প্রধান মেনু

পাবনায় ইছামতী নদীর উৎস মুখে উচ্ছেদ অভিযান নিজ নিজ ঘরবাড়ী সরিয়ে নেওয়া শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদীর উৎস মুখে অবৈধভাবে বসবাসরত জনগন নিজ নিজ ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড পাবনা থেকে তাদেরকে সরিয়ে যাওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়ায় তারা নিজ নিজ ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। জনৈক ব্যক্তি জানান, পাবনার ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী প্রবাহমান হলে পাবনা শহরের পরিবেশ সুন্দর হবে। পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সফল হবে। পাবনার সুনাম দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব নদ-নদী, খাল বিল পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। গত মঙ্গলবার পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ স্বশরীরে ইছামতি নদীর উৎস মুখে যান এবং নদীর দু‘ধারে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের দ্রুত নিজ নিজ বাড়ী ঘর সরিয়ে নেওয়ার নিদের্শ দেন। এ নিদের্শ পাওয়ার পর এলাকাবাসী নিজ নিজ বাড়ী ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। গতকাল সকাল ৮ টার দিকে ঘটনাস্থল চর শিবরামপুর স্লুইস গেট এলাকা পরিদর্শন করেন ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোল পাবনার,নেতৃবৃন্দ। তারা স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেন। স্থানীয় জনগন নেতৃবৃন্দকে বলেন বৃহৎস্বার্থে তারা ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগে প্রস্তুত। তারা আশা করেন শহরের মধ্যে ইছামতি নদীর দু‘পাড়ে যারা দখল করে আছেন তারা নিজ নিজ উদ্যোগে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিবেন। উল্লেখ্য গত সোমবার এবং মঙ্গলবার দু‘দিন সদর উপজেলার চর শিবরামপুর স্লুইস গেট এলাকায় নদীর উৎস মুখে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময় জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথ অভিযান চালিয়ে ইছামতি নদীর মুখে স্থাপিত অবৈধ ইটভাটা ও পাকা ভবন ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মোখলেছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল ইসলাম, উপস্থিত থেকে এ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশে সকল নদী সচল করার চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলছে। পাবনাতেও ইছামতি নদী উদ্ধারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। আপাতত নদীর উৎস মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সকল স্থাপনা অপসারণ করা হচ্ছে। ধারাবাহিক ভাবে নদী দুপাড়ের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। এ সময় ইট ভাটা, নদীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কারী রাস্তা, বাঁধ ও দালান এক্সকেভটরের সাহায্যে গুড়িয়ে দেয় প্রশাসন।
উল্লেখ্য, পাবনা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত ইছামতি নদী দখল দূষণে পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে। ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটির অধিকাংশ জায়গা এখন প্রভাবশালীদের দখলে। দীর্ঘ দিন ধরে এ জেলার মানুষ নদীটি দখলমুক্ত করে খননের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। নবাগত জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ কে ইছামতি নদী উদ্ধারে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ইছামতি নদী উদ্ধার আন্দোলন তথা পাবনাবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।