প্রধান মেনু

বড়াল নদ পরিণত হচ্ছে ভাগাড়ে

পদ্মার একটি শাখা বড়াল নদ। পদ্মা ও যমুনার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ২’শ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ নদটি রাজশাহীর চারঘাট থেকে উৎপন্ন হয়ে পাবনা,নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ১০ টি উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। প্রায় একশটি ক্যানেল এবং তিন-চারশত বিল এ নদের সাথে সংযুক্ত। এক কালে নদটি স্রোতস্বিনী থাকলেও কালের বিবতর্নে এখন এটি মৃতপ্রায়। পাবনার চাটমোহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এ নদটি এখন ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। সকল ধরণের বর্জ্য বড়াল নদে ফেলায় নদটি এখন মশা মাছির প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

দখল দূষণ এবং নদে কয়েকটি ক্রস বাঁধ দেয়ার ফলে নদটি যখন মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হয় এমন সময় এ নদের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এলাকাবাসী গড়ে তোলে বড়াল রক্ষা আন্দোলন। নদ বাঁচাতে রাজশাহী থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২’শ কিলোমিটার এলাকায় মানববন্ধন করে বড়াল পাড়ের মানুষ। আন্দোলনের ফলে চাটমোহরের তিনটি ক্রস বাঁধ অপসারণ হলেও উজান এলাকা এখনো দখল মুক্ত হয়নি। গত মৌসুমে গুমানী নদীর কিছু পানি বড়াল হয়ে চাটমোহর ও নাটোরের বেশ কিছু বিলে প্রবেশ করলেও পদ্মার সাথে বড়ালের এখনো সংযোগ সাধন হয়নি।

বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকায় বড়াল নদের চাটমোহর অংশের প্রায় সর্বত্রই ময়লা ফেলছেন চাটমোহরের সচেতন-অসচেতন মানুষ। বড়াল নদের পাড়ের মুরগির খামারের বিষ্ঠা, মরা মুরগি, মাংস ব্যবসায়ীদের জবেহকৃত গরু ছাগলের রক্ত বর্জ্য উচ্ছিষ্টাংশ ফেলা হচ্ছে বড়াল নদে। নদী সংলগ্ন চাটমোহর থানা বাজারে বিক্রিত হাঁস মুরগির নাড়ি ভূড়ি ব্যবসায়ীরা নদীতে ফেলছেন। পৌর সদরের অনেক বাড়ির পয় নিষ্কাশন ড্রেন পৌরসভার ড্রেনের সাথে সংযুক্ত থাকায় এসকল শত শত বাড়ির মল মূত্রের তরলাংশ বড়াল নদীতে গিয়ে পরছে। পৌরসদরে পাবলিক টয়লেট না থাকায় অনেকে নদীর মধ্যে প্রাকৃতিক কাজ সাড়েন। এসকল কারণে বড়াল নদ পরিণত হচ্ছে ভাগাড়ে। স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকলেও প্রতিরোধে কোন কর্তৃপক্ষই কার্যকর ভূমিকা রাখছে না।

বড়াল পাড়ের বালুচর মহল্লার বাসিন্দা মোহাইমিনুল হালিম জানান, এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন হতে হবে। পৌরকর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনকে এব্যাপরে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। ডাষ্টবিনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ময়লা ফেলার নিদৃষ্ট স্থান তৈরী করে সেখানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। নদ বাঁচাতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা যেতে পারে। বোঁথড় গ্রামের ইউনুস আলী জানান, জার্দিস মোড়ের ব্রীজ, নতুনবাজার কাঠের ব্রীজ, বোঁথর ব্রীজ ও থানাবাজারের পাশে দাড়ানোর মত অবস্থা নেই। নদীর বুকে ফেলা বর্জ্য পঁচে দূর্গন্ধ বেরুচ্ছে। তলদেশে জমে থাকা পানিতে অসংখ্য পোকা কিলিবিলি করছে। বড়ালের তলদেশ এখন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান জানান, নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা খামারের তালিকা করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বর্জ্য ফেলা ও দখল দূষণ বন্ধ করতে অতি শিঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।