প্রধান মেনু

রাজনগরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ঃ রাজনগরে দাবীকৃত ২ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে গত ১১ অক্টোবর মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী আব্দুল¬াহ আল-নোমান। অভিযোগে জানাযায়, রাজনগর উপজেলার চকিরাঐ( সুরুপুরা) গ্রামের ভূক্তভোগী আব্দুল¬াহ আল- নোমান একজন প্রতিষ্ঠিত রক্ষনশীল পরিবারে ছেলে। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সমাজ সেবামূলক কাজের সাথেও জড়িত। গত ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় শ.ই. সরকার জবলু, পিতা ঃ মৃত ঃ উবেদুর রহমান উরফে নুরুল ইসলাম সরকার, সাং- ৪৪১, ওয়াপদা রোড, বনবিথি আবাসিক এলাকা, থানা ও জেলা ঃ মৌলভীবাজার, বেলাল তালুকদার পিতা মৃত: আব্দুল হামিদ তালুকদার, গ্রাম-কদুপুর, ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়ন, থানা ও জেলা ঃ মৌলভীবাজার, হুমাযুন রহমান বাপ্পি, পিতা ঃ খলিলুর রহমান, মাতা ঃ জাহানারা চৌধুরী, গ্রাম ঃ পশ্চিম হরিরামপুর, থানা ঃ জুড়ী, জেলা ঃ মৌলভীবাজারসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন সাংবাদিক পরিচয়ে তাহার বাড়ীতে গিয়ে জানায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে বিগত ১ অক্টোবর বালিসহস্র গ্রামের মতিবুর রহমান এর কন্যা আয়ারল্যান্ড প্রবাসী জনৈক “নাজমিন বেগম” তার স্ত্রী (তালাক প্রাপ্ত) নামীয় নারী লিখিত অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয়ে উপরে উলে¬খিত ব্যক্তিগন তার কাছে বক্তব্য জানতে চান। তিনি অভিযোগ শুনে তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান নাজমিন বেগম তার স্ত্রী(বর্তমানে তাল¬াক প্রাপ্ত) সংসার জীবন অতিবাহিত করাকালীন সময়ে তিনি শরিয়ত সম্মত আদেশ, উপদেশ অমান্যক্রমে বেপর্দানশীল অবস্থায় জীবনযাত্রা করিয়া তার জীবন বিপন্ন করিয়া তুলেছিলেন। তিনি আয়ারল্যান্ড যাওয়ার পর তার সাথে কোন রকম যোগাযোগ রাখেননি। একাধিক কারণে তার কোন ভাবেই দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলনা। এমতাবস্থায় তার ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে বিগত ১৮/১১/ ২০১৯ইং,( রেজি নং- ২৮১৬) নোটারী পাবলিক মৌলভীবাজার এর সম্মুখে এক তালাক, দুই তালাক ও তিন তালাক বাইন উচ্চারণসহ তালাকের মাধ্যমে তাহার সহিত সর্ব প্রকারের দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এবং একই তারিখে জেলার রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুর নগর ইউনিয়নের কাজী অফিসে (বালাম নং- ০১, ক্রমিক নং- ১৯, পৃষ্ঠা নং-৩৩) স্বাক্ষীগণের উপস্থিতিতে সংশি¬ষ্ট কাজীর মাধ্যমে ইসলামী শরিয়তের বিধান মতে তালাক প্রদান করেন। তাল¬াক নামার কপি আইন মোতাবেক তাল¬ক প্রাপ্ত স্ত্রীর প্রবাসের আয়ারল্যান্ড ঠিকানায়, সংশি¬ষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, তার বাড়ির ঠিকানায় রেজিষ্টারী ডাকযোগে তাল¬াকের কপি প্রেরন করা হয়। উপরোক্ত সাংবাদিকগনকে এ সময় তিনি তার সমস্ত ডকুমেন্ট তাদের নিকট উপস্থাপন করেন। তার সমস্ত ডকুমেন্ট দেখার পর অভিযোক্ত বেলাল তালুকদার ও শ.ই. সরকার জবলু তাকে ঘরের পিছনে ডেকে নিয়ে বলেন বিষটি খুবই জটিল। তাদেরকে বিষয়টি দেখার জন্য দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। লেখা লেখিসহ আইনী প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হলে তাদেরকে ২ লাখ টাকা দিতে হবে। এ সময় হুমাযুন রহমান বাপ্পিও এসে এসব কথায় সায় দিয়ে বলে, সাংবাদিকরা তার ও তার বর্তমান স্ত্রীর ছবি দিয়ে লেখালেখি করলে পারিবারিক ভাবে সম্মান হানি হবে। বর্তমান সময়ে ২লাখ টাকা বেশি নয়। এসব বিষয়ে তাদের সাথে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করবেন বলে তাদেরকে কোন রকম তার বাড়ী থেকে বিদায় করেন। পরবর্তীতে বেলাল তালুকদার ও শ.ই. সরকার জবলু তাদের দাবীকৃত ২লাখ টাকা নিয়ে দেখা করার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে বিরক্ত করতে থাকেন। এবং হুমকি দেয় যে, তার এবং বর্তমান স্ত্রীসহ পরিবারের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাবহার করে সম্মান হানি করবেন। সর্বশেষ- গত ১০ অক্টোবর বেলাল তালুকদার এর সম্পাদনায় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে অবৈধ ভাবে তার ও বর্তমান স্ত্রীর ছবি ব্যবহার করে মনগড়া কাহিনী লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করেন। তার স্ত্রী তাদের এহেন জঘন্য আচরণে মানষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং এখন ডাক্তারের তত্ত্ববধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের লোকজনও একই ভাবে মানষিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। উপরে উলে-খিত ব্যক্তিগনের কারণে এবং তাদের দাবীকৃত ২ লাখ টাকা না দেওয়ায় তিনি ও তার পরিবার সামাজিক ও মানষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। উলে¬খিত ব্যক্তিগন ২ লাখ টাকা না দেওয়া পর্যন্ত আগামীতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে তার পরিবারের মানসম্মান ক্ষুর্ন করার হুমকি দিচ্ছে। ভূক্তভোগী আব্দুল¬াহ আল- নোমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা, মহা-পুলিশ পরিদর্শক (আই জি পি) ঢাকা, অতিরিক্ত ডি আই জি (সিকিউরিটি সেল) ঢাকা, ডিআইজি, সিলেট, অফিসার ইনচার্জ, রাজনগর থানা বরাবরে উপরে উল্লেখিত বিষয় বিবেচনা করে তাদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অনুলিপি প্রদান করেছেন। এব্যাপাওে জানতে চাইলে রাজনগর থানার অফিসার ইনর্চাজ:মো: আবুল হাসেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি আমি মৌখিক ভাবে অবগত হয়েছি। লিখিত কপি হাতে পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।