প্রধান মেনু

নানা অব্যবস্থাপনায় চাটমোহরে হাটের সেই পুরনো জৌলুস আর নেই

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এবং গ্রামের মানুষের ফসলী জমিতে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের প্রধান মাধ্যম হাটের সেই পুরনো জৌলুস আর নেই। গ্রাম-গঞ্জের মধ্যে ছোট ছোট বাজার ও হাটে যাওয়া আসার রাস্তাগুলোর দূরাবস্থা, হাটে আগত মানুষের নিরাপত্তার অভাবসহ হাট ইজারাদারদের লাগামহীন খাজনা আদায় হাটের এমন করুণ অবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে মনে করছেন সবাই।

পাবনার চাটমোহর (অমৃতকুন্ডা) হাট জেলার মধ্যে অন্যতম ও ঐতিহ্যগত ভাবে শত বছরের পুরাতন একটি হাট। এ হাটে কাঁচা সবজি থেকে শুরু করে গরু-মহিষসহ সব ধরনের পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। সপ্তাহের একদিন রবিবার ভোর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর সারাদিনব্যাপী বেচা-কেনা। কাগজে-কলমে এই হাটের পরিধি ৫ একর ৩০ শতক দেখানো হলেও অবৈধ দখল আর উপজেলা প্রশাসনের জায়গা লিজ দিয়ে দোকান বরাদ্দ দেয়ায় ক্রমশ হাটের জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে।

প্রায় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব দিয়ে হাটটি ইজারা গ্রহণ করা হলেও হাটের জায়গার সংকীর্ণতা ও দখলদারদের ক্রমশ দখলদারিত্বে আকার অনেকটা ছোট হয়ে গেছে। এছাড়া হাটের সমস্ত এলাকাজুড়েই সংস্কারের অভাবে ও অবস্থাপনায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই।

কিন্তু এই হাটে এক যুগ আগেও ক্রেতা বিক্রেতাদের আগমনে থই থই করতো মানুষ। সপ্তাহের রবিবার হাটের দিনে আশপাশের ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকেও হাটে আগত মানুষের কোলাহল শোনা যেতো। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই হাটকে কেন্দ্র করে সকল কর্মব্যস্ততা ফেলে এদিন ব্যবসায়ীক কাজে নিয়জিত হয়ে উবৃত্ত টাকা উপার্জন করতে দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে নানা প্রতিকূলতায় আজকের এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি ক্রমশ স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এখন হাটে নেই আর সেই আগের মত মানুষের পদচারনা, নেই হাটের সেই জৌলুস।

হাটে আগত জগতলা গ্রামের আশরাফ আলী জানান, আগের সেই জমজমাট রেলবাজারের হাট আর নেই। ছোটবেলায় বাবা যখন হাটে আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন, সে সময় তার সাথে হাটে আসার জন্য কান্নাকাটি করতাম। বাবা বাধ্য হয়ে আমাকে হাটে নিয়ে আসতেন। হাটে আসার পরে একটিবারের জন্যও তিনি চোখের আড়াল করতেন না। কারণ এতো ভীড়ের মধ্যে যেন হারিয়ে না যাই। আর এখন হাটের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, ভেতরে ফুটবল খেলা যায়।

হাটের এমন দূরাবস্থার নিয়ে হাট ব্যবসায়ীরা জানান, আজকাল গ্রামগঞ্জের মধ্যেও ছোট ছোট বাজার গড়ে উঠছে। ফলে বড় হাটের প্রয়োজনও ফুরিয়ে যাচ্ছে। আর হাটে আসার রাস্তা যদি চলাচলের অযোগ্য হয়, তাহলে তো কথাই নেই। হাটের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমানে হাটের যে অবস্থা তাতে ব্যবসায়ীরা এখানে আসা পুরপুরি বন্ধ করে দেবে। আবার গ্রামে উৎপাদিত ফসল কৃষক সরাসরি শহরের মিল কিংবা বড় ব্যবসায়ীদের আড়তে গিয়ে বিক্রি করছেন। সবমিলিয়ে এখন হাট ছাড়া কেনা-বেচা হয় না এমন পণ্য নিয়ে কিংবা খোঁজেই কেবল হাটে আসছে মানুষ।