প্রধান মেনু

শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাত্তোর সংবাদ সম্মেলনে কল্লোল ফাউন্ডেশন

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুরে একঝাঁক জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান শেষে পরদিন সোমবার বাদ মাগরিব চাঁচকৈড় সাথী রান্নাঘর এন্ড রেষ্টুরেন্টে সংবর্ধনাত্তোর এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কল্লোল ফাউন্ডেশন। সংবাদ সম্মেলনে কল্লোল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ্যাড. কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি তার বক্তব্যের শুরুতেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলভাবে বাস্তবায়নে সহযোগীতা করার জন্য গুরুদাসপুরের জনগণ এবং সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এতবড় অনুষ্ঠানের আয়োজনে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে ইতিবাচক পরামর্শ দিলে পরবর্তীতে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে।
কোহেলি কুদ্দুস সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সংস্থার পরিচিতি ও চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, মানুষ ‘মানুষের জন্য’ এই মুল মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যানের জন্য স্বেচ্ছাসেবার ব্রত নিয়ে এই কল্লোর ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়। বৃহত্তর চলনবিলের তৃনমুল মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পাশে থেকে কাজ করার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সাল থেকে কল্লোল ফাউন্ডেশন নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। যার উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানব কল্যান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ে তোল এবং তাঁরই আদর্শের উপড় ভিত্তি করে মহান নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার ১২ জানুয়ারী কল্লোল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলার ৬৬৪ জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কল্লোল ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করে বলেন- এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম উপজেলার পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা, শীতবস্ত্র বিতরন, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাস্প, বৃক্ষরোপন, ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষন, পিছিয়ে পড়া নারীদের কর্মক্ষম করার জন্য ফ্রি সেলাই প্রশিক্ষন, কর্মসূচি করে যাচ্ছে। এলাকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বয়স্ক ও শিশু শিক্ষার জন্য ‘স্বপ্নদ্বার’ নামে একটি স্কুল পরিচালনা করছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের উপড় বিনামুল্যে বই বিতরন কর্মসূচি চলমান আছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি হিসেবে সেন্টার ফর রিসার্স এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর পৃষ্ঠপোষকতায় ইয়ং বাংলা ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ লাভ করে কল্লোল ফাউন্ডেশন।
সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কল্লোল ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুক্তি আরো বলেন, এলাকার ছাত্রছাত্রীদের মানসম্পন্ন শিক্ষায় এবং ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করার জন্যে প্রতি বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও ২০১৮ ও ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি, এইচএসসি পরিক্ষায় ৬৬৪ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি কল্লোল ফাউন্ডেশনের ভবিষ্যত কার্য্যক্রম তুল ধরে বলেন, ভবিষ্যতে একটি প্রতিবন্ধী স্কুল, একটি মেডিক্যাল কলেজ, পাঠাগার, বৃদ্ধাশ্রম ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রচারের জন্যে একটি ‘কমিউনিটি রেডিও’ প্রতিষ্ঠা করার আবেদন করা হয়েছে। শীঘ্রই মূল্যায়নে আসবে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পার করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এজন্য আপনাদের ইতিবাচক সহযোগীতা দরকার। যেভাবে আপনারা পাশে থেকে গঠনমূলক লেখনির মাধ্যমে সহযোগীতা করছেন, আশা করবো ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে পাবো। সর্বপরি এই কর্মকান্ডের সাথে যারা পাশে থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের সকলকে কল্লোল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
আলোচনায় অংশ নেন ফাউন্ডেশনের দাতা সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভন, সাধারন সম্পাদক মিল্টন উদ্দিন, বিয়াঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রভাষক মোজাম্মেল হক, সাংবাদিকদের মধ্যে দৈনিক দিবারাত্রীর পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক আতহার হোসেন, চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারন সম্পাদক এম এম আলী আক্কাছ, সাংবাদিক দিল মোহাম্মদ, প্রভাষক মাজেম আলী মলিন, আনিসুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম সহ আরো অনেকে। আলোচকরা সদ্য সমাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সফলতা ও ব্যর্থতা তুলে ধরে পরামর্শ দেন