প্রধান মেনু

চলনবিলে অবৈধ সোঁতিবাঁধে মৎস্য নিধন ; প্রশাসনের হস্তক্ষেপেও মিলছে না প্রতিকার

পাবনার চাটমোহরে অবৈধ সোঁতিবাঁধে মৎস্য নিধনের মেতে উঠেছে মৎস্যখোকেরা। উপজেলার চিকনাইসহ চলনবিলের গুমানী নদীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অবৈধ সোঁতি বাঁধে মাছ শিকার করছেন। এ কারণে বিলের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হওয়ায় আগামী রবি মৌসুমে রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে বলে একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন। একই সাথে ধ্বংস করা হচ্ছে মৎস্য সম্পদ। চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের কাটা জোলা, গুমানী নদী সাওয়ালদহসহ বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা মাছ নিধনের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। তারা সোঁতি বাঁধ স্থাপন করে মাছ ধরার পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনে চরমভাবে বাধার সৃষ্টি করেছে। এতে করে আগামী রবিশস্য মৌসুমে আবাদ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। অবৈধ সোঁতি বাঁধ ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন হান্ডিয়ালের কাটা নদী, গুমানী নদীর সাওয়ালদহ, ধরমগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাবশালীরা বাঁশের বেড়া দিয়ে সোঁতি বাঁধ তৈরি করে মাছ নিধনের পাশাপাশি চলমান পানির গতিপথ রোধ করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ জনগন স্থানীয়ভাবে বাঁধ নির্মাণকারীদের নিষেধ করেও কোন সুরাহা হয়নি। সুবিধাবাদী চক্র অপতৎপরতা চালিয়ে সোঁতিবাঁধ স্থাপন করে লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকার মাছ। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এলাকাবাসী বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও অবৈধ সোঁতি বাঁধ কাটা হলেও দুই একদিন যেতেই তারা আবারও এ যজ্ঞে মেতে উঠেন। চলনবিল জীববৈচিত্র্য কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, বাঁশের বেড়া দিয়ে ও অবৈধ সোঁতিজালের ফাঁদ পেতে চলনবিল ও গুমানী নদী থেকে অবাধে মাছ শিকার চলছে।

এতে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, শামুকসহ নানা জলজ প্রাণী আটকা পড়ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। চলনবিলের মৎস্য সম্পদ রায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর একযোগে কাজ করতে হবে। একশ্রেণির রাঘব বোয়ালদের হাত থেকে মাছ রক্ষা করতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলনবিলের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন,নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম কামরুজ্জামান খোকন এই অবৈধ সোঁতী বাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত তাই প্রশাসনের এত তৎপরতার মাঝেও সোঁতী বাধে মাছ নিধনের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ বিষযয়ে নিমাইচড়া ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম কামরুজ্জামান খোকন বলেন,এলাকার শত মৎস্যজীবী মানুষ মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আমিতো তাদের বাধা দিতে পারিনা।

রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হওয়ার ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনী বলেন, বর্ষার পানি সময়মত নেমে না গেলে রবিশস্য চাষাবাদে কৃষককে বিরম্বনায় পড়তে হবে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, সোঁতি বাঁধ অপসারণে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, সোঁতিবাঁধ অপসারণে প্রশাসন ব্যাপক তৎপর। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।