ডায়াবেটিস রোগীর আদর্শ ইফতার

ঢাকা  : ইফতারে আমাদের দেশে নানা ধরনের ভাজা-পোড়া ও মিষ্টি খাবারের প্রচলন আছে। খেজুর, শরবত ও জিলাপি ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু ডায়াবেটিসের রোগীরা এগুলো বাদ দিয়ে কীভাবে স্বাস্থ্যকর ইফতার বেছে নিতে পারবেন? এ বিষয়ে কয়েকটি পরামর্শ:

১. চিনি বা গুড় মেশানো কোনো খাবার বা শরবত খাবেন না। তবে ডাবের পানি, ফলের রস, লেবু-লবণের শরবত খেলে শরীরের পানি ও লবণশূন্যতা দূর হবে। খানিকটা লবণ দিয়ে টকদইয়ের লাচ্ছি বা ঘোল পান করতে পারেন। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাঁরা ইসবগুল বা তোকমা মেশানো পানীয় বেছে নিতে পারেন।

২. ইফতারে ভাজা-পোড়া কম খেয়ে স্বাস্থ্যকর প্রোটিন বেশি রাখুন। যেমন আদা-পুদিনা দিয়ে কাঁচা ছোলা, সেদ্ধ ছোলা না ভেজে শসা, টমেটো দিয়ে সালাদ করে খেতে পারবেন। টক-মিষ্টি ফলের সালাদ খান। ইফতারে একটি খেজুর খাবেন।

৩. মূল খাবারটা সাহ্রিতে খেতে হবে, দুপুরের সমপরিমাণ। ডায়াবেটিসের রোগী সাহ্রি না খেয়ে কখনো রোজা থাকবেন না। ইফতারের পর সন্ধ্যারাতে ভাত না খেয়ে বরং রুটি, ফলমূল, ওটস, দুধ, দই-চিড়া ইত্যাদি খেতে পারেন।

ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দুটি আদর্শ খাদ্যতালিকা:

১. মোট ১ হাজার ৩০০ কিলোক্যালরি
ইফতার: ছোলা আধা কাপ (৮০ গ্রাম), ছোট পেঁয়াজি ২টা, বেগুনি বা আলুর চপ ১টা, মুড়ি ১ কাপ, খেজুর ১টি, ফলের সালাদ আধা বাটি, রায়তা আধা কাপ।
সন্ধ্যারাত: আটার রুটি ২টা অথবা ১ কাপ ভাত বা ১ কাপ ওটস, সবজি ইচ্ছামতো, ১ টুকরো মাছ বা মাংস।
সাহ্রি: ভাত ২ কাপ, মাছ বা মাংস ১ টুকরো, ডাল ১ কাপ বা দুধ ১ কাপ, সবজি ইচ্ছামতো।

২. মোট ১ হাজার ৮০০ কিলোক্যালরি
ইফতার: ছোলা ৩ কাপ (১২০ গ্রাম), পেঁয়াজু ৩টা, বেগুনি ২টা বা আলুর চপ ১টা, মুড়ি ২ কাপ, খেজুর ১টা, ফলের সালাদ ১ কাপ, রায়তা আধা কাপ।
সন্ধ্যারাত: আটার রুটি ৩টা অথবা ভাত দেড় কাপ, মাছ-মাংস ২ টুকরো, সবজি ইচ্ছামতো।
সাহ্রি: ভাত আড়াই কাপ (৩০০ গ্রাম), মাছ বা মাংস ২ টুকরো (৬০ গ্রাম), ডাল বা দুধ ১ কাপ, সবজি ইচ্ছামতো।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author