বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে আশু সম্ভাবনা নেই অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত চাটমোহর বাসী

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ঃ সীমাহীন দূর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র চাটমোহর বাসী। এহেন সমস্যার শেষ হবে কি না তা কেউ বলতে পারছে না। তন্নদ্ধে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যাটি হল বিদ্যুৎ পরিস্থিতি। পরিস্থিতির উত্তরনে কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে আশু কোন সম্ভাবনা নেই বলেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহ যাবৎ সারা দেশে শ্রাবনের অঝোর ধারায় বৃষ্টি বর্ষনে সাধারন মানুষ অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়েছেন। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। নদী, নালা, খাল, বিল, জলাশয় সহ বসত বাড়ির আশে পাশে পানিতে পরিপুর্ণ। স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় মানুষকে পড়তে হয়েছে দূর্ভোগে।
সারা দেশে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টিপাত ও দির্ঘদিন যাবৎ চাটমোহর উপজেলার গ্রাম গঞ্জে ও পৌর সদরের রাস্তা ঘাটের সংস্কার না থাকায় রাস্তাগুলো একেবারেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসকল রাস্তা সংস্কারে জনপ্রতিনিধিদের কোন উদ্যোগ না থাকায় জনমনে ক্রমশ ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। ক্ষোভ আর হতাশায় সাধারন মানুষ জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত ভর্তস্বনা করে চলেছেন।
অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত, রাস্তাঘাটের দূর্দশার সাথে বেশ কিছুদিন হল যুক্ত হয়েছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। বর্তমান সময়ে এরমাত্রা এতোটাই বেশি যে অতীত যেকোন সময়ের চেয়ে ভয়াবহ। মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে। দিনে রাতে মিলে উপজেলার অনেক জায়গাতে ২৪ ঘন্টায় ৬ ঘন্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকলে প্রায় ৩ ঘন্টা বিদ্যুতের দেখা নেই। উপজেলার অন্তর্গত বিভিন্ন এলাকার কলকারখানা সহ বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক লোকশানের মুখে পড়েছে। অল্প সময়ের ব্যাবধানে এসমস্যা সমাধানের কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তা বৃন্দ। এরুপ পরিস্থিতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কিছুই করার নেই। কর্তৃপক্ষের অনিচ্ছাকৃত এমন বিদ্যুৎ পরিস্থিতির জন্য গ্রাহক কে ধৈর্য ধরে কষ্ট মেনে নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফ উদ্দিন খান জানান, আপনারা বিশ্বাস করতে পারবেন না আমি ব্যক্তিগত ভাবে আজ কতটা রাত ঘুমাতে পারিনি। বিদ্যুতের এহেন পরিস্থিতিতে আমরা শংকিত আমরা আতংকিত। আমাদের যে পরিমান বিদ্যুৎ দেয়া হয় তার সব টুকুই গ্রহকের মাঝে সরবরাহ করে থাকি। পিক আওয়ার (সন্ধা ৭টা থেকে রাত ১১টা) সময়ে সর্বচ্চ পরিমান বিদ্যুৎ চাহিদা থাকে। এসময় নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গেলে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় প্রায় ৬০ মেঘাওয়াট। সেখানে বর্তমানে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি মাত্র ১৫-১৬ মেঘাওয়াট। এর মাত্রা অনেক সময় নামিয়ে ১০ মেঘাওয়াটও করা হয়েছে। এই পরিমান দিয়েই ৬টি ফিডারে বিভক্ত এলাকায় আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে যাচ্ছি।
বর্তমান সমস্যার প্রধান কারন হল, জাতীয় গ্রীডের আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের টাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে ভেঙ্গে যাওয়ায় সেখান থেকে বিদ্যুৎ আসা একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এর ফলে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সহ উত্তারাঞ্চলের প্রায় ১৬ জেলাতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ কুষ্টিয়া ভেরামারা কেন্দ্রে যেখান থেকে ৫০০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো সেটাও গত কয়েকদিন যাবৎ বিকল হয়ে গেছে। ফলে সেখান থেকে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। কত দিন নাগাত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটা আমরা বলতে পারছি না।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author