প্রধান মেনু

ডেঙ্গু জ্বর: প্রতিরোধে করণীয়:

আমাদের মনে রাখতে হবে এডিস মশা মূলত দিনের বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়,
দিনের বেলা যথাসম্ভব শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখতে হবে, মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য দিনে ও রাত্রে মশারি ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে ঘরের দরজা ও জানালায় নেট লাগানো যেতে পারে।
প্রয়োজনে মসকুইটো রিপেলন্ট স্প্রে, লোশন বা ক্রিম, কয়েল, ম্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে।
বাচ্চাদের হাফ প্যান্টের পরিবর্তে ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরাতে হবে।
বসতবাড়ির মশা নিধন
যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমা হয়ে থাকে, তাই সবার আগে ঘরে সাজানো ফুলদানি, অব্যবহূত কৌটা, বাড়িঘরে এবং বাড়ির আশপাশে যেকোনো পাত্র বা জায়গায় জমে থাকা পানি ৩ থেকে ৫ দিন পরপর ফেলে দিলে এডিস মশার লার্ভা মারা যায়। পাত্রের গায়ে লেগে থাকা মশার ডিম অপসারণে পাত্রটি ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ঘরের বাথরুমে কোথাও জমানো পানি ৫ দিনের বেশি যেন না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ঘরের এ্যাকুরিয়াম, ফ্রিজ বা এয়ার কন্ডিশনারের নিচে এবং মুখ খোলা পানির ট্যাংকে যেন পানি জমে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে। বাড়ির ছাদে অনেকেই বাগান করে থাকেন। সেখানে টবে বা পাত্রে যেন কোনো ধরণের পানি ৫ দিনের বেশি জমে না থাকে সেদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বাড়ির আশ-পাশে ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বসতবাড়ির বাইরে মশার বংশ বিস্তার রোধে করণীয়
এই কাজগুলোর দায়িত্ব বর্তায় প্রশাসনের নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের উপর। যেমন—
lঘরের বাইরে মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি জমতে পারে। যেমন—ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, টিনের কৌটা, ডাবের পরিত্যক্ত খোসা, কন্টেইনার, মটকা, ব্যাটারির শেল, পলিথিন/চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি। এসব জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে।
সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মশা নিধনের জন্য স্প্রে বা ফগিং করতে হবে। বিভিন্ন রাস্তার আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুলের টব, গাছপালা, জলাধার ইত্যাদি দেখা যায়। এখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলোতেও যেনো পানি জমে না থাকে সে ব্যপারে যত্নবান হতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ডেঙ্গু জ্বর হয়তো বা নির্মূল করা যাবে না। এর কোনো ভ্যাক্সিন কিংবা কার্যকরী ওষুধও আবিষ্কৃত হয়নি। ডেঙ্গু জ্বরের মশাটি আমাদের দেশে আগেও ছিল, এখনো আছে, মশা প্রজননের এবং বংশবৃদ্ধির পরিবেশও আছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর ভবিষ্যতেও থাকবে। একমাত্র জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে মুক্তি সম্ভব।
লেখক: সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান
মেডিসিন অনুষদ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা