প্রধান মেনু

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ধামাচাপার চেষ্টা ভাঙ্গুড়ার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার!

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।তবে উপজেলার দিলপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ প্রণো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৩৩)। তিনি উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। তবে অভিযুক্ত প্রভাবশালী হওয়ায় নির্যাতিতার পরিবার পুলিশে অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার দিন দুপুরে অভিযুক্ত রফিকুল হালখাতার চিঠি দিতে নির্যাতিতার বাড়িতে আসেন।এ সময় ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে একা ছিলেন।সুযোগ পেয়ে রফিকুল ঘরে গিয়ে তাকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

পরে ওই শিক্ষার্থীর কান্না থামাতে তার হাতে ২০ টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না বলতে শাসিয়ে যায়। কিন্তু নির্যাতিতার মা বাড়ি আসলে তার এমন বিধ্বস্ত চেহারা ও কান্নার কারণ জানতে চাইলে-সে সব খুলে বলে। এরপরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে যায়।

তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা অশোক কুমার ঘোষ প্রণো দুই পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ডেকে নেন। সেখানে তার নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন, গ্রামের মাতবর আবু বক্কর খাঁন ও আবুল প্রামাণিক মিলে রফিকুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার টাকা নিয়ে বিষয়টি মিমাংসা না করায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা জোর করে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এজন্য তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে দিলাপাশার ইউপি চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঘোষ প্রণো বলেন, অভিযুক্ত রফিকুল মেয়েটিকে শ্লীলতাহানি করেছে মর্মে স্বীকার করেছে।

তবে জরিমানার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, উভয় পরিবার নিজেরাই ইউনিয়ন পরিষদে এসছিল। তাই ঘটনার বিষয়ে শুনানি করেছি। তবে তিনি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, এই বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যাথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।