পাবনা শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দু বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা শহরের শিব মন্দিরের সাধারন সম্পাদক স্বপন কুন্ডুর ভাড়া বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট করেছে দূর্বৃত্তরা। এ সময় দূর্বৃত্তরা ওই বাড়ির মহিলাদের মারপিট করে স্বর্নালংকারসহ নগদ টাকা পয়সা নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকী দিয়ে যায়। গতকাল বুধবার দুপুর একটার দিকে শহরের শিবরামপুর মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। বিস্তারিত পরে বলতে পারবো।
শিবরামপুর শিব মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক স্বপন কুন্ডু বলেন, আমি এবং আমার ছেলে তাপস কেউই বাড়িতে ছিলাম না। দুপুরে একদল সন্ত্রাসী বাড়ির মধ্যে ঢুকে আমার ছেলে তাপসকে খুজে না পেয়ে বাড়িতে ব্যাপক ভাবে ভাংচুর চালায় এবং স্বর্নালংকারসহ টাকা পয়শা লুটপাট করে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে আমার ছেলের বউ ও আমার স্ত্রীকে মারপিট করে দূর্বৃত্তরা বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে শাসিয়ে যায়।
স্বপন কুন্ডুর স্ত্রী যমুনা কুন্ডু কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করে আসছি। ৭/৮ জনের এক দল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিত ভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে আমার ছেলে তাপসকে খুজতে থাকে। তাপসকে না পেয়ে বাড়িতে ভাংচুর করতে থাকে। এ সময় বাধা দিলে তাা আমাকে ও তাপসের স্ত্রী তমাকে এলোপাথারী মারপিট করে ঘর থেকে আমাদের দীর্ঘদিনের জমানো স্বর্নালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্বপন কুন্ডুর ছেলে তাপস কুন্ডু বলেন, আমার বা আমার পরিবারের সাথে কারো কোন বিরোধ নেই। দূর্বৃত্তরা কেন আমাদের উপর এ ধরনের হামলা করেছে আমার বোধগম্য নয়। তারা আমাদের পারিবারিক উপাসনালয়ও ভাংচুর করে যায়। এ ঘটনার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে ওই বাড়ির মালিক আহসান হাসিব তুর্য বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ির গেট ভাঙ্গার চেষ্টা করে। আমার মা বাধা দিলে হাতে সে আঘাত প্রাপ্ত হয়। সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া স্বপন কুন্ডুর ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। তারা আমাদের বাড়িতে প্রায় ৪০ বছর ধরে ভাড়া থাকেন, তাদের কোন শত্রু আছেন বলে আমার জানা নেই।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ জেলা কমিটির সহ প্রচার সম্পাদক শ্রী সাধন কুমার সাহা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করে বলেন, প্রশাসন ২৪ ঘন্টার মধ্যে দূর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে আমরা আন্দোলন শুরু করবো। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বাদল ঘোষ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তিনি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দূর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author