স্টাফ রিপোর্টার
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের টাকা হরিলুট হয়েছে। আবার প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত টাকা ও উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে সংস্কারের টাকা কাজ না করে হরিলুট করেছেন। জানা যায়, সরকার ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের আটঘরিয়া উপজেলার ৭৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৮ টি প্রতিষ্ঠানে স্লিপ ফান্ডের (স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান) এর আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয় ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায়। যেখানে প্রতিটি বিদ্যালয়ের মাইলফলক, শ্রেণীকক্ষ সজ্জিত করণ, প্রয়োজনীয় উপকরণ ক্রয়, বিদ্যালয়কে আকর্ষনীকরণ এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীর জন্য পাটের তৈরি মাদুর, শিশু শ্রেনীর জন্য শ্রেনী কক্ষ আকর্ষনীয় করন করার জন্য প্রতিবছর ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারি বিধি মালায় এসকল কাজের কথা উল্লেখ করা রয়েছে কিন্তু কাজির গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই।
সরেজমিনে হাপানিয়া, একদন্ত বাড়ইপাড়া, কয়রাবাড়ি, পটেশ্বর, কাকমাড়ি, ফুলবাড়ি, মথুরানগর, ইসলামপুর, গারুড়িয়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখাগেছে, মাইলফলক তৈরি করা হলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে অন্য কোন কাজই করা হয়নি। এছাড়া পুরাতন কাজগুলোকে নতুন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার লোকজন জানান, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতিরা মিলে হরিলুটের দোকান খুলে বসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার একজন প্রধান শিক্ষক জানান, সরকার বরাদ্দ দিয়ে থাকেন বিদ্যালয় সজ্জিত করনের জন্য কিন্তু বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হওয়ায় আমরা সঠিক ভাবে কাজ করতে পারিনা। আবার উপজেলা হিসাব রক্ষন অফিস ও শিক্ষা অফিসে কিছু দিতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার আরও একজন প্রধান শিক্ষক জানান, কিছু কিছু বিদ্যালয়ে ভালো কাজ হয়ে থাকে তবে উপজেলার একদন্ত ক্লাস্টারে খুবই নাজুক অবস্থা রয়েছে। ঐক্লাস্টারের অফিসার হাসান আলী প্রধান শিক্ষকদের মাধপুর এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের একজনের কাছ থেকে বিভিন্ন উপকরণ নিতে বাধ্য করে। কিন্তু সেই উপকরণ অত্যান্ত নি¤œমানের এবং দামও অনেক বেশি ধরেন। তিনি আরও বলেন সেই উপকরণ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান অফিসারদের মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে থাকেন।
বিষয়টি নিয়ে একদন্ত ইউনিয়নের নয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আঃ জব্বার বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে কোন অনিয়ম হয়নি। সকল কাজ করা হয়েছে এবং মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ টাকা দিয়ে সঠিক ভাবে কাজ করা হবে।
আটঘরিয়া উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার হাসান আলী জানান, স্লিপ প্রকল্পের টাকার প্রায় সকল বিদ্যালয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আমি সকল বিদ্যালয় সঠিক ভাবে তদারকি করেছি।
তবে আটঘরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মুনিরা জানান, সরকারের এ সকল বরাদ্দ একটা ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন আমরা অল্প কিছু দিন আগে অর্থ ছাড় দিয়েছি তবে কাজ দেখার জন্যে এখনও মাঠে নামিনাই। সকল প্রধান শিক্ষকদের সময় দিয়েছি কাজ করার জন্যে। আগামী ২ দিনের মধ্যে কাজ দেখার জন্যে মাঠে নামবো এবং সঠিক কাজ হয়েছে কিনা তা দেখে ব্যবস্থা নেব। তবে আপনারাও বিদ্যালয় গুলোতে গিয়ে কাজ দেখে আমাদের সহযোগীতা করতে পারেন

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author