প্রধান মেনু

১৮৫ টাকার বিরিয়ানি ২৮৫ টাকা!

  1. একের পর এক অভিনব পন্থায় লোপাট হচ্ছে সরকারি অর্থ। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বালিশ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের পর্দা দুর্নীতির মতো এবার পাওয়া গেছে বিরিয়ানি নিয়ে অর্থ লোপাটের তথ্য।

বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) আয়োজিত ‘মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিষয়ক বীমা প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্বাহী কর্মকর্তা সম্মেলন ২০১৯’ এর নামে এ অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৫ জুন রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে আইডিআরএ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আইডিআরএ, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ ও বীমা প্রতিষ্ঠানের ‘ক্যামেলকো’ (মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা অতিথিদের সঙ্গে আসা ড্রাইভারদের (গাড়িচালক) লাঞ্চ বাবদ ১৮১টি দুপুরের খাবার হোটেল থেকে আনা হয়। ধানমন্ডির স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাব থেকে আনা এ লাঞ্চবক্সের আইটেমে ছিল কাবাব ও ডিমসহ কাচ্চি বিরিয়ানি। ২৮৫ টাকা করে ১৮১টি প্যাকেট বিরিয়ানির দাম ধরা হয় ৫১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

কাবাব ও ডিমসহ এক প্যাকেট কাচ্চি বিরিয়ানির দাম ২৮৫ টাকা ধরা হলেও এর প্রকৃত মূল্য ১৮৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতিটি প্যাকেটের মূল্য ১০০ টাকা করে বেশি ধরা হয়েছে। এ হিসাবে ড্রাইভারদের বিরিয়ানি খাইয়ে আইডিআরএ থেকে লোপাট করা হয়েছে ১৮ হাজার ১০০ টাকা।

যোগাযোগ করা হলে ধানমন্ডির স্টার হোটেল অ্যান্ড কাবাবের সুপারভাইজার আরিফ বলেন, কাচ্চি বিরিয়ানি আমরা দুভাবে বিক্রি করি। হাফ ও ফুল। কাবাব ও ডিমসহ কাচ্চি বিরিয়ানি হাফের দাম ১৮৫ টাকা এবং ফুলের দাম ৩৩৫ টাকা। এছাড়া কাচ্চি বিরিয়ানির আর কোনো স্পেশাল আইটেম আমাদের নেই। যত প্যাকেটই নেয়া হোক একই দাম পড়বে। আমাদের যতগুলো শাখা আছে সব জায়গায় একই দাম।

চলতি বছরের ২৭ জুন অনুষ্ঠিত আইডিআরএ-এর ১২০তম কমিশন সভায় অতিরিক্ত এ খরচ অনুমোদনও করে নেয়া হয়েছে। বিরিয়ানির খরচের পাশাপাশি আইডিআরএ-এর সভায় সম্মেলনের অন্যান্য খরচও অনুমোদন করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সম্মেলনটি করতে আইডিআরএ খরচ করেছে ১০ লাখ টাকার ওপরে। সম্মেলনের খরচ বাবদ রেডিসন ব্লু হোটেল কর্তৃপক্ষকে নয় লাখ ৬৩ হাজার ৩১০ টাকা দেয়া হয়েছে বলে আইডিআরএ-এর নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

খরচের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮০ জনের সকালের নাস্তার জন্য খরচ হয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং লাঞ্চে (দুপুরের খাবার) পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আর ১৭০ জনের বিকালের নাস্তার জন্য খরচ হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা। এছাড়া ১৫০০ মিলির ১১০টি মিনারেল পানির জন্য ১৩ হাজার ৯১৫ টাকা, ৫০০ মিলির ২৫টি মিনারেল পানির জন্য দুই হাজার ৬৮৯ টাকা, ১০০টি চা-কফির জন্য ৩১ হাজার ৬২৫ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যান্য ব্যয় হিসাবে দেখানো হয়েছে ১৫ হাজার ৮৫০ টাকা। এর মধ্যে প্রতিপিস ৩০ টাকা করে ১৯০টি ফোল্ডার বাবদ পাঁচ হাজার ৭০০ টাকা, ২৫ টাকা করে ১৯০টি প্যাড চার হাজার ৭৫০ টাকা, ১০ টাকা করে ১৯০টি কলম এক হাজার ৯০০ টাকা এবং ব্যানার বাবদ চার হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এছাড়া ব্যানারের ওপর আরও ৬০০ টাকা ভ্যাট ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইডিআরএ-এর নথিতে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের জন্য মনিহারি আইটেম ও ব্যানারের বিষয়ে আগে বাজেট অনুমোদন করা সম্ভব হয়নি। তাই ১৬ হাজার ৪৫০ টাকা অনুমোদন করা প্রয়োজন। এছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথি, কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতিকে ১৫ হাজার টাকার ক্রেস্ট দেয়া হয়। এ বিল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন-সাপেক্ষে দেয়া হবে।

বিভিন্ন বীমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, ড্রাইভারদের জন্য কিনে আনা বিরিয়ানির দাম যেভাবে বাড়িয়ে ধরা হয়েছে তা কিছুতেই উচিত হয়নি। এটা অনেকটাই ডাকাতির মতো। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে এমন ঘটনা ঘটা সামগ্রিক বীমা খাতের জন্য লজ্জার। বিরিয়ানির মতো অন্যান্য খাতেও খরচ বাড়িয়ে ধরা হয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

যোগাযোগ করা হলে আইডিআরএ সদস্য ও মুখপাত্র গোকুল চাঁদ দাশ বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। সম্মেলন হয়েছিল গত জুনে, তার মানে প্রায় পাঁচ মাস আগে। এখন আমি এটা কীভাবে বলব? এছাড়া মুখপাত্র হলেই আমাকে যে সবকিছু জানতে হবে, তা তো নয়।