প্রধান মেনু

স্কুল ছাত্রীকে উত্যক্ত করার জের ঈশ্বরদীতে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ বৃদ্ধার প্রাণহানি

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতাঃ
মোবাইল ফোনে স্কুল ছাত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও থানায় সাধারণ ডায়েরির ঘটনার জের ধরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে জাহানারা খাতুন (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত জাহানারা বেগম পরদিন রাত সাড়ে ১০টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মরদেহের পোষ্টমর্টেমের পর বুধবার বিলকেদার নিজ গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত জাহানারা বেগমের ছেলে আব্দুল আজিজ জানান, ছোট ভাই মিনারুলের ছেলে সিজান ও সাহান একই গ্রামের আজম ফকিরের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে বলে ঈশ্বরদী থানায় সিজান ও সাহানের নামে আজমের স্ত্রী রেখা খাতুন গত রবিবার অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি জানার পর সিজান ও সাহানকে ডেকে পারিবারিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে তারা জানান। সোমবার দুপুরে সিজান ও সাহান বাবলু মেম্বারের বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে আজমের ভাই আমজাদ ফকির, বিপু ফকির, পলাশ ও সজিব অতর্কিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে সিজান ও সাহানের উপর হামলা চালায়। হামলার ঘটনা শোনার পর বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগমসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে যায়। এসময় সিজান ও সাহানের সঙ্গে তারা আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের উপরও হামলা চালায়। এতে আমার মায়ের মাথা, বুক ও হাতে আঘাত লাগে। মাকে দ্রুত ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনা প্রসঙ্গে রেখা খাতুন জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে সিজান,সাহানসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার মেয়েকে উত্যক্ত করতো। প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিতো। গত রবিবার সিজানরা আমার মেয়েকে জোরপূর্বক মটর সাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টাও করে। একটি অপরিচিত মোবাইল নাম্বার থেকে আমাদের বাড়ির নাম্বারে ফোন দিয়ে মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করে। গালিগালাজের অভিযোগে আমি ঈশ্বরদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। এরপরই শুরু হয় আমাদের উপর অত্যাচার। সোমবার দুপুরে সিজান, সাহান ও তাঁর বাবা মিনারুলসহ পরিবারের সদস্যরা আমার দেবরের উপরের হামলা চালায়। মারামারির খবর পেয়ে সিজানের দাদী জাহানারা বেগম ঘটনাস্থলে এসে একাই পড়ে যায়। তাকে কেউ কোন আঘাত করেনি। তিনি বয়সের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। আমাদের ধারণা তিনি স্ট্রোক করেছেন। পরবর্তীতে রাজশাহীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। কিন্তু এখন আমাদের ফাঁসাতে বৃদ্ধা জাহানারাকে আমরা হত্যা করেছি বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, এঘটনায় বুধবার রাতে বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে৮ জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।