প্রধান মেনু

মানবিক কারনে টাকার জন্য, ক্লিনিকে সিজার ।

পাবনার বেড়ার অনুমোদনহীন দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে সিজার করতে গিয়ে প্রসুতির মৃত্যু।

মোবারক বিশ্বাস, পাবনা ঃ নিজের কর্মস্থল বেড়া সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে সিজার না করে মানবিক কারনে একটি অবৈধ
ক্লিনিকে সিজার করেছে ডাঃ শারমিন সুলতানা। পাবনার বেড়া উপজেলার দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে
সিজার করতে গিয়ে সাথি খাতুন (২২) নামে এক রুগীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সাথি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার
চৌহানী গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রোগীর স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রী
সন্তান সম্ভাবা হওয়ায় বেড়ার দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকে ভর্তি করি। ক্লিনিকের মালিক মিসাইল বলেন
আপনার স্ত্রীর দ্রুত সিজার করতে হবে। তা না হলে মা ও সন্তানকে বাঁচানো যাবে না। আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানের কথা ভেবে সিজার করাতে রাজি হয়। সিজার করার পর আমার স্ত্রী’র অবস্থা খারাপ হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সরকারী বা এনায়েতপুর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে এনায়েতপুর নেওয়ার পর মারা যায়।
এ দিকে ডাঃ শারমীন সুলতানা বলেন, সিজার করার পর রক্তের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। রোগীর স্বজনরা রক্ত ম্যানেজ করতে না পারায়
আমরা এনায়েতপুর হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করি।
আপনি সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হয়ে কেন অনুমোদনহীন ক্লিনিকে সিজার করলেন, জানতে চাইলে ডাঃ শারমিন সুলতানা বলেন, মানবিক কারনে আমি সিজার করেছি।
সিজার না করলে মা এবং সন্তান দু’জনই মারা যেত। মানবিক কারনে সিজারটি তো আপনি আপনার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করতে পারতেন। তা না করে অনুমোদনহীন ক্লিনিকে করলেন কেন।
এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাবনা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আনান সাহেবের এটা ক্লিনিক। তার অনুরোধে আমি সিজার করেছি। এদিকে এনেসথেসিয়ার ডাক্তার খ.ম ইসমাইল হোসেন শাওন বলেন ম্যাডাম আমাকে অনুরোধ করায় আমি সেখানে গিয়ে এনেসথেসিয়া করেছি। এনেসথেসিয়ার উপর
আপনার কোন ডিগ্রি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭দিনের একটি কোর্স
করা আছে।
এদিকে পাবনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মেহেদী ইকবাল জানালেন, অনুমতি না নিয়ে কেউ কোন ক্লিনিক বা হাসপাতাল
পরিচালনা করতে পারবে না। অপরদিকে বেড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সরদার মোহাম্মদ মিলন মাহমুদ জানান,
দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড কিøনিকের কোন অনুমোদন নেই। তবে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন রয়েছে।
অনুমোদনহীন ক্লিনিক কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে রুগী ভর্তি বা অপারশেন করা হয়, তা
আমি জানতাম না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পরে তিনি এ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, ক্লিনিকের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নিতে আমি বেড়া ইউএনও সাহেবকে অনুরোধ করেছি।
কিন্তু তিনি আমার অনুরোধে সাড়া দেননি। প্রশাসন ছাড়া আমি কিভাবে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব। এদিকে ডাঃ আনানের কাছে জানতে চাওয়া হয় ওই ক্লিনিকটির মালিক কি
তিনি ? তিনি বলেন ক্লিনিকের শেয়ার আছে আমার এবং আমি সেখানে প্র্যাকটিস করি। তিনি এও জানান, আবেদনের অনুমতি
চেয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করা যাবে। তিনি আরো জানান, ঢাকায় যারা ক্লিনিকের অনুমোদন দেন তারা তার নিজস্ব লোক।
অত্রএব এ বিষয়ে কোন সমস্যা হবে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সরদার মোহাম্মদ মিলন মাহমুদের কথার
সত্যতা জানতে বেড়া উপজেলার ইউএনও মোঃ আসিফ আনামের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
বর্তমান করোনার পরিস্থিতিতে ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নিউজ না করতে বেড়া উপজেলা বে-সরকারী হাসপাতাল এবং ক্লিনিক
সমিতির সাংগাঠনিক সম্পাদক ও আরাবী জেনারেল হাসপাতালের মালিক মো: কামরুল হাসান লিটন এই প্রতিবেদককে মোবাইলে
নিউজ না করে চা চক্রের দাওয়াত দেন। তবে একটি বিশ্বস্থ্য সুত্র বলছে, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে ক্লিনিকের মালিক মিসাইল
নিহতের স্বামী জহুরুলের সাথে টাকার বিনিময়ে আপোষ করে নিয়েছে। এ জন্য নিহতের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করবে না বলে প্রচার করছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আরো জানা যায়,
ক্লিনিকটি গত দেড় বছর যাবত অবৈধভাবে রোগী ভর্তি ও অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসলেও অজ্ঞাত কারনে এর
বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ। সবশেষ শুক্রবার সন্ধা খবর লেখা পর্যন্ত শিশুটি জীবিত রয়েছে।