ঈশ্বরদীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের প্রশংসা পত্র দেওয়ার নামে অনিয়মের মাধ্যমে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ॥ ভ্যন্তরীন খরচ ও উন্নয়নের নামে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের প্রশংসা পত্র দেওয়ার নামে অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারী নির্দেশনা না থাকার পরও উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রশংসা পত্র প্রতি ২’শ থেকে ৪’শ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫/৬’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। ঈশ্বরদীর এসব প্রতিষ্ঠান গুলো এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রশিদ ছাড়াই টাকা নেওয়া হয়েছে। আবার কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকা নিয়ে ভুঁয়া রশিদ দেওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অীভভাবকদের দেওয়া অভিযোগ সুত্রে এসব তথ্য জানাগেছে।
সুত্রমতে,চলতি বছরে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় কারিগরী ও মাদ্রাসাসহ ঈশ্বরদীর ৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৪২”শ ৯০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে মোট পাশ করে ৩৯’শ৪৮ জন শিক্ষার্থী। শুধু এসএম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে পাশ করেছে ২০২ জন,গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১’শ৪৩ জন,পূর্বটেংরী গার্লস স্কুল থেকে ৯২,দাশুড়িয়া এমএম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১’শ ৫৬ ও মুলাডুলি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮৪ জন পাশ করেছে। পাশ করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই উচ্চ বিদ্যালয় বা অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য প্রশংসা পত্র প্রয়োজন। অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির তারিখ ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশংসা পত্র আনতে যায়। এ সুযোগে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশংসা পত্র প্রতি ২’শ টাকা থেকে শুরু করে ৪’শ টাকা করে আদায় করে নেন। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের পালস বুঝে ৫/৬’শ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন। এতে এবারই শুধু বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশংসা পত্র বিক্রি করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করা হয়েছে। অভ্যন্তরীন ব্যয় বহণ ও উন্নয়নের নামে এসব টাকা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে প্রশংসা পত্র দিয়ে এসব টাকা নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা অসন্তুষ্ট হয়েছে এবং অভিভাবকরাও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে এসএম মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনুল ইসলাম প্রশংসা পত্র দিয়ে রশিদের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারী না পরিচালনা কমিটির তা বলতে পারেননি। তবে ২০০৪ সাল থেকে ২’শ টাকা এবং পাঁচ বছর আগ থেকে ২’শ ৫০ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে বলে তিনি জানান। গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড.আসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন,প্রশংসা পত্র প্রতি ৪’শ টাকা করে নিয়ে রশিদ প্রদানের সিদ্ধান্ত আগে থেকেই আছে। তবে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারী না পরিচালনা কমিটির তা তিনি পরিস্কার করে বলতে পারেননি। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক অভিযোগের বিষয়ে বলেন,এবার ১৩৬ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মতে,প্রশংসা পত্র প্রতি ৩’শ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। আগে ২’শ ৫০ টাকা করে নেওয়া হতো। এসব টাকা ফান্ডে জমা করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও প্রশংসা পত্র দিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে বলেন,টাকা নেওয়ার সরকারী কোন বিধান নেই। উন্নয়ন ফি বাবদ প্রকৃত রশিদ প্রদান সাপেক্ষে ১’শ টাকা করে নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন ,এসব অনিয়মের জন্য আমি কিছুই করতে পারিনা শিক্ষকরা আমার অধিনে না থাকার কারণে। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত কিনা তা জানতে চাওয়া হলে তিনি এমপিও ভুক্ত বলে স্বীকার করেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author