প্রধান মেনু

ছুটি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি, পর্যায়ক্রমে চলবে গণপরিবহন

করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চতুর্থ দফায় সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে আগামী ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি আট দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দেশব্যাপী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধে অধিকতর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল এবং ৩ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বর্ধিত ঘোষণা করা হলো। এর সাথে আগামী ১ ও ২ মে সাপ্তাহিক ছুটিও সংযুক্ত থাকবে।’ এ ছাড়া আগামী ৬ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমার সরকারি ছুটি রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
আট দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ খোলা থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে গণপরিবহন উম্মুক্ত করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা ও এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবে।

সড়ক ও নৌ পথে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত যানবাহন (ট্রাক, লরি, কার্গো, ভেসেল, প্রভৃতি) চলাচল অব্যাহত থাকবে। কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্প পণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ঔষধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী এবং ঔষধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যমে (ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া) নিয়োজিত কর্মীরা এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ঔষধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সব কলকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে শিল্প-কারখানা, কৃষি এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো ও গণপরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে।

এতে আরো বলা হয়, ছুটিকালীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ খোলা থাকবে।

এ ছাড়া জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

এর আগে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথম দফায় গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দ্বিতীয় দফায় তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এবং তৃতীয় দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

এদিকে, সাধারণ ছুটির মধ্যেই সীমিত আকারে খোলা রয়েছে ব্যাংকগুলো। পাশাপাশি, নিত্যপণ্য ও ওষুধসহ জরুরি সেবাগুলো খোলা রয়েছে।