প্রধান মেনু

তাড়াশে বিপনীবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ

সোহেল রানা সোহাগ:
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিপনীবিতানগুলোতে উপচে পড়া ভিড়। সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউই। করোনা-সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষে-মানুষে ‘সামাজিক দূরত্ব’ (তিন ফুট দূরত্ব) বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু এ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও হাট-বাজারে সেই ‘সামাজিক দূরত্ব’ অনেকেই মানছেন না। হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রায়ই একে অন্যের গা-ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার রক্ষা করছে না কেউই। এর ফলে করোনা-সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের চায়ের দোকানে আগের মতই মানুষের আড্ডা চোখে পড়ছে। প্রশাসনের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছে না কেউ। তাড়াশ উপজেলা সদর বাজারে দেখা গেছে, গার্মেন্ট এর দোকান, বিপনিবিতানগুলোতে ক্রেতারা ভিড় করছেন। তাদের মাঝখানে ১০ ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা নেই। অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেননি। হাতে নেই গ্লাভস । দোকানি ও ক্রেতার মাঝখানেও তেমন দূরত্ব রক্ষা করা হয়নি।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জানেন। কিন্তু কেনাকাটা করতে এসে পরিস্থিতির কারণে ঠিকমতো সেই দূরত্ব রক্ষা করতে পারেন না বলে দাবি তাদের। আর বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলেও তারা কেউ শুনছেনই না।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অবস্থিত চায়ের দোকানগুলো এখনো খোলা রয়েছে। তারা আগের মত দিব্যি বেচাকেনা করছে। ‘বাজারে যেভাবে ভিড়ের কারণে সামাজিক দূরত্ব লঙ্ঘিত হয়, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জামাল মিয়া শোভন বলেন, করোনা একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষে সর্বনিম্ন ফুট ও সর্বোচ্চ ৬ ফুট পর্যন্ত দূরত্বে ছড়াতে পারে। তাই মানুষে-মানুষে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।’ যারা শিক্ষিত মানুষ ঠিক তাড়াই সরকারী বিধিনিষেদ মানছেন। আর অশিক্ষীত মানুষেরা সামজিক দুরুত্ব বা স্বাস্থ্য বার্তা মানছে না।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বার বার অভিযান চালিয়ে মানুষ কে সচেতন করার চেষ্টা করছি। আজও তাড়াশ বাজারে অভিযান চালিয়ে ৫ দোকানী কে সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে দোকান খোলা রাখায় ও ৬ জন ক্রেতা কে মুখে মাস্ক না থাকায় অর্থ দন্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই ভ্রাম্যমান আদালত চালিয়ে জরিমানা করা ও সচেতন করা হচ্ছে।