প্রধান মেনু

১৭ দিনেও মিলছে না ফলাফল, শঙ্কায় দিন কাটছে পরিবারের

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম গত ১৮ জুন সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হন। ওইদিন তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যান। পরদিন ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করেন। এর তিন-চার দিন পরেই আশরাফুল ইসলাম সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে করোনা সংক্রমনের আশঙ্কায় তাকে কর্মস্থলে যোগদানের অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি। এতে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে ওই কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যসহ ব্যাংকে কর্মরত অন্যান্য সহকর্মীদের।
শুধু ওই ব্যাংক কর্মকর্তা নয়। গত ১৯ জুন নমুনা দেয়া আরো ৪১ জনের করোনা পরীক্ষার ফলাফল আজও পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনকে নিয়মিত হিমশিম খেতে হচ্ছে। দিন দিন সংগৃহীত নমুনা নিয়ে রীতিমতো জটলার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত এপ্রিল ও মে মাসে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনার উপসর্গ বহনকারীদের নমুনা সংগ্রহ করে পাবনা সিভিল সার্জন অফিসে পাঠায়। পরে সিভিল সার্জন অফিস প্রতিটি উপজেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করতেন। ওই দুই মাস ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যেত। কিন্তু গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে দুই সপ্তাহের অধিক সময় লাগছে। এতে অনেকের উপসর্গ না থাকলে ফলাফল পাওয়ার অপেক্ষা না করে বাইরে চলাফেরা শুরু করছেন। পরে করোনা পজিটিভ ফলাফল আসলে সকলের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের সর্দার পাড়া মহল্লার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকা ফেরত আমার দুলাভাই আব্দুল হান্নানের নমুনা নিয়ে ভাঙ্গুড়া সরকারি হাইস্কুলে দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। কিন্তু দুই সপ্তাহে ফলাফল না আসায় দুলাভাই বাড়িতে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন। এ অবস্থায় নমুনা সংগ্রহের ১৭ দিন পর দুলাভাইয়ের করোনা পজিটিভ ফলাফল আসে।
ভাঙ্গুড়া বাজার শাখার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শাহিবুর রহমান বলেন, সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত আশরাফুল ইসলামকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। যদিও আক্রান্তের তিনদিন পরেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাকে কর্মস্থলে যোগদান করাতে পারছিনা।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার হালিমা খানম বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পাবনা সিভিল সার্জন অফিসে পাঠাচ্ছে। কিন্তু সিভিল সার্জন অফিস সংগৃহীত নমুনা রাজশাহী ল্যাবে পাঠাতে পারছে না। আবার নমুনা পাঠালেও পরীক্ষার অভাবে সেখানে জমা হয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ পড়ায় এই জটলার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ রোধে স্থানীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের কিছুই করার নেই।