প্রধান মেনু

সুলেখিকা দেলেয়ারা মাহমুদ দিলু’র সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ ২১ অক্টোবর, বগুড়া জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক, সুলেখিকা ও উপস্থাপক দেলেয়ারা মাহমুদ দিলু’র (১৯৬৭-২০১২) সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১২ সালের আজকের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আমিন।

দেলেয়ারা মাহমুদ দিলু ১৯৬৭ সালের ১ জানুয়ারি পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাহানগর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস চাটমোহর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে। পিতা দেল মাহমুদ ছিলেন শিক্ষাবিদ, ভাষাসৈনিক এবং সরকারি ভকেশনাল ইনস্টিটিউটের সুপারিনটেন্ডেন্ট। মাতা জসিমন মাহমুদ। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে দেলেয়ারা মাহমুদ ছিলেন তৃতীয়। ভাইদের মধ্যে বড় দুই ভাই- প্রফেসর অধ্যক্ষ ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান, এনডিসি। মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান, এনডিসি  তিন ভাই-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তা এএইচএম জাকির হোসেন এবং ডিআইজি ওয়াই এম বেলালুর রহমান।

বাবা-মা ও ভাইদের অতি আদরের এবং শ্রদ্ধার স্থানটি দখল করে বেড়ে উঠেছিলেন দেলেয়ারা মাহমুদ। স্কুল ও কলেজ জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যাল থেকে ১৯৮৯ সালে মনোবিজ্ঞানে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯৯০ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

দেলেয়ারা মাহমুদ কর্মজীবনে প্রথমে চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজে মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর বগুড়া জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। অধ্যাপনা পেশায় তিনি সহকর্মী ও ছাত্রীদের অতিপ্রিয় এবং শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন স্কুলজীবন থেকেই। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। তাঁর জীবদ্দশায় চারটি বইসহ অসংখ্য লেখা প্রকাশিত হয়। একজন ভালো উপস্থাপক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত ছিলেন।

২০০০ সালে দেলেয়ারা মাহমুদ (দিলু) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বিসিএস জুডিসিয়াল সার্ভিস-এর কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিন আহমেদের সাথে।বিয়ের পর পরই মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হন তিনি। দীর্ঘ নয় বছর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ২১ অক্টোবর ২০১২ তারিখে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত পরোপকারী ও দানশীল ছিলেন তিনি।