চাটমোহরে বাঁধ অপসারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ আহত ৫

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে অবৈধ সোঁতি বাঁধ অপসারণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধরমগাছা এলাকায় ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত আহত অবস্থায় ৪ জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতরা হলেন- নিমাইচড়া ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের আউয়াল মুন্সীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৬), মোহাম্মদ আলীর ছেলে আসাদুল ইসলাম (৩২), ইসমাইল মুন্সীর ছেলে আনিসুর রহমান (৩৫) ও চিনাভাতকুর গ্রামের ক্ষিতিশ হালদারের ছেলে শংকর হালদার (৫৫)। অপর এক জনের নাম জানা যায়নি।

জানা গেছে, গুমানী নদীতে গত কয়েকদিন আগে শংকর হালদার গং ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গুমানী নদীতে অবৈধভাবে সোঁতি বাঁধ দেয়। এতে করে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ¯্রােতের কারণে ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হলে এলাকাবাসীরা মঙ্গলবার বিকেলে সোঁতি বাঁধ অপসারণের কথা বললে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে এবং উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছি এবং দুই দিনের মধ্যে সোঁতি অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। তবে এর আগে মৎস কর্মকর্তাকে অবৈধ সোঁতি বাঁধ অপসারণের ব্যাপারে বলেছিলাম।

একাধিক সূত্র জানায়, প্রতি বছর নদীতে পানি বৃদ্ধি হওয়ার সাথে সাথে কতিপয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে সোঁতি বাঁধ দিয়ে নদীতে ¯্রােত তৈরি করে মৎস্য শিকার করেন প্রভাশালীরা। এবারও নদীতে সোঁতি বাধ স্থাপনের বিষয়টি উপজেলা মৎস অফিসার মাহবুবুর রহমানের কাছে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন ও এলাকাবাসীরা অভিযোগ করলেও এ ব্যাপারে তিনি কোন ব্যবস্থা নেন নি। এর আগে ব্যবস্থা নিলে এমন ঘটনা ঘটতো না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। অবৈধভাবে দেয়া সোঁতি বাধ অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে সোঁতি বাধ স্থাপন করতে দেয়া হবে না।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাটমোহর থানার ওসি এসএম আহসান হাবীব।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author