প্রধান মেনু

পাবনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৮ জন

পাবনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ১০ দিনে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে নিবির পর্যবেক্ষেণে রয়েছেন ১২ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের হাসপাতালের বেডে মশারী টানিয়ে আলাদা করে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগ রোগী ঢাকা থেকে ডেঙ্গু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

তবে আশ্চর্যজনক বিষয় এই যে, দুইজন এমন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে যারা এক বছরের মধ্যে ঢাকা যায়নি। এরা হলেন, পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের জাকির হোসেন (১৫) ও চরঘোষপুর এলাকার মোঃ মিজান প্রামানিক (২৫)। নতুন করে দুইজন আক্রান্ত হওয়ায় আতংক দেখা দিয়েছে মানুষজনের মধ্যে। হাসপাতালে আসা রোগীর অভিভাকরা জানান, প্যারাসিটামল আর স্যালাইন বাদে বাকী ঔষধ বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাবনাতে এসে হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করছে পাবনা খয়েরসূতী এলাকার মোঃ আরিফুল ইসলাম (৪০)। তিনি যাত্রাবাড়ি এলাকাতে থাকতেন, পাবনা চাটমোহর এলাকার অন্তর আলী (১৮) তিনি ঢাকা ফার্মগেট এলাকায় থাকতেন, ফরিদপুর উপজেলার মোঃ শরিফুল ইসলাম (২৬) তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জসিমউদ্দিন হলে থাকতেন, ঈশ^রদী উপজেলার মোঃ ফরিদ আলী (৩০) তিনি ঢাকার কাঠাল বাগান এলাকায় থাকতেন, শালগাড়িয়া এলাকার ইমন শেখ (২২) তেঁজগাও এলাকায় থাকতেন, দোগাছি এলাকার আরিফ শেখ (২৮) তিনি মিরপুর এলাকায় থাকতেন,সাথিয়া করমজা এলাকার মোঃ আজিজুল হক (২০) তিনি আগারগাও এলাকায় থাকতেন, টেবুনিয়া এলাকার আনোয়ার হোসেন নিশান (১৯) তিনি ধানমন্ডি এলাকায় থাকতেন, আতাইকুলা এলাকার মোঃ শহিদুল (২৯) তিনি মহাখালী এলাকায় থাকতেন, পাবনা বাংলাবাজার এলাকার শেখ শাহনেওয়াজ জনি (২৫) মিরপুর এলাকায় থাকতেন। এরা প্রত্যেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পরীক্ষা করে নিজ এলাকায় চলে এসে অবস্থার অবনতি হলে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।
২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু রোগ অন্যান্য জ্বরের মতই।

তিনি সাধারন মানুষদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। নিজ বাড়ির আশে পাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ পরিবারের সদস্যদের মশারি টানিয়ে শোবার পরামর্শ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি স্বাভাবিকের চাইতে গায়ের তাপমাত্রা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রাথমিক পর্যায়ে গায়ে জ¦র অনুভব হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া পর্যপ্ত পরিমান পানিপানসহ স্বাভাবিক সকল ধরনের খাবার ও তরল খাওয়ার গ্রহনের পরামর্শ প্রদান করেন তিনি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রঞ্জন কুমার দত্ত জানান, আমরা ইতোমধ্যেই একটি হেল্প ডেষ্ট খুলেছি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুরোধ করেছি’।

পাবনা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. বিএম শাফিকুল হাসান জুয়েল বলেছেন, “আমার ব্যাক্তিগত চেম্বারের রোগীদের মধ্যে প্রতিদিনই ২/১ জন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী আসছেন। আমি গত ৫ দিনে অন্তত ১৪ জনকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা দিয়েছি। তবে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি তারা সবাই ঢাকা থেকে রোগটি বহন করে এনেছেন”।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মির্জা মেহেদী ইকবাল এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, আমরা পাবনা শহরের মশা পরীক্ষার জন্য পরিকল্পনা করেছি। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চিঠি পাঠিয়েছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও নির্দেশনা পেলে মশা পরীক্ষা ও মশা নিধনের ব্যাপারে কাজ শুরু করা হবে।