প্রধান মেনু

নারীরা যেভাবে তারাবির নামাজ আদায় করবে

পুরুষদের মতো নারীদের জন্যও তারাবি সুন্নতে মুয়াক্কাদা। তবে তাদের জন্য ম’সজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে খতম বা সুরা তারাবি পড়া আবশ্যক নয়। বরং তারা ঘরে একা নামাজ পড়লে অধিক সওয়াব পাবে। তাই তাদের জন্য ম’সজিদে না গিয়ে ঘরেই তারাবি আদায় করে নেওয়া উত্তম। ঘরে নারীরা মিলে জামাত করা মাকরুহে তাহরিমি। (ফাতাওয়ায়ে ফকী’হুল মিল্লাত : ৫/৩৬)

শোনা যায় বর্তমানে অনেক বাসায় নারীদের জন্য আলাদা একজন হাফেজ ঠিক করা হয়, যিনি বাসায় গিয়ে তাদের জামাতে তারাবি পড়ান। রমজান মাসের জন্য ঘরে আলাদা হাফেজ রেখে নারীদের পুরুষ ই’মামের পেছনে জামাত করার প্রতিও উৎসাহিত করা হয়নি।

বিভিন্ন ফতোয়ার কিতাবে এই কাজকে মাকরুহে তাহরিমি বলা হলেও তারা যদি পুরুষ ই’মামের পেছনে নামাজ পড়ে, তাহলে ওই নামাজ শুদ্ধ হবে। তবে এ ক্ষেত্রে নারীদের পর্দার বিধান যাতে লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। (তাবঈনুল হাকায়েক : ১/১৩৫, ফাতাওয়া দারুল উলুম : ৩/৪৩)।

তাই রমজান মাস এলে নারীদের জামাতে নামাজ পড়ানোর জন্য কোনো পরপুরুষ হাফেজকে ই’মাম হিসেবে ঠিক করা যাবে না।

তবে কোনো পুরুষ শরিয়ত অনুমোদিত কোনো কারণে ম’সজিদে যেতে না পেরে যদি সে ঘরের মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে তারাবি পড়তে পারে, এ ক্ষেত্রে সবাই জামাতের সওয়াব পাবে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি।

তা সত্ত্বেও মাহরাম নারীদের পাশাপাশি গায়রে মাহরাম নারীরা তাতে শরিক হতে চাইলে অবশ্যই পর্দার আড়ালে থাকবে। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে জামাত করা বৈধ নয়। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২২৮, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল : ২/২২৭)।

এখন যেহেতু করো’নাভাই’রাসের কারণে ম’সজিদে মু’সল্লি সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, তাই ঘরে স্বামী ও সন্তানরা জামাত করে নামাজ পড়লে নারীরাও তাদের সঙ্গে জামাতে নামাজ পড়তে পারবে। অনেক পরিবারেই এখন এভাবে জামাত করে নামাজ পড়া হচ্ছে। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় পুরুষদের ম’সজিদে গিয়েই জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে হবে। এবং নারীরা ঘরে একাকী’।

মহান আল্লাহ সব নারীকে মহান আল্লাহর বিধানগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন।