প্রধান মেনু

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী গুরুদাসপুরের তিন বন্ধুকে সম্মামনা প্রদান

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী নাটোরের গুরুদাসপুরের তিন বন্ধু প্রবীর কুমার বর্মন, নির্মল কুমার কর্মকার চেল্টু ও অশোক কুমার পালকে ৪৫ বছর পর প্রথমবারের মতো সম্মাননা জানিয়েছে পৌর আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারের মুক্ত মঞ্চে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোক সভা, দোয়া মাহফিল ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে ওই তিন বন্ধুকে সম্মাননা জানানো হয়।

পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ মোল্লা ওই তিন বন্ধুর হাতে সম্মাননার স্মারক তুলে দেন। একই সময়ে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদ সদস্য সরকার মেহেদী হাসানও আলাদাভাবে সন্মাননা স্বারক ক্রেষ্ট তুলে দেন ওই তিন বন্ধুর হাতে। সম্মাননা প্রদানের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলের নেতা কর্মীরা হাত তুলে তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

গুরুদাসপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল বারি, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ শাহ্ নেওয়াজ মোল্লা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ পরিবারের সদস্যদের নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের পর গুরুদাসপুরের চাচঁকৈড় বাজারের সেসময়ের কলেজ পড়ুয়া তিন বন্ধু প্রবীর কুমার বর্মন, নির্মল কুমার কর্মকার ও অশোক কুমার পাল প্রথম প্রতিবাদ জানান। তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ ও বিচার দাবী করে হাতে লেখা লিফলেট ও পোষ্টার সাঁটাতে গেলে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

এরপর তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন সহ বিনা বিচারে দুই বছরসহ ২৯ মাস কারাভোগ করতে হয়েছে তাদের। বিচারে তাদের ৬ মাসের কারাদন্ড ও দুইশ টাকা করে জরিমানা করা হয়। বাড়ির গরু বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধ করেন তাদের পরিবার। ওই ঘটনার পর গত ৩৫ বছরে কেউ তাদের খোঁজ নেয়নি। গত বছর ডিসেম্বরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের ইতিহাস জানতে পেরে বর্তমান ইউএনও ওই তিন বন্ধুকে সম্মাননা জানান।

দীর্ঘদিন পর দলের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করায় তিন বন্ধু খুব খুশী হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে একবার দেখা করার প্রত্যাশা করছেন তারা।