প্রধান মেনু

পাবনায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা মানুষের ঢল থামানো যাচ্ছে না

দেশে দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯)। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জফেরত মানুষ দেখলেই গ্রামের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে যারা গ্রামে আসছেন তারা বেশিরভাগই গার্মেন্টস কর্মী। গ্রামে এসেই তারা কোনো কিছু না মেনে নিজেদের মতো চলাফেরা করছে। ফলে গ্রামের মানুষ প্রচন্ড স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসের সাতজন কর্মী পাবনার ফরিদপুরে এসেছে। তারা সবাই উপজেলার পুঙ্গলি ইউনিয়নের পাছপুঙ্গলি গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে পড়েছে ওই গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দারা। ওই গার্মেন্টসকর্মীদের আগমনের বিষয়ে গ্রামের সচেতন ব্যক্তিরা উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছে। উল্লেখ্য, পাবনার একমাত্র করোনা আক্রান্ত যুবক নারায়ণগঞ্জফেরত গার্মেন্টস কর্মী বলে জানা েগেছে।

গ্রামবাসী জানায়, পাছপুঙ্গলি গ্রামের নিগার মোল্লার ছেলে সাজেদুল ও তার স্ত্রী, নাজিম মোল্লার ছেলে আব্দুস সাত্তার ও সবুজ আহমেদ, আজির প্রামানিকের কন্যা জাবেদা খাতুন, আলেফ মন্ডলের কন্যা তিথি এবং নুদা প্রামাণিকের ছেলে আব্দুল গাফফার দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। এদের প্রত্যেকেরই বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। সকলেই পরিবার-পরিজন নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে। করোনা ভাইরাসের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোক ওই গ্রামে ফিরে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে বিভিন্ন পণ্যবাহী যানবাহনের চড়ে এসব গার্মেন্টস কর্মীরা সন্তানাদি নিয়ে গ্রামে চলে আসে। গ্রামটি অত্যন্ত ঘনবসতি হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ ফেরত এসব মানুষ গ্রামে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে আতঙ্ক। তবে গ্রামের ব্যক্তিবর্গ ওইসব পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পাছপুঙ্গলি গ্রামের স্কুলশিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ এমনিতেই খুব অসচেতন। প্রশাসন প্রায়ই অভিযান চালিয়েও স্থানীয় বাজারের জনসমাগম বন্ধ করতে পারছে না। বিকাল হলেই স্কুলের মাঠে লোকজনের ভিড় জমে। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে অনেক ব্যবসায়ীর দোকান খোলে। এর উপর নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস কর্মীরা গ্রামে এসে সবাইকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

পাছপুঙ্গলি গ্রামের ইউপি সদস্য রেজা আহমেদ জানান, রাতের আঁধারে পালিয়ে আসা গার্মেন্টসকর্মীদের পরিবারের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা নির্দেশ অমান্য করলে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।