প্রধান মেনু

যে ‘কষ্টটা’ আজও ভোলেননি মাশরাফি

বিপিএলের প্রায় অবিক্রিতই থেকে যেতেন। যদি কি-না অষ্টম ডাকে গিয়ে মাশরাফির নামটা না বলতো ঢাকা প্লাটুন। তার আগেও এমনটা হয়েছিল ম্যাশের সাথে। প্রথম বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফটেও তিনি অনেকটা সময় ছিলেন উপেক্ষিত। পরে তৃতীয় রাউন্ডে তাকে নিয়েছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। যদিও পরে সেই দলকে শিরোপা উপহার দেন মাশরাফি।

এই কথাগুলো আজও ভোলেননি টাইগার দলনেতা। বুকের ভেতর বোধ হয় জমিয়ে রেখেছেন কষ্টটা। তাইতো শুক্রবার চট্টগ্রামের কাছে হারার পর ঢাকার অধিনায়কের কণ্ঠে খানিকটা অভিমানের সুর।

আপনার কাছে দলের প্রত্যাশা কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলেন, ‘আশা মানে কীৃ আমার কাছে, সবার কাছেই (আশা সমান)ৃ। আমি তো প্রায় অবিক্রিতই থাকি, আশা কোথায় করে ৃ(হাসি)! আশা করলে তো সবার আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ার কথা। আসলে এটা দলের মালিকরাই বলতে পারবে। সব দলই সমান প্রত্যাশা নিয়ে খেলে। আমরাও এই প্রত্যাশা নিয়ে খেলছি।’

মাঠে ছিলেন না অনেকদিন। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে। টেস্ট আর টি২০ থেকে নিজের নামটা কেটেছেন, বাকি রইল ক্রিকেটের এক ফরম্যাট ওয়ানডে। যে ফরম্যাটে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ গিয়েছিল শ্রীলংকায়। মাশরাফির অবর্তমানে তামিম ইকবালকে অধিনায়ক করে লংকা-অপারেশনে যায় টাইগাররা। কিন্তু ওই অপারেশন যে অকৃতকার্য হয়েছে, সেটা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়বে না।

অথচ বিশ্বকাপেও এই মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের যাত্রাটা হয়েছিল দুর্দান্ত। এ তো কয়েক দিন আগের কথা বললাম। আরেকটু পেছনে তাকালে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের সোনালি যুগে প্রবেশ করল, তার কারিগর কিন্তু এই মাশরাফি। তার অধিনায়কত্বে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলকেও নাকানি-চুবানি খাইয়েছে বাংলাদেশ।

কেবল ৫০ ওভার নয়, চার ছক্কার ক্রিকেটেও তার অবদান কিভাবে অস্বীকার করবে আজকের বাংলাদেশ। অদ্যাবধি মাশরাফির অধিনায়কত্বে ৮৫ ওয়ানডেতে অংশ নিয়ে রেকর্ড ৪৭ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর টি২০’তে ২৮ ম্যাচ থেকে জয় ১০টি। যেটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সফলতা।

এবার আসি বিপিএলে, এই অঙনও মাশরাফির ছোঁয়ায় হয়েছে আলোকিত। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সফল দলনেতা তিনি। ক’বছর আগেও এই মাশরাফিকে দলে নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগত সবাই। তার কাঁধে অধিনায়কত্বের ভার তুলে দিতে মুখিয়ে থাকতো দলগুলো। এটা হওয়া স্বাভাবিক। কেননা বিপিএলে তার হাত ধরে এসেছে অনেক প্রাপ্তি।

আগের ছয় আসরের চারটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল এই মাশরাফির নেতৃত্বাধীন দল। ২০১২ ও ২০১৩ আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, ২০১৫ আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং ২০১৭ আসরে রংপুর রাইডার্সকে শিরোপা উপহার দেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে কাপ্তান।

এখানেই শেষ নয়, বিপিএলের সফলতম পেসারও মাশরাফি। ৭৪ ম্যাচে ২৪.৪২ গড়ে বিপিএলে তার উইকেটসংখ্যা ৭৩টি। টুর্নামেন্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল সাকিব আল হাসানের, ১০৬টি। সেই মাশরাফিই কি-না দল পায় অন্তিম মুহূর্তে। আর এই বিষয়টাই যেন মাশরাফির মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।