প্রধান মেনু

পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক আমজাদ হোসেন

আমিরুল ইসলাম রাঙা।

ভাষা সংগ্রামী ও পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক আমজাদ হোসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর পিএস। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে দুইবার নির্বাচিত এমএনএ ছিলেন।

আমজাদ হোসেন ১৯২৪ সালে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার চর সদিরাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা রফিক উদ্দিন মাতা পরিজান নেছা। বাল্যকালেই পিতামাতার সাথে জন্মস্থান ছেড়ে পাবনা শহরের উপকন্ঠে নূরপুর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। সেখান থেকেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু। প্রথমে রাধানগর মক্তব স্কুলে ভর্তি হন। তারপর পাবনা জেলা স্কুল ভর্তি হয়ে ১৯৪০ সালে মেট্রিক পাশ করেন । এরপর ১৯৪২ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে আইএ পাশ করে কলকাতা চলে যান। কলকাতায় মাওলানা আজাদ কলেজে বিএ ভর্তি হন। সেখানে ভর্তি হবার পরই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা ফজলুল হক এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচয় হয়।। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আহবানে রাজনীতে যোগ দেন। সেখান থেকেই রাজনীতির শুরু।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পাবনায় চলে আসেন। পাবনায় এসে শুরু করেন ঠিকাদারী ব্যবসা। সাথে রাজনীতি এবং সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে যান। ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হলে শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে সংগঠকের ভূমিকা নেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনা হলে পাবনায় অন্যতম প্রধান সংগঠক ছিলেন। পাবনায় ১৯৪৮ সালের ৫ মার্চ ভাষা আন্দোলনের প্রথম সভায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ভাষা আন্দোলনে প্রচার প্রচারনার জন্য হিসাব নিকাশ নামে একটি প্রচার পত্র তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পাবনায় এসে মটর এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশনের নেতৃত্ব গ্রহন করেন। তদানিন্তনকালে ঐ সংগঠনটি ছিল অনেক বড়। দেশ বিভাগের পর ঐ সংগঠনের প্রধান সংগঠক রবি ভট্টাচার্য ভারতে চলে গেলে সংগঠনটির দায়িত্ব নেন আমজাদ হোসেন। পরে ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলী সভাপতি এবং আমজাদ হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলী ঢাকা চলে গেলে আমজাদ হোসেন ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, আটুয়ার মাহমুদুল হক মুকু মিয়া। সহ-সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হন, এ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেন।

১৯৫৭ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে আমজাদ হোসেন তাঁর পিএস নিযুক্ত হন। প্রায় ৬ মাস ঐ পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন । এরপর যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙ্গে দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ বিভক্ত হয়ে যায়। মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাপ গঠন করেন। এর বিরুপ প্রভাব পড়ে পাবনা অঞ্চলে। এই অঞ্চলের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতারা ন্যাপে যোগ দেন। ঠিক সেই সময়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ক্যাপ্টেন এম, মনসুর আলী কেন্দ্রীয় এবং প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহন করলে আমজাদ হোসেন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। একই বছরে ১৩ -১৪ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে আমজাদ হোসেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমজাদ হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আব্দুর রব বগা মিয়া।

আমজাদ হোসেন ১৯৬২ সাল এবং ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ( এমএনএ) নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেনারেল আইয়ুব খানের প্রতিপক্ষ ফাতেমা আলী জিন্নাহ’র পক্ষে পাবনায় প্রধান হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা প্রচারনা এবং বঙ্গবন্ধুর পাবনায় সফর সফল করেন। ১৯৬৭ সালে পাবনায় বিষাক্ত ভূট্টার আটার রুটি খেয়ে অসংখ্য মানুষ অসুস্থ এবং মৃত্যুবরন করলে পাবনায় ভুট্টা আন্দোলন সংঘটিত হয়। স্থানীয় জনগণ বন্দুকের দোকান ভেঙ্গে অস্ত্র লুঠ করে স্থানীয় মুসলিম লীগ দলীয় এমএনএ ক্যাপ্টেন জায়েদীর বাড়ী আক্রমণ করে। উভয় পক্ষের বন্দুক যুদ্ধে ১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। সেই ঘটনায় আমজাদ হোসেন সহ বহু নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কারাবরন করে মুক্তি লাভের পর ৬৮/৬৯ এর গণ-আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭০ সালে ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচন। পাবনা সদর-আটঘরিয়া ও ঈশ্বরদী নির্বাচনী আসনে বিপুল ভোটে এমএনএ নির্বাচিত হন। এই আসনে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রার্থী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সোবহান এবং ন্যাপের সেলিনা বানু। প্রাদেশিক পরিষদে এমপিএ নির্বাচিত হন, পাবনা সদরে আব্দুর রব বগা মিয়া এবং ঈশ্বরদী – আটঘরিয়া থেকে এডভোকেট আমিন উদ্দিন আহমেদ। প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের পাঁচদিন পর বেড়া-সাঁথিয়া থেকে নির্বাচিত এমপিএ আহমেদ রফিককে ২২ ডিসেম্বর পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর নিজ বাড়ীর সামনে নক্সালরা খুন করে। ২৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু পাবনায় আসেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবনায় এসে আহমেদ রফিকের বাড়ীতে যান। আরিফপুর কবরস্থানে যান এবং বিকালে পুলিশ লাইন মাঠে শোক ও প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন। সে সময় আমজাদ হোসেন এমএনএ, আব্দুর রব বগা মিয়া এমপিএ এবং এডভোকেট আমিন উদ্দিন এমপিএ উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালে ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনিদিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করলে গোটা দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনের পর সারাদেশে জেলায় জেলায় স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পাবনায় আমজাদ হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট পাবনা জেলা স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। পরে পাবনার ডিসি এবং এসপি যোগ দিলে কমিটির সদস্য হয় নয়জন। কমিটির সভাপতি হন আমজাদ হোসেন (এমএনএ) সদস্য হন, আব্দুর রব বগা মিয়া ( এমপিএ), এডভোকেট আমিন উদ্দিন ( এমপিএ), আমিনুল ইসলাম বাদশা ( ন্যাপ), গোলাম আলী কাদেরী ( আওয়ামী লীগ), দেওয়ান মাহবুবুল হক ফেরু মিয়া ( আওয়ামী লীগ) আব্দুস সাত্তার লালু ( ছাত্রলীগ), নুরুল কাদের খান ( জেলা প্রশাসক) এবং আব্দুল গাফফার ( পুলিশ সুপার)। বর্নিত কমিটি ২৬ মার্চ পর্যন্ত হরতাল, মিছিল, অফিস আদালত, স্কুল-কলেজ সহ সমস্ত সরকারী – বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী চলে তার প্রচারণা সহ পাড়া মহল্লায় যুব-তরুনদের সংগঠিত করে সশস্ত্র ট্রেনিং গ্রহনের নির্দেশনা চালান। স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়, পাবনা পৌরসভা সংলগ্ন আমজাদ হোসেন এমএনএ এর ডুপ্লেক্স বাড়ীতে।

২৫ মার্চ পাকিস্তানের সৈন্যরা সারাদেশে অপারেশন সার্চলাইটের নামে লক্ষ লক্ষ নীরিহ মানুষকে হত্যা শুরু করে । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আটক করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় । ২৫ মার্চ রাতে পাবনায় এডভোকেট আমিন উদ্দিন এমপিএ সহ শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করে বিসিক শিল্পনগরীতে আটক করা হয়। সৈন্যরা ২৬ মার্চ শহরের কৃষ্ণপুর মহল্লায় জানাজা নামাজরত মুসুল্লীদের উপর গুলিবর্ষণ করে মানুষ হত্যা করে । পাবনা পুলিশ লাইন আক্রমণ করে । ২৭ মার্চ গভীর রাত থেকে আমজাদ হোসেন এমএনএ এর নেতৃত্বে পাবনার সর্বস্তরের জনগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু করে । ২৮ এবং ২৯ মার্চ পাবনায় প্রতিরোধ যুদ্ধে সমস্ত পাকিস্তানী সৈন্যদের হত্যা করে পাবনা হানাদার মুক্ত করা হয় । পাকিস্তান সৈন্যরা পরাজয়ের পুর্ব মুহূর্তে ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে এডভোকেট আমিন উদ্দিন এমপিএ সহ বেশ কয়েকজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

২৯ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পাবনা হানাদার মুক্ত থাকলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বিতীয় দফা ঢাকা আরিচা হয়ে পাবনা প্রবেশের চেষ্টা করে। পাবনার সমস্ত বীর জনতা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নগরবাড়ী ঘাটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সে সময় পাবনায় স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে আমজাদ হোসেন এমএনএ প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র খাদ্য রসদ সব কিছু পাবনা থেকে সরবরাহ করা হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল পাবনার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের সাথে আলাপরত অবস্থায় তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর উনাকে শিবরামপুরে ডাঃ ইসহাক সাহেবের ভাই মোঃ ইউনুছ আলীর বাড়ীতে আনা হয়। সেখান থেকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এরপর ঐদিনই পাবনা পলিটিক্যাল স্কুল মাঠে জানাজা শেষে আরিফপুর কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

আমজাদ হোসেন এমএনএ মৃত্যুকালে স্ত্রী, ১ ছেলে ৫ মেয়ে রেখে যান। একমাত্র ছেলে ফারুক হোসেন ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৫ সালে ১ সেপ্টেম্বর অকালে মৃত্যুবরন করেন। তাঁকে আরিফপুর কবরস্থানে তাঁর বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। মৃত্যুকালে স্ত্রী এবং ২ সন্তান রেখে যান। বড় ছেলে ঢাকা নর্থ সাউথ থেকে এমবিএ করে চাকুরী করছেন। ছোট ছেলে কানাডায় পড়াশুনা করছেন । আমজাদ হোসেনের ৫ মেয়ের মধ্যে ৩ জনের পাবনার সুপরিচিত সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয়। বড় জামাতা পাবনার প্রখ্যাত চিকিৎসক ক্যাপ্টেন ইফতেখার রসুল। মেজ জামাতা রাধানগর মজুমদার পাড়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাঈদ আকতার ডিডু এবং আরেক জামাতা ডাঃ নুরুজ্জামান। বাঁকী ২ জামাতার তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক আমজাদ হোসেন এমএনএ এর মৃত্যুর পরে পাবনা শহরের উপকন্ঠে বালিয়াহালট আমজাদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পরে পাবনা পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস আমজাদ স্মরনীকা নামকরণ করা হয়। যা ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার গুড়িয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁর স্মৃতিবিজরিত ডুপ্লেক্স বাড়ীটি। যে বাড়ীতে বসে আমজাদ হোসেন ১৯৪৮ এর ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। যে বাড়ীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসংখ্যবার পদধূলি দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন। সেই ঐতিহাসিক দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্যময় বাড়ীটি জামাই আর মেয়েরা মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে জায়গাটুকু ভাগ করে নিয়েছেন।

পাবনায় মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক আমজাদ হোসেন এমএনএ এর বাড়ী, কার্যালয় গুড়িয়ে দিলেও ইতিহাস থেকে কখনো তাঁর নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবেনা। তাঁর মিত্ররা তাঁকে স্মরণ না করলেও আমজাদ হোসেনের অমর কৃতি কেউ খাটো করতে পারবে না। হয়তো কখনো কোন অনুরাগী স্থাপন করবেন দুর্জয় পাবনা’র চেয়ে সুউচ্চ মিনার। হয়তো কখনো কেউ তাঁর পরিবার থেকে তাঁর বাসভবন উদ্ধার করে বানাতে পারেন আমজাদ হোসেন মিউজিয়াম। আর আমজাদ হোসেনের মত নেতাদের নামে কোন স্থাপনা নামকরণ না করে যারা তাঁকে অবমূল্যায়ন করেছেন – তারা নিজেরাই একদিন ইতিহাস থেকে বিলীন হবেন। ( শেষ)

লেখক পরিচিতি –

আমিরুল ইসলাম রাঙা
রাধানগর মজুমদার পাড়া
পাবনা।