প্রধান মেনু

চাটমোহর উদ্যোমী তিন যুবকের ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম

ব্যাটারিচালিত অটোবোরাকে একটি ব্যানার লাগানো, সেখানে লেখা স্লোগান ‘ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম। ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’। আর গাড়িতে আছে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ। ফোন কল পেলেই সেই গাড়ি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তিন বন্ধু। অর্থাৎ রোগীকে ডাক্তারের যেতে হচ্ছে না। বরং ফোন করলেই ডাক্তারই চলে যাচ্ছে বাড়িতে। ঘরে বসেই মিলছে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধ।

আর এভাবেই ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে অসুস্থ মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার উদ্যোমী তিন যুবক। করোনাভাইরাস আতঙ্কে যখন অনেক চিকিৎসক রোগীর কাছে যেতে ভয় পাচ্ছেন, ঠিক তখন হাতের কাছে এমন ব্যতিক্রমী সেবা পেয়ে খুশি এলাকাবাসীও।

উদ্যোমী তিন যুবক হলেন চাটমোহর উপজেলার হিয়ালদহ গ্রামের আরিফুল ইসলাম সৈকত, গুনাইগাছা নতুনপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন ও বেজপাড়া গ্রামের রাসেল পারভেজ। তারা রাজশাহীর উদয়ন মেডিকেল এসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল থেকে চার বছরের কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

আলাপকালে আরিফুল ইসলাম সৈকত জানান, তিন বন্ধু ভাবতে থাকেন, কীভাবে মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া যায়। সেই চিন্তা থেকেই সিদ্ধান্ত নেন, ফোন কলের মাধ্যমে বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিবেন তারা। আর নিজেদের সেই উদ্যোগের নাম দেন ‘আস্থা হেলথ সেবা ডটকম’। উপজেলার  গুনাইগাছা বাজারে একটি অফিস ভাড়া নেওয়া হয়েছে।  আর বাড়িতে বসে চিকিৎসাসেবা পেতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আরিফুল ইসলাম সৈকত ০১৭০৫-১০৫৯৯৮, রুহুল আমিন ০১৭৫৪-৬৩১৫০৩ ও রাসেল পারভেজ ০১৭৪৪-৮০৩৫৯০ এই নাম্বারগুলোতে ফোন করতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়।  এতে সাড়াও মিলছে মানুষের।

রাসেল পারভেজ জানান, গত দুই মাস আগে শুরু হয় তাদের উদ্যোগের বাস্তবায়ন। এর মধ্যে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এক সপ্তাহ আগে সেটিকে আরো জোরদার করা হয়। তাদের নির্ধারিত নাম্বারে ফোন দিলে সেই রোগীর বাড়িতে গিয়ে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ও ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন তারা। তাদের কাছে ওষুধও থাকছে, তবে সেই ওষুধ রোগী চাইলে টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারেন। এজন্য রোগী বা স্বজনকে হাটে-বাজারে ওষুধ কিনতে যেতে হচ্ছে না। অথবা পরে যেকোনো সময় ফোন দিলে বাড়িতে ওষুধ দিয়ে টাকা গ্রহণ করা হয়।

এভাবে গত এক সপ্তাহে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৭০ জন মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তারা।

তাদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে খুশি স্থানীয়রাও। উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের শুকুরভাঙ্গা গ্রামের হামেদা খাতুনের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, তার মায়ের ঠাণ্ডা লেগেছে ও প্রেসারের সমস্যা ছিল। তাদের মোবাইলে ফোন দিলে রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিয়ে গেছেন। এজন্য কোনো টাকা নেয়নি।

শালিখা গ্রামের আব্দুল গফুর জানান, তার মা হালিমা খাতুনের শ্বাসকষ্ট ও হার্টের সমস্যা ছিল। ফোন করার পর মেডিকেল টিম তাদের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র লিখে নিয়মকানুন বলে গেছেন। খুব ভাল কাজ করছে ছেলেরা।

সৈকত ও রাসেল জানান, তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা, ‘আস্থা হেলথ সেবা ডটকম’ নামে একটি অ্যাপস তৈরী করা হবে। সেখানে কেউ নক করে সমস্যা জানালে তার বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। বর্তমানে ফোন কলের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে এ কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়। এখন নিজেদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। যদি কারো সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে এই কাজকে আরো ভালভাবে করতে পারবেন তারা।