেহাস্পদ অঞ্জন রায় ফেসবুক ষ্ট্যাটাসে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি কয়েকটি নদী জেলা প্রশাসকের নামে দিয়ে দেয়ারও মন্তব্য করেছেন।

দেশের একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবীণ সংবাদিক খ্যাতিমান কলামিষ্ট রনেশ মৈত্র এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারসহ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আমার শিক্ষাকতা ও সাংবাদিকতার জীবনে অনেক প্রশাসক দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। আবার বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট বন্ধুও প্রশাসনে চাকরি করায় তাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। আমার মনে হয়েছে প্রশাসনে এমন অনেক রয়েছেন যারা নিজেদের জমিদার ও জনসাধারণকে প্রজা ভাবতেই বেশি পছন্দ করেন।

আর আগেকার অধিকাংশ জমিদার যেমন প্রজাদের জোর জুলুম করে খাজনা আদায়ের পাশাপাশি নিত্যদিন নারীসঙ্গ ভোগসহ আরাম আয়াসে দিন কাটাটে পছন্দ তেমনি এসব প্রশাসকও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে একই ধারায় চলছেন।জমিদারের সাথে এদের পার্থক্য হচ্ছে জমিদার প্রজাদের নিপিড়নের মাধ্যমে খাজনা তুলে শোষণ করতো আর এরা জনগনের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের মাধ্যমে শোষন করছে। এসব প্রশাসকদের এমন কোন অনৈতিক পথ নেই যেখানে তাদের পদচারণা দেখিনি। এ নিয়ে লিখতে বসে সদ্য বিদায়ী এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ছবি ভেসে উঠলো। তার যোগদানের পরই সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজ ইন্টারমিডিয়েটের বোর্ড পরীক্ষায় মুখোমুখি হই।

তিনি গেঞ্জি পড়ার জন্য প্রকাশ্যে ছাত্রীদের সামনে যে ন্যাকেট উচ্চারণ করলেন তা শুনে আমি হতবাক হয়ে উঠি। পরীক্ষার হল না হলে সেদিন যে তার যোগ্য জবাব তিনি পেতেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারি। কয়েকদিন পর আবার ওই ইউএনও উপজেলার কৃষি মেলায় থ্রি কোয়াটার প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেলো। তিনি উপজেলা ক্যাম্সেপ আবার হাফপ্যান্ট পরে বেড়াতে পছন্দ করতেন।আবার তাকেই দেখা গেল স্ত্রী সালোয়ার কামিজ পড়ে পেঁয়াজের জমিতে নিচু হয়ে বসে আছে তার ব্যাকসাইডের ছবি তুলে ইউএনও সাহেব ফেসবুকে পাবলিকলি পোষ্ট করে যেন তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন।তার সময়ে আর্থিক বিষয়ের আর নাই বললাম। কী রুচিবোধ ? আর এরাই ডিসি হবে, বড় আমলা হবে। আমি আর এক প্রশাসককে চিনতাম যিনি পাবনার এক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। তার কয়েক বছর পর জেলা প্রশাসক হয়ে পারনায় আসেন। তার সাথেওই সময়ে উপজেলার এক বিএনপি নেতার বেশ সখ্যতা ছিলো।তিনি জেলা প্রশাসক হয়ে আসার পর মাঝে মধ্যেই রাতে ওই উপজেলায় গিয়ে নারী সঙ্গভোগ করে আবার তার বাংলোতে রাতেই ফিরতেন। আর সবব্যবস্থা করতেন ওই বিএনপি নেতা।আমি আর এক প্রশাসককে খুব কাছ থেকে দেখেছি যার নেশাই নারী সঙ্গভোগ।

স্ত্রী সন্তান ঢাকায থাকতেন আর পাবনায় পোষ্টিং নিয়ে তিনি ডাক বাংলোতে থাকতেন।তার নষ্টামী দেখলে মুখে থুথু মারতে ইচ্ছা করতো ।আমি বিষয়টি জেনে নজরদারি করার পর যে তথ্য পেয়েছিলাম তাতে তা লিখতে পারছি না। বিষয়টি একটি এজেন্সীকে জানালে ওই প্রশাসক তখন ডাক বাংলোতে অপকর্ম করতে সাহস না পেয়ে ভিন্ন পথ বেছে নেন।তার ব্যাজমেট পাশের জেলা প্রশাসকের শেল্টারে পাবনা থেকে মেয়ে নিয়ে গিয়ে ফষ্টি নষ্টি চালাতে থাকেন।আর এক জেলা প্রশাসককের চেহারা মনের পর্দায় ভেসে উঠলো।

সুজানগর এমএন কলেজে বোর্ড পরীক্ষায় ডিউটি করছি।জেলা প্রশাসক আমার রুমে এসে ম্যাজিষ্ট্রেটকে হাইব্রেচ নিচে নকল আছে কিনা তা দেখতে বললেন। ম্যাজিষ্ট্রেট মাথা ঢুকিয়ে আদেশ পালন করতে যখন ব্যস্ত ঠিক তখনিই জেলা প্রশাসক আমাকে এমনজোরে ধমক দিয়ে বললেন,আমার ম্যাজিষ্ট্রেট মাথা ঢুকিয়ে দেখতে পারেন আপনি পারেন না।তার ধমকে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেছিলাম ওটা আমার কাজ নয়, আমার ছেলেরা নকল করলে দায়িত্ব আমার এর বাইরে নয়। আমার উত্তরে জেলা প্রশাসক এতই রুষ্ট হলেন যে,আমাকে বহিস্কার করার জন্য রুমের বাইরে ওৎ পেঁতে রইলেন। রুমে লুজশিট না থাকায় আমি অন্য ভিজিলেটরকে বলে যেই না বাইরে বেড়িয়েছি এমনি জেলা প্রশাসক সাহেব গর্জে উঠে বললেন রুম ফেলে আপনি কোথায় যাচ্ছেন।আমি জোড়ালো গলায় উত্তর দিলাম লুজশিট আনতে। কোন পিওন নাই একইভাবে উত্তর দিলাম না। জেলা প্রশাসক তখন আর কথা না বলে নিচ তলায় নেমে গেলেন।সেদিন জেলা প্রশাসকের সাথে এভাবে উত্তর দেয়ায় পাশের রুমের শিক্ষকরা প্রমাদ গুনছিলো আমাকে সাসপেন্ড করা হবে। আর এক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুখবন্ধ করতে পিইওর মাধ্যমে ঘুষ পাঠানোর প্রস্তাব দিলে তাকে এমন ধমক মেরেছিলাম সে ভয়ে ফোন কেটে দেন।

আর প্রশাসনের সবাই যে নীতি নৈতিকতাহীন তা কিন্তু বলছি না।অনেক ভালো নীতি নৈতিকতাসম্পন্ন প্রশাসককেও দেখিছি যাদের স্যালুট দিতে ইচ্ছা করেছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকের বিষয়টি পর্যালোচনায় মনে হয়েছে প্রশাসকের নৈতিক মান যখন শুন্যের কোঠায় দাড়ায় তখনই সে প্রশাসক এমন অবিবচেক হয়ে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে এমন ন্যাক্কার জনক ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে মনে হয়। তা না হলে একবছর আগের সংবাদ ছাপানোকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক এমন বেআ্ইনি কাজ করতে পারেন যা ভাবনায়ও আসে না। জেলা প্রশাসকের জিঘাংসা দেথে মনে হয়েছে সে রাজা আর সবাই তার প্রজা।তিনি যা বলবেন বা করবেন সবাই যেন তার সাথে জী হুজুর করবেন। সাহসী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম তা করেননি তাই যেন জেলা প্রশাসকের মাথায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলো। তাই তিনি নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাহসী সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তুলে এনে মদ, গাঁজা দিয়ে ১ বছরের জেল দিলেন।

তবে সময় যত গড়াচ্ছে জেলা প্রশাসকের মুখোস তত খুলে যাচ্ছে। রবিবার জেলা প্রশাসক দাবি করেছেন এটি টাস্কফোর্সের অভিযানে সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের চাহিদার প্রেক্ষিতে ১জন ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশ আনসারও মাদকদ্রব্যে অফিসের লোক মিলে এ অভিযান চালানো হয়েছে। মাদক দ্রব্য অধিদফতরের সহকারি পরিচালক অবশ্য জানিয়েছেন তিনি অফিসে ছিলেন না।শনিবার দুপুরে অফিসের পরিদর্শক জাহিদ তাকে জানান,শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে অভিযানের নামে তাদের ডেকে নেয়া হয়। জেলা প্রশাসক ও মাদক দ্রব্য বিভাগের বিপরিতমুখি বক্তব্যে নিশ্চিত যে জেলা প্রসাশক নিজে পুর্বপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এ ধরনের প্রশাসকদেও নিয়ে লিখতে বসে ব্রিটিশ আমলের এক আইনের কথা মনে পড়ে গেল। ব্রিটিশরা কারও চাকরি দিতে গেলে তার বংশ পরিচয় দেখে তার পরে নিয়োগ দিতেন। জ্ঞান হওয়ার পর ব্রিটিশদের এ আইনকে কালাকানুন ভাবতাম এ ভেবে যে ওরা মানুষে মানুষে বৈষম্যের জন্য এটা করেছিলো। এখন আমাদের এসব কর্মকর্তাদের দিকে তাকালে মনে হয় ব্রিটিশদের এ আইন মেনে যদি যাচাই বাছাই করে নিয়োগ দেয়া হতো তাহলে এদুর্গতি দেখতে হতো না। জামালপুর, দিনাজপুর আর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকদের অনৈতিকতা আজ সারা দেশের মাঠ প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছে এবং দেশের যোগ্য ভালো নীতিবান প্রশাসকদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। তেমনি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আর একটি বিষয় আমাকে আহত করেছে। এতবড় একটি ঘটনায় কুড়িগ্রামসহ দেশের সংবাদকর্মীদের নিস্পৃতায় আমি হতাশ। কী বলবো এক শ্রেণির সংবাদ কর্মীদের অসততা,ধান্দাবাজিসহ অনৈতিকতা, অনৈক্য আজ সুস্থ্য সাংবাদিকতায় যেন অন্তরাল হয়ে উঠছে। এব্যাপারে কুড়িগ্রাম খোঁজ নিলেই জানা যাবে এক শ্রেণির সংবাদকর্মী যেন জেলা প্রশাসককে এ ঘটনায় উৎসাহ যুগিয়েছে। সব জায়গাতেই যেন কেমন এলোমেলো। কয়েকদিন আগের এক ঘটনার মুখোমুখি হয়ে অপ্রস্তুত হয়েছিলাম। উপজেলার এক সাংবাদিক বন্ধু হঠাৎ করে ফোন করে জানালেন,তার প্রতিষ্ঠিত দোকান থানার ওসি তালা লাগাতে দারোগা পাঠিয়েছেন। এর পিছনেও রয়েছে এলাকার এক সাংবাদিক নেতার যে টাকা কামাইয়ের ফন্দি তা জেনে অবাক হলাম। শরিকানা বিরোধে ওই সাংবাদিক নেতা সাংবাদিকের অপর শরিককের কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নিয়ে দোকান দখল করে দেয়ার চুক্তি করে। সে মতো ওইপক্ষ টাকা আগাম পরিশোধ করে।

আর সাংবাদিক নেতা থানার ওসির সাথে আধা আধি চুক্তি করে। ওসি সাহেব এরপর দারোগা পাঠান ওই সাংবাদিকের দোকান তালা মারতে। তালা মারার আগে দোকানী সাংবাদিক বন্ধুকে ওসি জানায় কাল ১১টায় এ ঘটনার মিমাংসা হবে। আর একা আসতে হবে। কাউকে নিয়ে আসা যাবে না।আমি শুনেই ওসিকে ফোন দিয়ে বললাম,দোকান তালা মারার অধিকার কে দিয়েছে আপনার ? এটা সিভিল মামলা আদালত দেখবে , আপনি কে? ওসি আমার জোড়ালো কথাতে আমতা আমতা করে বলতে লাগলো না আমি তালা দিতে বলেনি।তাকে বললাম টাকার জন্য যা ইচ্ছা করবেন তা মানবো না। দোকানে তালা মাড়লে আমি আপনাকে ছাড়বো না। আমি এখনই এসপি সাহেবকে জানাবো বলার সাথে সাথেই তিনি তালা না মেরে দারোগাদের ফিরে আসতে বললেন। কয়েকদিন আগে ওই সাংবাদিক নেতার পুলিশের সাথে লোক ছাড়ানোর দালালী করে টাকা কামাইয়ের খবরও নজরে আসে। সব জায়গায় সংবাদকর্মীদের নানা কারণে বিভাজন প্রশাসনকে যেন অনৈতিক কর্মকান্ড তথা ঘুষ দুনীতিতে সহায়ক হয়ে পরেছে।
লেখার শেষ পর্যায়ে খবর পেলাম সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম জামিন পেয়েছেন। আরিফুল ইসলাম তার নির্যাতনের যে ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন তা ভয়ঙ্কর লোমহর্ষক। তিনি জানান আরডিসি নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আনসার দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকে ।এরপর আরডিসি তার মাথায় কিলঘুষি মারতে মারতে গাড়িতে তোলেন। গাড়িতে তোলার পর তার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলে এক কক্ষে নিয়ে জামা প্যান্ট খুলে উলঙ্গ করে বেদম মারপিট করে। এক সময় আরডিসি তাকে চিৎকার করে বলে তুই আমাদের খুব জ¦ালাছিস তোকে আজ এনকাউন্টার দিবো আরডিসি আরিফুলকে শেষ বারের মতো কলেমা পড়তে বললে সে প্রাণভিক্ষা চান । সাংবাদিক আরিফুলকে মারপিট শেষে নাটকীয়ভাবে রাত ২টায় মাদকের মামলা দিয়ে ১ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়ে জেলখানায় পাঠানো হয়। শুধু তাই নয় জেলখানাতে যাতে ১ মাস কেউ দেখা করতে না পারে ও তাকে যেন চিকিৎসা দেয়া না হয় তারও নির্দোশনা দেয়া হয়। রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়।

তার বিরদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্তও জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।এখানে আমার স্পষ্ট বক্তব্য জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিলেই তার সঠিক বিচার হবে বলে আমি মনে করি না। এ ন্যাক্কারজনক ধটনার জন্য জেলা প্রশাসকসহ দায়ি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক,জোরপুর্বক ঘরে প্রবেশ, ভাংচুর, অপহরণসহ মারপিটের মামলা দায়ের করে বিচারের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব রাষ্টকেই নিতে হবে। আর সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের ক্ষতিপুরণ রাষ্টকেই দিতে হবে। আর রাষ্ট্র যদি তা করতে ব্যর্থ হয় তবে সরকারি কর্মচারিরা কখনও রাষ্টের সেবাদাস তথা জনগনের সেবক হয়ে উঠবে না তারা হবে এক একজন জমিদার।এমুহুর্তে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ।তার আশু সুস্থতা কামনা করছি।