প্রধান মেনু

জাপান প্রবাসীর স্ত্রী সন্তানকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে ছোট ভাই ইয়াকুবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুন্ডার ইয়াকুব আলী ওরফে ওদরী আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জাপান প্রবাসীর স্ত্রী সন্তান কে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের লক্ষে একের পর এক সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা মামলা করে শারিরীক মানষিক নির্যাতন করার লোম হর্ষক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে । গতকাল ২৯ আগস্ট সকাল ১০ টায় পাবনার একটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে এ সব অভিযোগ করেন ইয়াকুব আলীর বড় ভাই জাপান প্রবাসী ইউসুফ আলমের স্ত্রী শাহানাজ পারভীন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাড়ির কেয়ার টেকার তার আপন মামা শ্বশুড় আবু বক্কর মাস্টার, ভাগ্নী হেনা খাতুন, বড় ভাই তৈয়ব আলী এবং বড় বোন তাহমিনা আক্তার। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০০৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউসুফ আলীর সাথে তার বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তার দেবর ইয়াকুব আলী ওরফে ওদরী আলী বিভিন্ন ভাবে তার উপর শারিরীক, মানষিক এবং সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার কাজে লিপ্ত রয়েছেন। প্রবাসী ইউসুফ আলমের ক্রয়কৃত এবং পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ২.৭১ শতাংশ জমি আতœসাৎ করার হীন মানুষে তার ছোট ভাই ইয়াকুব আলী একের পর এক তার উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে উচ্ছেদ করার জন্য ইয়াকুব আলী নিজের স্ত্রী রেশমা খাতুন এবং শ্বশুড় মতি মন্ডলকে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন অপকর্ম করায়ে যাচ্ছে। জাপান প্রবাসী ইউসুফ আলম মোবাইলে জানান, ইয়াকুব তার ছোট ভাই। ইয়াকুবকে জাপানে আনার খরচও তিনি দিয়েছিলেন। সম্পত্তির লোভে সে অন্ধ হয়ে গেছে। আমার ( ইউসুফ আলম) সম্পত্তি দখলের হীন মানুষে ইয়াকুব তার স্ত্রী ও শ্বশুরকে দিয়ে বিভিন্ন ভাবে আমার স্ত্রী –সন্তানদের উপর শারিরীক,মানুষিক এমনকি সামাজিক ভাবে ক্ষতি করায় লিপ্ত আছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কেয়ার টেকার আবু বক্কর মাস্টার জানান, ২০১২ সালে ইয়াকুব আলী গুন্ডাবাহীনী দিয়ে উচ্ছেদের চেস্টা করে। এতে বাধা দেয়ায় তাকে মার ধর করে। এলাকার লোকজন এসে তাকে রক্ষা করে। এর পর তার বাড়ীর ওপর সন্ত্রাসীরা হামলা করে তার মাথায় রক্তাক্ত জখম করে । এ ঘটনায় সে ( আবু বক্কর) বাদী হয়ে মামলা করলে মামলায় বর্তমানে একজনের ৬ মাসের জেল হয়। পরে আতালত থেকে জামিন নেয়। মামলাটি চলছে। ইউসুফের ভাগ্নী হেনা খাতুন বলেন, আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে আমার মারা ইয়াকুব গং। শাহনাজ পারভীন আরও জানান, ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর আমার স্বামীর সকল সম্পত্তি আতœসাৎ করার জন্য আমার দেবর ইউনুস আলীর সহযোগিতায় ইয়াকুব আলী ওরফে ওদরী আলী ও তার স্ত্রী রেশমা খাতুন এবং তার শ্বশুর মতি মন্ডল, লতিফ বিশ্বাস, মৃত ছকির উদ্দিনের ছেলে টিটু গং জোড়পূর্বক দেড়শত টাকার সাদা স্ট্যাম্পে আমার স্বামীর স্বাক্ষর নেয়। যা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ২৫ ডিসেম্বর ২০০৯ উদ্ধার করা হয়। ইয়াকুব আলী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছে। জোড়পূর্বক আমার জায়গায় আমার বসত ঘরের সাথে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে আমার স্বামী একটি সিভিল মামলা করেছেন। যা নং ২২৩/১৩, যা বিজ্ঞ অদাালতে বিচারাধীন। বিল্ডিং তৈরীর সময়ে আমার পানির ট্যাংকির মধ্যে বালি মিশ্রিত সিমেন্ট ফেলানো , আমার একটি পোষা কুকুরকে পাখি মারা বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করা সহ এমন কোন খারাব কাজ নেই যে তারা করছেনা। তাদের ভয়ে আমার শিশু সন্তান বাড়ীর সামনে খেলতে পারেনা। বিভিন্ন সময়ে হয়রানী মূলক ১০/১২ টি মামলা করেছে ইয়াকুব গং। মামলার আসামী করা হয়েছে জাপান প্রবাসী ইউসুফ আলম, শাহনাজ পারভীন এবং বাসার কেয়ার টেকার আবু বক্কর মাষ্টার কে। মামলায় দাখিল করা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলা গুলোর অধিকাংশ খারিজ হয়ে গেছে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বিয়ের পর আমার বাড়ীর বিদ্যুৎ সংযোগ দুই বছর বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। বিনা কারনে কেন বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হলো তা জানতে গেলে চাটমোহর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম জানিয়েছিলেন ওপরের নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর পর বিদ্যুমন্ত্রণালয়ের স্মরণাপন্ন হলে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের আদেশে পুনরায় আমার বাড়ীর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়। যার পিছনের কলকাঠি নেড়েছিলেন আমার দেবর জাপান প্রবাসী ইয়াকুব আলী। তিনি আরও বলেন,আমার স্বামী জাপানে থাকেন, আমি ১ম শ্রেণির এবং নার্সারী শ্রেণির দু শিশু সন্তান নিয়ে স্বামীর অমৃতকুন্ডাস্থ পৈত্রিক ভিটাবাড়ীতে বসবাস করছি। এখান থেকে আমাকে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে আমার সন্তানদেরকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আমার বিরিুদ্ধে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে বদনাম করা হয়। যাতে আমি স্বামীর ভিটাবাড়ী ছেড়ে চলে যাই। আমার নিজের এবং সন্তানদের নিরাপত্তা চিন্তা করে বাড়ীর সামনে নিজেদের জায়গার উপর একটি গেট নির্মাণ করার জন্য গত ১৩ আগস্ট/২০ রাজমিস্ত্রী আনি। রাজমিস্ত্রীকে কাজ করতে নিষেধ করা হয়। যা চাটমোহর থানার একজন এসআই এবং ৩ জন কনস্টেবল বাধা দেন এবং কাজ করতে নিষেধ করেন। জমির কাগজ পত্র দেখায়ে পুলিশের কাছে কেন কাজ বন্ধ রাখব তা জানতে চাওয়ায় তারা জানান ওপরের নির্দেশ আছে । কাজ করা যাবে না। একই ঘটনা ঘটে এর আগের দিন ১৩ ডিসেম্বর পুকুরে মাছ ধরতে গেলে। প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে, রাজনৈতিক নেতাদেরকে ভুল বুঝিয়ে আমাদেরকে উচ্ছেদের সব অপচেস্টা করা হচ্ছে। এমনকি আমার স্বামীকে জাপান থেকে তাড়ানোর জন্য তারকোম্পানীতে আমার স্বামীর নামে ভূয়া খবর ছাপায়ে তাকে ওয়ান্টেড দেখায়ে দাখিল করেন উক্ত ইয়াকুব আলী। পরে সকল কাগজপত্র দেখানোর পর কোম্পানীতে পুনরায় বহাল করা হয় আমার স্বামীকে। আমি আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দেবর ইয়াকুব আলী গং এর সঠিক বিচার চাই। ইয়াকুব গং কর্তৃক দাখিল করা মামলা গুলো হলো ২৫/১২ ( চাট) ,৩৫০/ ১২, ৪৬৮/১২, ০২/১৪, ৩৫০/১২, ৩৩৭/১২, ৪৬৮/১২, ১০৮/১২, ১০৭/১২, ১২/১৪, ১৩৫/১৪, ১০৮/১২, ১০৭/১২ এবং ৪৯/১৫ ( চাট)।