প্রধান মেনু

থানার সামনে চায়ের দোকান খোলা ওসি বলছে কলা বিস্কুট বিক্রি

পাবনায় ভ্রাম্যমান আদালতে ২ পুলিশ সদস্যের জরিমানা।

পাবনার ঈশ্বরদী থানার সামনে সরকারী আদেশ অমান্য করে প্রকাশ্যে চায়ের দোকান খোলা রেখে চা বিক্রির অভিযোগে দোকানদারকে ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং চা পানরত ২ পুলিশ সদস্যকে ৫শ করে ১ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ঘটনাটি ঈশ্বরদী শহরে টক অব দা টাউনে পরিনত হয়েছে। একাধিক প্রত্যাক্ষদর্শী জানায়, আজ দুপুরে ঈশ্বরদী থানার সামনে রবি নামে এক চা দোকানদার সরকারী নির্দেশনা অম্যান্য করে দোকান খোলা রেখেছিল। সেখানে পুলিশের ২ সদস্য ওই দোকানে বসে চা পান করছিল। এ সময় ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিেেষ্ট্রট সহকারী কমিশনার ভুমি ঈশ্বরদী মমতাজ মহল সেখানে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় চায়ের দোকানদার রবিকে ১ হাজার টাকা ও ক্রেতা ঈশ্বরদী থানার পুলিশ সদস্য উজ্জলকে ৫শ টাকা ও জুয়েলকে ৫শ টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যেেদর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে ঈশ্বরদী থানার ওসি, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে জানিয়ে দেন আপনার অভিযানে কোন পুলিশ সদস্য যাবে না। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মমতাজ মহল থানায় এসে ওই ২ পুলিশ সদস্যকে টাকা ফেরত দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। পরে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকির হস্তক্ষেপে স্থানীয় সাংবাদিকগণ চেপে যান। ঘটনার বিষয়ে জানতে সহকারী ভুমি কমিশনার মমতাজ মহলের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, থানার সামনে দুপুর বেলা একটি চায়ের দোকান খোলা রেখে চা বিক্রি করছিল। সে কারনে দোকানদার রবিকে আমি ১ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। ২ পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অস্বিকার করেন। এক পর্যায়ে তিনি ফোনটি কেটে দেন। পরে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানার সামনে একজন চায়ের দোকানদারকে জরিমানা করেছে। সেখাসে ২ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কোন পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করেনি ভ্রাম্যমান আদালত। তার কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়, থানার সামনে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে দিনে দুপুরে কিভাবে চায়ের দোকান খোলা থাকে। তখন তিনি জানান চায়ের দোকানে তো কলা বিস্কুটও থাকে। সে গুলো বিক্রি করছিল। কলা বিস্কুট বিক্রি করলে জরিমানা কেন করবে জানতে চাইলে ওসি ফারুকী এ প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, আপনি এসিল্যান্ড সাহেবকে কেন ফোন দিয়েছিলেন এবং আপনি কি আমাদের মধ্যে বিরোধ লাগানোর চেষ্টা করছেন। আমি সহকারী ভুমি কমিশনারকে ফোন দিয়েছিলাম আপনি জানেন কিভাবে, প্রশ্ন করা হলে ওসি আরো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং মোবাইল কেটে দেন। একাধিক প্রত্যাক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানার সামনে যদি চায়ের দোকান খোলা রেখে চা বিক্রি করা হয়, তাহলে অন্য সব যায়গার অবস্থা কি তা সহজেই বোঝা যায়। তারা এও বলেন, আইন সবার জন্য সমান। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দুই পুলিশ সদস্যকে জরিমানা করার পরে, আবার তাদেরকে টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনা আইনসম্মত কিনা প্রশ্ন সুধি জনদের।