ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ নেতার আর্শিব্বাদপুষ্ঠ জামায়াত নেতার ভাইকে ছুরিকাঘাত হামলাকারী যুবলীগ নেতাদের বাড়িতে পুলিশি তান্ডবের অভিযোগ!

পাবনা সংবাদদাতাঃ
ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ইসরাইল হোসেন মন্ডলের ছোট ভাই এবং শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার আর্শিব্বাদপুষ্ঠ আব্দুল হাকিম মন্ডল (৪২) কে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। একচ্ছত্র এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবলীগ কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাকিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাকিম ছলিমপুরের বড়ইচারা গ্রামের আফাজ উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। ঘটনার পর গভীর রাতে এই ঘটনার সাথে জড়িত দুই যুবলীগ নেতার বাড়িতে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ব্যাপক তান্ডব চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের পক্ষ হতে তান্ডব চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, জামায়াত পরিবারের লোক এবং একসময়ে সে নিজেও জামায়াতের সাথে জড়িত থাকলেও ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার সাথে সম্পর্কের কারণে ওই এলাকায় হাকিম একচ্ছত্র আধিপত্য বিরাজ করেছিল। একচেটিয়া আধিপত্যের জের ধরে যুবলীগর সাথে হাকিমের দ্বন্দ্বের কারণে যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন বিশ্বাস ও তার দলবল বড়ইচারা মোড়ে হাকিমের উপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাহত করে।
এব্যাপারে আহত হাকিম মন্ডলের ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা ইসরাইল হোসেন মন্ডল জানান, তার ছোট ভাই একজন প্রতিষ্ঠিত ধান-চাল ব্যবসায়ী। সোমবার রাতে বড়ইচারাতে নিজের ব্যবসায় কার্যালয়ে বসে কাজ করছিল। এ সময় মিরকামারী গ্রামের আব্দুল মান্নান বিশ্বাসের ছেলে যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ৮-১০ জন যুবক রামদা, হাতুড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিতভাবে কার্যালয়ে ঢুকে হাকিমের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে ওই যুবকেরা হাকিমকে পেটায় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে হাকিম মন্ডল ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর পুলিশ গভীর রাতে ঈশ্বরদী যুবলীগের দুই নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র, এলইডি টিভি, রান্নাঘরের তালাবাটিসহ আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্থরা বলেন, পুলিশের হামলায় তাদের রান্না ঘরটিও মাটির সাথে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এজন্য সেহেরীর সময় তারা রান্না পর্যন্ত করতে পারেননি।
যুবলীগ নেতা আরিফ হোসেন বিশ্বাস (৩০) মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা প্রভাব খাটিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাড়িতে পুলিশ পাঠায়। পুলিশ তার মিরকামারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি চালায় এবং ঘরের জিনিসপত্র, এলইডি টেলিভিশন, শোকেস ভাংচুর করে। একই অভিযোগ করেছেন, পৌর এলাকার ভেলুপাড়া ইস্তা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে যুবলীগ কর্মী আরিফ হোসেনের। তিনি জানান, পুলিশ রাত ১ টার দিকে হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে তাকে না পেয়ে ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে চুরমার করে ।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাই তালুকদার জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাকিম মন্ডলের সাথে আরিফ হোসেন বিশ্বাসের বেশ কিছুদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার রাতে হাকিম মন্ডলকে ছুরিকাঘাত করা হয় । যুবলীগ সেতাদের বাড়িতে পুলিশের তান্ডব ও ভাংচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও সাজানো। নিজেরা ভাংচুর করে ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য পুলিশের উপর মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে। তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘তারা যদি সন্ত্রাসী না হয়ে ভাল লোক হতো, তাহলে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেরাচ্ছে কেন ? নিশ্চয়ই তারা ঘটনার সাথে জড়িত।’ তবে পুলিশি অভিযানের কথা স্বীকার করে ওসি বলেন, উপরের নির্দেশে সন্ত্রাসী গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author