প্রধান মেনু

নাটোরে মামলায় অভিযুক্ত না হলেও কারাভোগকারী বাবলু শেখের মুক্তি, দায়ী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

নাটোর প্রতিনিধি
মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশ আর আইনজীবীর ভুলে আসামি হয়ে দুইমাস কারাভোগ করাসহ ১৮ বছর পরে আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ। একই সাথে তৎকালিন মামলার তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা ও ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশও বাবলু শেখকে ক্ষতি পূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন দিয়েছেন আদালত। আজ দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিক জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
নাটোর জজ কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম ও আদালতের নথিপত্র ও বাদীর আইনজীবী সুত্রে সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় ১৮/০৪/২০০১ তারিেেখ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৪। এদের মধ্যে সিংড়া উপজেলার আচল কোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে শ্রী বাবুকে ৩নম্বর আসামী করা হয়।
তৎকালীন নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে ১৫/০৫/২০০১ তারিখে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮শে ডিসেম্বর পুনরায় শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে সদর থানার উপ-পরিদর্শক হেলেনা পারভীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার না করে ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এই ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয় দিন পর ১৩ নভেম্বর আসামির আইনজীবী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান। পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি ১৬/০৮/১৬ তারিখে আপিলের মাধ্যমে জামিনে বের হন।এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপীল করা হলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য প্রেরিত হয়। মামরার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলামও এসআই হেলেনা পরভীনের সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেম প্রদাণ করেন। পর্যবেক্ষণে মামরার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)ও বিরুদ্ধে দায়ত্ব অবহেলা প্রমানতি হয়। মামলায় আরো বলা হয় বাবলু শেখের সাজা ভোগের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকবাবে দায়িত্ব পালন করেন নি। এবিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য অত্র রায়ের কপি বার কাউন্সিলের সভাপতি সেক্রেটারী বরাবর প্রেরনেল নির্দেশ দেয়া হলো।