প্রধান মেনু

পাবনায় ধর্ষকের সঙ্গে থানায় বিয়ে ; ওসি প্রত্যাহার ও এসআই বরখাস্ত

পাবনায় গৃহবধুকে ধর্ষণের পর থানায় ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্থ করা হয়েছে। আজ ১২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সুপার বলেন, থানা কম্পাউন্ডে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসি ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। সেইসাথে কাজী ডেকে থানায় বিয়ে দেয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকায় এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরো দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে আলী হোসেন ও সঞ্জু হোসেন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে ৫ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হলো। উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধুর সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সর্ম্পক ছিল একই গ্রামের রাসেল হোসেন নামের এক যুবকের। গত ২৯ আগষ্ট রাতে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে ওই গৃহবধুকে ধর্ষণ করে রাসেল ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর থানায় অভিযোগ দেন ভূক্তভোগী গৃহবধু। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে মীমাংসা করতে অভিযুক্ত যুবক রাসেলের সঙ্গে গৃহবধুকে বিয়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয় জেলা পুলিশ। পরে গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই গৃহবধুকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের ও অভিযুক্ত যুবক রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর গতকাল বুধবার সকালে আরেক আসামি দাপুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। আর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওযার পর ওসিকে প্রত্যাহার ও এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।