প্রধান মেনু

সৎ পথে থেকে দেশের কল্যাণে কাজের আহব্বান পুলিশ সুপারের

বগুড়ায় আত্মসমর্পণকারী ১৫ জন চরমপন্থীকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান বিতরণ

অসৎ সঙ্গে মনুষ্যত্ব কে বিসর্জন দিয়ে অন্ধকার জগতে কাটিয়েছি জীবনের অনেকগুলো দিন। রাতের পর রাত অসহায় ও নিরীহ মানুষের সাথে অন্যায় অবিচার করেছি যেগুলোর চিন্তা করলে আজও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা রাতে। সরকার এবং পুলিশ এর সহযোগিতায় নিজের ভুল বুঝতে পেরে গত বছর সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলাম সুন্দর জীবনের আশায় আজ সত্যিই অনেক ভাল আছি। আত্মসমর্পণের পর আজ আবার প্রধানমন্ত্রীর এই আর্থিক অনুদান সত্যিই আমরা সকলে কৃতজ্ঞ অন্ধকার থেকে আমাদের এইভাবে আলোর পথে ফিরিয়ে আনার জন্যে। বগুড়া জেলা পুলিশের আয়োজনে রবিবার দুপুরে পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থীদের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে অশ্রুসিক্ত চোখে এইকথাগুলো একান্তে বলছিলেন সরকারের কাছে আত্মসমর্পণকারী বগুড়ার প্রাক্তন এক চরমপন্থী সদস্য ইসমাইল হোসেন (ছদ্মনাম)। একই ভাবে মঞ্চে সকলের সামনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়েও বর্তমানে অনেক ভাল আছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এভাবেই স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাধ্যমে নিজ পরিবারের সাথে ভালভাবে থাকতে চাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আরেক প্রাক্তন চরমপন্থী সদস্য রুবেল ইসলাম (ছদ্মনাম)। গত বছরের ৯ এপ্রিল পাবনা শহীদ এ্যাড. আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে কয়েকটি জেলা মিলে মোট ৫৯৫ জন চরমপন্থী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইজিপির কাছে কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে বগুড়ার ১৫ জন ছিলেন। বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার) এর সভাপতিত্বে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় করোনা দুর্যোগের মাঝেই রবিবার সামাজিক দূরত্ব মেনে আত্মসমর্পণকারী বগুড়ার সেই ১৫ জনকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। এসময় পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা সকলকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাধ্যমে সর্বদা দেশের কল্যাণে কাজ করার আহব্বান জানান তাদের। সেই সাথে এখনো যারা চরমপন্থী সদস্য হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্ধকারে জীবন যাপনের মাধ্যমে দেশ ও দশের ক্ষতিসাধন করছে তাদেরকেও সময় থাকতে সৎ পথে ফিরে আসার কথা বলেন জেলা পুলিশের এই কর্ণধার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) তাপস কুমার পালের সঞ্চালনায় এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) রাজশাহী বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জহির উদ্দিন, পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আব্দুল জলিল পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র সনাতন চক্রবর্তী, এনএসআই বগুড়ার উপ-পরিচালক মোজাহারুল ইসলাম মামুন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম বদিউজ্জামান, ডিএসবি বগুড়ার ওসি শাহজাহান আলী এবং ইন্সপেক্টর আশিক ইকবাল প্রমুখ।