প্রধান মেনু

নাটোরে ব্যবসায়ী ছালাম হত্যাচেষ্টার এক মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি প্রধান আসামী

নাটোর প্রতিনিধি- নাটোরে আলোচিত রিলাক্স ল্যাবরেটারিজের বিক্রয় প্রতিনিধি ও মুদি ব্যবসায়ী আব্দুস সালামকে হত্যাচেষ্টার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এই ঘটনার মূল আসামি রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত ২৯ আগষ্ট রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যাচেষ্টা করা হয় ।এদিন সন্ধ্যায় মসজিদ মার্কেটের”বর্ষা টেলিকম”নামের প্রতিষ্টানের মালিক জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বন্ধু আব্দুস সালামকে ডেকে নিয়ে চপ্পল দিয়ে গলা লক্ষ্য করে কোপ দেয় । অল্পের জন্য লক্ষ্যভুষ্ট হয়ে চোয়ালে আঘাত করে গলার গভীর ক্ষত হয় । কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে অবস্থিত মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী নিজের ব্যবসা প্রতিষ্টানে প্রকাশ্যে এই ঘটনা ঘটানোর জন্য শহরজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে ।
প্রত্যক্ষদর্শীর ও পরিবারের সদস্যরা জানান,২৯ আগষ্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুস সালাম মসজিদ মার্কেটের বর্ষা মোবাইল সেন্টারে বসে কথা বলছিলেন জহুরুলের সাথে।এসময় মাস্কপড়া অজ্ঞাত ২ যুবক সেখানে যায়।এক পর্যায়ে সেখানে তর্ক-বিতর্ক ও জটলা তৈরী হয়।এ সময়ে কেউ আব্দুস সালামকে কুপিয়ে জখম করে।পরে রক্তাক্ত আব্দুস সালাম মার্কেটের ভেতর থেকে বের হয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।সদর হাসপাতালে আব্দুস সালামের অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে সেদিন রাতেই নাটোর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও অপরাধিদের আটকে অভিযান শুরু করে বলে জানান ইন্সপেক্টর তদন্ত আব্দুল মতিন। ঘটনার পরের দিনই আব্দুস সালামের স্ত্রী দ্বীণ তানিয়া আফরোজ শবনম বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় জহুরুল কে প্রধান আসামী এবং অঞ্জত আরোও দুই জনকে আসামী করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন । মামলা দায়েরের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ একজন আসামীকেই গ্রেফতার করতে পারেনি । এদিকে ১৬ দিন রামেক হাসপাতালে যমে মানুষে লড়াই করে কোনমতে জীবন নিয়ে ফিরেছে সালাম ।
এ মামলার বাদী শবনম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন-গত এক মাসেই আমার স্বামীর হত্যাচেষ্টার প্রধান আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি । আসামি ধরার তাগিদ দিলে উল্টো তিনি আমাদেরকেই আসামি ধরিয়ে দিতে বলছেন। তিনি নাটোরের পুলিশ সুপারের কাছে তার স্বামীর হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুব্রত কুমার মাহাতো বাদীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আসামিদের গ্রেফতারের সর্বাÍক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।