প্রধান মেনু

প্রজন্মের পর প্রজন্ম জনতার পাশে যারা

‘মানুষ বাঁচে তার কর্মে বয়সে নয়’ অথবা ‘কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ’- এই বাক্যগুলি মানুষ মাত্রই মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারবেন।পাবনার ভাঙ্গুড়ায় উপজেলায় এমনই এক কীর্তিমান পরিবার রয়েছে যারা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণকর কাজ করে যাচ্ছেন। সেই পরিবারটি হলো আলহাজ্ব মহসীন আলীর। ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদার পাড়ায় তাঁর বাড়ি । তিনি ছিলেন একজন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব।

যদিও পেশা কৃষি ও ব্যবসা দুটোই ছিল তথাপি জনগণের সেবাই করাই তাঁর ছিল মুল লক্ষ্য। আর সেই জনসেবার কারণেই তিনি প্রায় দুই যুগেরও বেশী সময় ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রেসিডেন্ট / চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মানব সেবার লক্ষ্যকে সমানে নিয়েই তিনি ভাঙ্গুড়ায় একটি স্বাস্থ্য সেবার জন্য হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেন কিন্তু ইউনিয়ন পর্যায়ে এমন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তৎকালীন সরকারের অপারগতা প্রকাাশ করায় তিনি সেই সময়ে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন।

এর পর শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে কতিপয় দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় ১৯৭০সালে এ অঞ্চলের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হাজী জামাল উদ্দীন কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় , নারী শিক্ষার জন্য তিনি গড়ে তোলেন ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী গয়েজ উদ্দীন মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা ও ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজ। এসব ক্ষেত্রে তিনি অজস্র সম্পদ ব্যয় করে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হতে চেয়েছেন বলেই নিজের নামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেন নি।
হাজী মহাসীন এর যোগ্য উত্তরসুরী আলহাজ মোঃ মকবুল হোসেন যার জন্ম হয়েছিল ১৯৫০সালের ২০ শে জানুয়ারি তৎকালীন ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের সর্দার পাড়া গ্রামে। বাল্যকাল থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরোকারী। ১৯৫৭সালের প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৬৭সালে মেট্রিকুলেশন পাস করে।

পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করার লক্ষ্য ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ১৯৮৫সালে গণদাবীর ফলে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে এবং তিনি বিপুল ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি সক্রিয় ব্যক্তিত্ব জনগণের পাশে সবসময় থেকেছেন। যার কারনে ১৯৯০ সালের দ্বিতীয় মেয়াদে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি কাউন্সিলের মাধ্যমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ,২০০৪সালে পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন ।

এসময় পাবনা -৩এলাকার জনগণকে সংগঠিত করে এ অঞ্চলের আওয়ামীলীগকে আরও শক্তিশালী করেছিলেন। ২০০৮সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং বিপুল ভোটে পাবনা -৩ এলাকার জনগণ তাকে বিজয়ী করেন জাতীয় সংসদে পাঠিয়েছিলেন। আবার ২০১৪সালেও তিনি দলীয় মনোনয়নে দ্বিতীয় মোয়াদে নির্বাচিত হন। এসময় তিনি এঅঞ্চলের মানুষের জন্য রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট ,শিক্ষা স্বাস্থ্য বৈদ্যুৎতিক ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কাজ করেছিলেন । ২০১৮ সালে তৃতীয় বার জননেত্রী শেখ হাসিনা তাকে পুণরায় আবারো মনোনয়ন দিলে জনতা আবারো বিপুর ভোটে তাঁকে নির্বাচিত করেন। বর্তমানে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভুমি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন।

তার সুযোগ্য উত্তরসুরী ও বর্তমানের ভাঙ্গুড়া পৌর পিতা গোলাম হাসনাইন রাসেলও গণদাবীর মুখে ২০১৫ সালে পৌরসভার মেয়র প্রার্থীতা ঘোষনা করেন এবং জনপ্রিয়ার কারণে আওয়ামীলীগ এর দলীয় সমর্থন লাভ করে নৌকা প্রতীক পান এবং নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। অল্প সময়ে তিনি বিভিন্ন জনকল্যাকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা বাস্তাবায়নের মধ্য দিয়ে তিনি ভাঙ্গুড়া বাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন । তার দায়িত্ব গ্রহণের পর উল্লেখযোগ্য সফলতার মধ্যে ভাঙ্গুড়াকে মাদক মুক্ত করা , বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পৌর সভাকে খ শ্রেণি থেকে ক শ্রেণিতে উন্নতি করা,রাস্তা ঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা,পৌরসভার বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে সড়ক বাতি স্থাপন করা ও জুয়া খেলা বন্ধ করা। এ বিষয়ে মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন, জনসেবাই আমাদের পরিবারের মুল লক্ষ্য তাই যতো দিন বেঁেচ থাকবো, ততো দিন জনগনের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই।