প্রধান মেনু

ঢাকাসহ আশে পাশের ফেরত লোকজন ভাঙ্গুড়ায় আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় দুজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গুড়া উপজেলার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। এর ওপর সোমবার ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে ২৬ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভাঙ্গুড়ায় ফিরেছেন। উপজেলা প্রশাসন সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রচণ্ড আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানায়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে গত কয়েক দিনে কয়েক শ মানুষ ভাঙ্গুড়া এসেছে। তবে সোমবার একদিনে বিভিন্নভাবে আরো ২৬ জন নারী-পুরুষ ভাঙ্গুড়ায় প্রবেশ করে। এদের মধ্যে পাঁচজন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় তাদের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা।
নমুনা সংগৃহীত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা ফলাফল না আসা পর্যন্ত দেখভাল করবেন বলে জানায় উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। আগত ২৬ জন আগামী ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। এ নিয়ে বর্তমানে ভাঙ্গুড়ায় কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৪৫ জন। এরা সকলেই ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকা থেকে ভাঙ্গুড়া ফিরেছে।

এদিকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে ফেরত আসা মানুষদের নিয়ে গ্রামের মানুষ চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই কোয়ারেন্টিনে থেকেও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন। এনিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত হচ্ছেন তারা।
সম্প্রতি গাজীপুর থেকে আকলিমা ও হাসান দম্পতি উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বাগুয়ান গ্রামে নিজের বাড়িতে আসেন। সে সময় এলাকাবাসী তাদেরকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বললে ওই ব্যক্তি সপরিবারে পার্শ্ববর্তী খানমরিচ ইউনিয়নের পূর্ব রামনগর গ্রামের শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। সেখানে গিয়েও কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো পালন না করায় স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

পূর্ব রামনগর গ্রামের মুন্নাফ আলী বলেন, বাইরে থেকে আগত কোনো ব্যক্তি ঠিকমতো কোয়ারেন্টিন পালন করে না। পরামর্শ দিতে গেলে উল্টো ঝগড়াঝাঁটি শুরু করে দেয়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে তবেই নিয়ম মানতে শুরু করে।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বলেন, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের সব সময় খোঁজ-খবর নিচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। কারো শারীরিক অসুস্থতা দেখা গেলেই তার নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া থানা প্রশাসনের সদস্যরা প্রতিনিয়ত কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি করছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, এখন যারা ফিরছেন তারা বেশির ভাগই গরিব বা শ্রমজীবী মানুষ। তাদের বাড়িতে ঘরই একটা। তাই তাদের কয়েকটি স্কুলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদেরকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়াসহ খাবারের ব্যবস্থা সরকারিভাবে করা হচ্ছে।