প্রধান মেনু

সাংবাদিককে ইয়াবায় ফাঁসানোর চেষ্টা ; পুলিশ ক্লোজড

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে দুই ব্যক্তিকে পুলিশ ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেছে। এ সময় সাংবাদিকসহ এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে পিছু হটে পুলিশ। এ ঘটনায় পরে ওই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করার ঘোষণা দেন স্থানীয় থানার ওসি।

শনিবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর আজিমপুরের শাখতবাড়ি বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুই সাংবাদিকসহ প্রত্যক্ষদর্শী লোকজনের বর্ণনা থেকে জানা যায়, গত শনিবার রাত ১টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর আলম এবং মো. রিয়াদ নামের দুই ব্যক্তি। বাসার কাছে পৌঁছাতেই টহলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের থামতে বলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে ইয়াবা বড়ি দিয়ে তাদের ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন তারা। ওই সময় প্রতিবাদ জানাতে গেলে দুই সাংবাদিককেও মারধর-হেনস্তা করেন সেখানে আসা স্থানীয় থানার এক কর্মকর্তা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানালে থানার ওসি এসে ঘটনায় জড়িত এক পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করার ঘোষণা দেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। মারধর ও হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাজী মোবারক হোসেন এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির সাংবাদিক ফখরুল শাহীন।

ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া সাংবাদিক, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় লোকজন পুলিশের সদস্য আসলাম ও আবুল কালাম আজাদ দুজনের অপসারণ দাবি করেন। তবে লালবাগ থানার ওসি কে এম আশরাফ উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে শুধু কালামকে ক্লোজ করার ঘোষণা দেন। পরে ফিরে যাওয়ার সময় সহকর্মীদের সঙ্গে আলাপে ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘সাংবাদিকরা ফোন করেছেন। ফরমালিটি মেইনটেইন করতে তো আসতেই হয়।’

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক কাজী মোবারক হোসেন বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন কনভেনশন হলে তার বিবাহোত্তর সংবর্ধনা ছিল। অনুষ্ঠান শেষ করে বাসায় ফিরতে মধ্যরাত হয়ে যায়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি থেকে আসা তার বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও ভাতিজা মো. রিয়াদ রাত ১টার দিকে গাড়িতে করে আজিমপুরের বটতলা এলাকায় বাসার সামনে এলে ওই ঘটনা ঘটে। মোবারকের অভিযোগ, আজিমপুরে বটতলা এলাকায় লালবাগ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম ও ভাতিজা মো. রিয়াদের কাছে এসে এতরাতে বাইরে থাকার কারণ জানতে চান। তারা বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বললেও কালাম তাদের গাড়িতে উঠতে বলেন। বলা হয়, তাদের কাছে ইয়াবা আছে। একপর্যায়ে বড় ভাইকে মারধরও করা হয়। মারধরের ঘটনার একপর্যায়ে তাদের গাড়িটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে গাড়ি থেকে নেমে তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে নিজের ভাইকে মারধর করার কারণ জানতে চান। এর মধ্যে লালবাগ থানার ওসি (অপারেশনস) আসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। তখন এনটিভির সাংবাদিক ফখরুল শাহীন মুঠোফোনে ছবি তুলতে গেলে তাকে থাপ্পড় মারেন আসলাম। একপর্যায়ে মোবারকের কলার চেপে ধরে তাকে গাড়িতে তোলার চেষ্টাও করেন তিনি। তবে আসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সাংবাদিক জানলে এমনটা হতো না।

এরই মধ্যে খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ২৫-৩০ সাধারণ শিক্ষার্থী। ঘটনায় জড়িত দুই পুলিশ সদস্যের অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ করতে থাকেন তারা। ঘটনার ঘণ্টা-তিনেক পর বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লালবাগ থানার ওসি সাংবাদিকদের বলেন, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগে থানার এসআই আবুল কালাম আজাদকে ক্লোজ করা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ লোকজন আসলাম উদ্দিনেরও অপসারণ দাবি করতে থাকেন। পরে আসলামকে নিয়ে ওসি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় এক সহকর্মীর সঙ্গে তাকে বলতে শোনা যায়, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সাংবাদিকরা ফোন করেছেন। ফরমালিটি মেইনটেইন করতে তো আসতেই হয়।

এদিকে বটতলার স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেছেন, ওই এলাকায় রাতে টহলরত পুলিশের সদস্যরা প্রায়ই সাধারণ মানুষকে মাদকের অভিযোগ দিয়ে ফাঁসানোসহ নানাভাবে হয়রানি করে থাকেন। থানায় ধরে নিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পরে অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়। অনেকের বিরুদ্ধে করা হয় মিথ্যা মামলাও।

এদিকে রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম’ শীর্ষক বিভাগীয় কর্মশালায় শেষ সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল রাতে সাংবাদিক কাজী মোবারকের সঙ্গে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি এ বিষয়টি জানেন। আমি এ বিষয়টি তাদের সঙ্গে মনিটর করব। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন, তিনি ফিরে আসুক। আমি পুলিশের আইজির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। যাতে সম্মানজনক সুরাহা হয়।’