প্রধান মেনু

মে মাসের ১২ তারিখ করো’না বিদায় নিবে?

তারকা উঠবেঃ করো’না বিদায় নিবে! না বুঝার কারণে কারো কারো ঈ’মান ইতিমধ্যে বিদায় নিয়েছে!

একটা তারকাপুঞ্জ আছে, যার আরবি নাম সুরাইয়া। যেটাকে বাংলায় কৃত্তিকা বলে, ইংরেজিতে বলে Pleiades। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এর উদয় ভোরে হয়।

ওই সময় এই তারকার উদয়ে মানুষের উপর থেকে ব্যাধি বিদায় নিয়ে চলে যেতে পারে বলে একটা হাদিস আ’লোচিত হচ্ছে।

ই’মাম আত তাহাওয়ী তার “শারহু মুশকিলুল আসার” গ্রন্থে ই’মাম আবু হানিফা রাহি.এঁর সনদে একটা হাদীস নিয়ে এসেছেন। এই হাদীসকে তিনি দূর্বোধ্য হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এবং অ’ত্যন্ত গভীর পান্ডিত্য দিয়ে তার বিশ্লেষণ করেছেন।

হাদীসটাতে আবু হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন, “যখন তারাটি উঠবে, তখন প্রতিটি শহরবাসী থেকে ব্যাধি উঠিয়ে নেয়া হবে”।

ই’মাম আততাহাওয়ী বলেন, এই হাদীস নিয়ে ভাবতে যেয়ে আমি এই তারকার সন্ধান করা শুরু করলাম। কয়েকটা হাদীস নিয়ে গবেষণা করতে যেয়ে আব্দুল্লাহ ইবনে উমা’রের হাদীসের সন্ধান পেলাম।

তিনি বলছেন, ‘মহানবী (সা) ব্যাধি চলে যাওয়ার আগে ফল বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন’। বর্ণনাকারী উসমান বলেন, আমি ইবনে উমা’রের কাছে জিজ্ঞেস করলাম, কখন যাবে সেই ব্যাধি। তিনি বললেন, ঐটা সুরাইয়া তারকাপুঞ্জ উদয়ের পর।

আবু হুরায়রা রা. বর্ণিত আরেকটা হাদীস আছে যেখানে মহানবী (সা) বলছেন, “সকালে তারকা’টা উঠলে মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া ব্যাধি আল্লাহ উঠিয়ে নেন, অথবা কমিয়ে দেন”।

এরপর ই’মাম আততাহাওয়ী আবু হুরায়রার আরেকটি হাদীস উল্লেখ করেন যেখানে বলা হচ্ছে, মহানবী (সা) বলেন,

إِذَا طَلَعَتِ الثُّرَيَّا صَبَاحًا رُفِعَتِ الْعَاهَةُ عَنْ أَهْلِ الْبَلَدِ

যখন সকালে সুরায়্যাহ উদিত হয় তখন দেশের অধিবাসী হতে রোগ বালাইয়ের প্রকোপ উঠানো হয়।

হাদীসের ঈ’মামগন হাদীস গু’লিকে বলেছেন যয়ীফ তথা দূর্বল।(সনদগত বিশ্লেষণের পদ্ধতিতে) তবে ই’মাম তাহাওয়ীর সনদগুলো বিবেচনা করলে হুট করে সবগু’লিকেই যঈফ বলা যায়না।

বরং ই’মাম আহমাদের মু’সনাদের হাদীস, ই’মাম মুহাম্মাদের “আল-আ’সার”এর হাদীস, এবং খেজুর বিক্রি সংক্রান্ত সব হাদীস গুলো একত্রে আনলে আবু হুরায়রার হাদীসকে হাসান সাব্যস্ত করা যায়, এবং ইবন উমা’রের হাদীসকে সহীহ মানতে হয়। (একটু লম্বা হচ্ছে তবুও হাদীসের মুলপাঠ নিচে দিলাম)

ই’মাম আহমাদ তাঁর মু’সনাদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং ই’মাম বুখারীর শর্ত অনুযায়ী হাদীসটি সহীহ্। হাদীসটি হলো :

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللّٰہِ بْنِ سُرَاقَۃَ قَالَ: سَاَلْتُ ابْنَ عُمَرَ عَنْ بَیْعِ الثِّمَارِ فَقَالَ: نَہٰی رَسُوْلُ اللّٰہِ ‌صلی ‌اللہ ‌علیہ ‌وآلہ ‌وسلم عَنْ بَیْعِ الثِّمَارِ حَتّٰی تَذْھَبَ الْعَاھَۃُ، فَقُلْتُ: وَ مَتٰی ذَاکَ؟ قَالَ: حَتّٰی تَطْلُعَ الثُّرَیَّا۔*

‘উসমান ইবনে আবদুল্লাহ্ ইবনে সুরাক্বাহ্ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনে উমা’রকে ফসল বিক্রি স’ম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি বললেন, রাসূল (স.) ‘আহা’ যাওয়ার আগে ফসল (গাছের ফল) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আমি জোজ্ঞেস করলাম এটি কখন? তিনি বললেন, সুরাইয়্যা উদিত হওয়া পর্যন্ত।’ (মু’সনাদে আহমাদ-৫১০৫)

ই’মাম মু’সলিম (রাহ.) ও এমন একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি হলো:

عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ نَهَى أَوْ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلی اللہ علیہ وسلم عَنْ بَيْعِ الثَّمَرِ حَتَّى يَطِيبَ.

জাবের (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসূল (স.) ফল পাকার আগে (অর্থাৎ খা’রাপ আব হাওয়া হতে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত) বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।’

আরো একটি হাদীসে আম’রা দেখতে পাই, রাসূল (স.) বলেছেন:

*عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلی اللہ علیہ وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ النَّخْلِ حَتَّى يَزْهُوَ وَ عَنِ السُّنْبُلِ حَتَّى يَبْيَضَّ وَ يَأْمَنَ الْعَاهَةَ نَهَى الْبَائِعَ وَالْمُشْتَرِيَ*

‘ইবনে উমা’র (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূল (স.) খেজুর লাল বা হলুদ রং ধারণের পূর্বে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। (কারণ ফল যখন লাল বা হলুদ রং ধারণ করে তখন খা’রাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ থাকা নিশ্চিত হয়ে যায়)।

অনুরূপভাবে শীষটি যতক্ষণ না সাদা হয়ে যাবে এবং খা’রাপ আবহাওয়া হতে নিরাপদ না হয়ে যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত ধান-গম সহ যাবতীয় ফসল ক্রেতা বিক্রেতাকে বিক্রি করতে এবং ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।’(ঠকে যাওয়া বা ঠকানোর সম্ভাবনা থাকে)

যা হোক এই হাদীসগুলোর সাধারণ আলোচনা ছিলো একটু ভিন্ন। (কেনো বলছি, আরেকবার পড়ে দেখু’ন।ইস’লাম বিদ্বেষীরা যেনো আমাদের অ’তি আবেগী কথায় ফাঁক খুজে না বের করে) তা হলো আরব পঞ্জিকায় শীতকাল শুরু হয় ইংরেজির অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে। ঐ সময়ে সুরাইয়া নামের এই নক্ষত্রপুঞ্জ সন্ধ্যার পর উদয় হতে থাকে। রাত গভিরে তখন এই তারা খুব সহ’জে দেখা যায়।

এভাবে আস্তে আস্তে সূর্য তার উদয়স্থল পরিবর্তন করে উত্তর গো’লার্ধের দিকে সরতে থাকে, ফলে গাছে গাছে অংকুরোদ্গম হতে থাকে। ঘাষে বনজে বনফুলের সমা’রোহ শুরু হতে থাকে। আর ভাই’রাসের সংক্রমনও বাড়তে থাকে সমান্তরালে।

এভাবে চলতে চলতে এপ্রিল আসার পর সূর্য আরব অঞ্চলে মোটামুটি জো’র পায়। সুরাইয়ার উদয় হয় তখন শেষ রাতে। এই ভাবে মে মাসের ১২ তারিখের দিকে তার উদয় আসে ফজরের পর। Specialist of Astronomy বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে সেই সুরাইয়্যা তারাটি আগামী ১২ ই মে এবছরে উদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সময় আরব দেশে মা’রাত্মক গরম শুরু হয়। উত্তর ও দক্ষিণ গো’লার্ধে শুরু হয় উষ্ণতার আবহ। ফলে পরিবেশ হয়ে ওঠে অনেকটা ভাই’রাস(যা প্রত্যেক বছরেই হয়ে থাকে) মুক্ত। কারণ গরমে ভাই’রাস ব্যাক্টেরিয়া বাড়তে ক’ষ্ট পায়।(যেগু’লি ঠান্ডা এবং শীতে দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার উপযু’ক্ত)

ভালো করে বুঝুনঃআমাদের নবী (সা) ঐ টাই বুঝিয়েছেন তার হাদীস গুলোতে। তিনি মূলতঃ এখানে দুইটা বিষয়ের অবতারণা করেছেনঃ

১- মে মাসে সুরাইয়ার উদয়কে ফসল সুন্দর হবার ক্ষণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ঐ সময় খেজুর বিক্রির জন্য ভাল, কারণ খেজুরে কোন ব্যাধি ও শষ্যে কোন পোকা থাকেনা। কাজেই মে মাসের পর থেকেই খেজুর কেনা বেচার মওসুম ধার্য্য হলে ক্রেতা বিক্রেতা দুই জনেই সমস্যা মুক্ত হবে।(খা’রাপ মালে দাম কম,কিনলেও ক্রেতা ঠকে)

২- সুরাইয়া যখন সকালে উদয় হওয়া শুরু করে, অর্থাৎ মধ্য মে থেকে সূর্যের তাপ বাড়তে থাকে। সাথে সাথে শীতের কারণে যে সব পরিবেশিক সমস্যার সৃষ্টি হয় তা কমতে শুরু করে।

এই হাদীস গুলো পড়লে আমাদের বর্তমান প্রক্ষিতে করো’নার আ’ঘাতে ক্ষত বিক্ষত ও আশাহীন মানবতা অনেক আশার আলো লাভ করে। কারণ গরমের আগমন হচ্ছে, তাই হাদীস অনুযায়ী রোগ বালায়ের প্রাদুর্ভাবও কমতে শুরু করবে। এইটাই হলো ঐ কৃত্তিকা বা প্লায়েডিয নক্ষত্রপুঞ্জ উদয়ের ব্যাপারে হাদীসগুলোর ম’র্মকথা।

এখানে আমাদের যে জিনিষটা মা’থায় রাখতে হবে তা হলো সারা বছর সূর্য, চন্দ্র ও তারকা রাজির আকর্ষণের কারণে জল বায়ূর যথেষ্ঠ পরিবর্তন হয়। আবহাওয়া বিদ,ও মহাকাশ গবেষণায় দেখা যায় -চাঁদ সূর্য ও সূরাইয়ার কক্ষ পথের অবস্থান সমান বিন্দুতে এলে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এইটা প্রাকৃতিক সিস্টেমের মধ্যে আল্লাহ দিয়েছেন।

যেমন ভাবে দিয়েছেন চাঁদের আকর্ষণে জোয়ারের স্ফিতি, ও তার বিকর্ষণে ভাটার টান। এই সিস্টেমের প্রভাবের প্রতি বিশ্বা’স করলে গুনাহ নেই। কেও যদি বলে চাঁদের আকর্ষণে জোয়ার ভাটা হয়, তা হলে এই কথায় কোন গুনাহ হবে না। কিন্তু যখন বলা হয়” আল্লাহ নন, চাঁদই এই কাজটা করে, তখন হয় শিরক”।

এই কথাটি মনে রেখে বাকি কথায় লাগাম দিন:
সপ্তম হিজ’রিতে ম’ক্কার কাফিরদের সাথে সন্ধির সময় আমাদের রাসূল (সা) হুদায়বিয়্যাহতে অবস্থান করেন কয়েকদিন। একদিন সকালে ফাজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সাহাবিগণের দিকে ফিরলেন। ঐ রাতে বেশ বৃষ্টি হয়। তিনি বললেন, আজ তোমাদের রাব্ব আল্লাহ তাআলা কি বলেছেন জানো? সাহাবিগণ বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ

أَصْبَحَ مِنْ عِبادي مُؤْمِنٌ بِيَ وَكافِرٌ، فَأَمّا مَنْ قَالَ مُطِرْنا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِيَ وَكافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمّا مَنْ قَالَ مُطِرْنا بِنَوْءِ كَذا وَكَذا فَذَلِكَ كافِرٌ بِيَ وَمُؤْمِنٌ بِالْكَوْكَبِ

এই সকালে আমা’র বান্দাদের কেউ কেউ আমা’র উপর ঈ’মান নিয়ে জেগেছে, কেউ কেউ হয়েছে কাফির। যে বলেছে, আম’রা আল্লাহর রহমতে ও তাঁর কৃপায় বৃষ্টি দ্বারা সিঞ্চিত হয়েছি, তারা আমা’র উপর বিশ্বা’সী, এবং তারকায় অবিশ্বা’সী। কিন্তু যে বলেছে আম’রা ঐ ঐ তারকার জন্য বৃষ্টি পেয়েছি, তারা আমা’র প্রতি অবিশ্বা’সী ও তারকার প্রতি বিশ্বা’সী।

এই হাদীসটা আমাদের ঈ’মানকে শানিত করে। ইনশাআল্লাহ করো’না আক্রমন কমে আসবে। রাসূল সা.দুয়ায় আম’রা সমুলে ধংস হয়েও যাবোনা।পৃথিবী থেকে সে বিদায়ও নেবে।সাথে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে আরো হতে পারে।।সামনে গরমের মৌসুম ও তীব্রতা আসছে, তখন তার তীব্রতা, তীক্ষ্ণতা ও প্রসার কমে যাবে ইনশাআল্লাহ। তা হবে আল্লাহর রহমতে ও ফযলে। কোন #তারকার শক্তিতে নয়, নয় তাদের প্রভাবে।

(যারা ডেট তারিখ দিয়ে দিচ্ছেন করো’না চলে যাওয়ার আল্লাহর ওয়াস্তে আর ইস’লামকে উপহাসকারীদের খোরাক বানাবেননা,কই উমুক ডেট লাইনতো চলে গেলো এখনও কমলো না!নবীর হাদিস কই গেলো?ভালো করে বুঝে মুল বার্তা উপস্থাপন করুন,আবেগি ষ্ট্যাটাস নয়)

শেষকথা হিসেবে বলছি “তারকা উঠবে করো’না চলে যাবে” এজন্য দিনগুনে বাকি কটা দিন ছলেবলে কলে কৌশলে কাটিয়ে দাও।।নিজের ভুল,ইস্তিগফার,আল্লহর দিকে ফিরে আসা,জিন্দেগীর পরিবর্তন এগু’লি থেকে ফোকাস সরানোর শয়তানী ফাঁদে যেনো পা নাদেই আম’রা!সাবধান।।আম-ছালা দুটোই হারাতে হবে তাহলে।।