প্রধান মেনু

চাটমোহরে হানাদার মুক্ত দিবস পালন

 মঙ্গলবার চাটমোহরে হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে চাটমোহর পৌরসদরের প্রধান প্রধান সড়কে র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ময়েজ এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার গাজী এস এম মোজাহারুল হক এর সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন চাটমোহর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন সাখো, বীরমুক্তিযোদ্ধা আজাহার আলী, গোলজার হোসেন, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রায় সারা দেশ মুক্তির স্বাদ পেলেও বিজয়ের চারদিন পরে ২০ ডিসেম্বর চাটমোহরে ওড়ে মুক্তির পতাকা। এই দিনে চাটমোহর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়।
সে সময়ের অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক ময়েজ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ মে হানাদাররা চাটমোহর দখল করে নেয়। তারা প্রাচীন এ জনপদটি আগুন দিয়ে ঝলসে দেয়। ব্যাংক লুট করে। ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ খাঁন ও ক্যশিয়ার শামসুল ইসলাম সহ দু’জন গার্ডকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর রঘুনাথ কুন্ড, অশ্বিনী কুন্ডু, যতীন কুন্ডু ও ঝরু ঠাকুরকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর গঠিত হয় শান্তি কমিটি। প্রায় সাড়ে সাত মাস চাটমোহর পাক হানাদারদের দখলে থাকে।
ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযোদ্ধারা চাটমোহর শহরকে ঘিরে ফেলেন। ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা প্রথম থানা আক্রমন করেন। কমান্ডার মোজাম্মেল হক ময়েজ, সহকারী কমান্ডার এসএম মোজাহারুল হক, ইদ্র্রিস আলী চঞ্চল, আমজাদ হোসেন লাল এর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের সাড়াশি আক্রমনের মুখে হানাদাররা থানায় আটকা পড়ে। ১৫ ডিসেম্বর রাতে এক আক্রমনে বেশ কয়েকজন পাক হানাদার নিহত হয়। পরদিন সকালে হানাদাররা সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা রামনগর গ্রামের দুই সহোদর মোসলেম ও তালেবকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে।
বর্তমান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এসএম মোজাহারুল হক জানান, ১৬ ডিসেম্বর অবস্থা বেগতিক বুঝে হানাদাররা থানায় সাদা পতাকা উড়িয়ে ফ্লাগ মিটিং এর আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় দুইদিন আক্রমন বন্ধ থাকে। ১৮ ডিসেম্বর হানাদারদের আহ্বানে সারা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা থানায় প্রবেশ করে আলোচনায় বসে। হানাদাররা মুক্তিবাহিনী নয়, মিত্রবাহিনীর কাছে আতœসমর্পনের শর্ত দেয়। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররা আক্রমন বন্ধ রেখে ২০ ডিসেম্বর পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বকুলকে মিত্রবাহিনীর পোষাক পরিয়ে নকল মিত্রবাহিনী সাজিয়ে চাটমোহরে নিয়ে আসেন। এদিন বেলা ২ টায় তার কাছেই হানাদার বাহিনী আতœসমর্পন করে।