এবারের রবিশস্য আবাদ আশঙ্কায় চলনবিলের মানুষ

মো. আখলাকুজ্জামান, নিজেস্ব প্রতিনিধি:
নাটোরের গুরুদাসপুরে আত্রাই নদের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অবৈধ সোঁতিজাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে আটটি সোঁতিজাল। যথেচ্ছাভাবে সোঁতিজালে মাছ শিকারের ফলে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারছেনা। ফলে চলনবিলের বিল-জলাশয় থেকে পানি দ্রুত নামতে পারছেনা। এতে করে রবিশস্য আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি অধিদপ্তর ও চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, আত্রাই নদের যোগেন্দ্রনগর থেকে উজানের সিংড়া উপজেলার সীমান্ত সাবগাড়ি পর্যন্ত আটটি সোঁতিজাল বসানো হয়েছে। রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ মদদে এলাকায় এসব সোঁতিজাল বসানো হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাবার পর নরম কাদা মাটিতে সরিষা, মসুর ও রসুন চাষ করে লাভবান হওয়ার আশায় এসব রবিশস্য তুলেই ইরি-বোরো আবাদ করে থাকেন চলনবিলের কৃষক। কিন্তু সোঁতিজাল পেতে মাছ শিকার করায় রবিশস্য আবাদ বিলম্বিত হতে চলেছে।
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে,- উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ইউপি সদস্য সানোয়ার ও বেলাল হোসেন, রমিজুল ইসলাম, আব্দুল হান্নান, মিন্টু, রবিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, আকরাম হোসেন, আরদোস আলী, আব্দুল মান্নান ও রবিউল করিম (কানা বাবু) আত্রাই নদ ও বিলহরিবাড়ি-হরদমা নালায় অবৈধ সোঁতিজাল পেতে মাছ শিকার করছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত এক মাসে কমপক্ষে পাঁচবার এসব সোঁতিজাল উচ্ছেদের অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান শেষ হলেও তারা আবারো একই পদ্ধতিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সর্বশেষ ১৮ সেপ্টেম্বর সোঁতিজাল উচ্ছেদে অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে সাবগাড়ির সোঁতি মালিক রবিউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। ওই দিনই উপজেলা মৎস কর্মকর্তা বাদী হয়ে মৎস্য আইনে রবিউল ইসলামসহ আটজনের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামীরা হচ্ছেন- আবুল কালাম মেম্বার (৫ নম্বর ওয়ার্ড) রমিজুল ইসলাম ও মিন্টু দূর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম, আকরাম ও রবিউল ইসলাম, বিলহরিবাড়ি-হরদমা পয়েন্টে বেলাল মেম্বার ও আরদোষ আলী। এরপরেও সোঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ হয়নি।
আত্রাই নদের সাবগাড়িহাট ও রাবারড্যাম এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আত্রাই নদ জুড়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বাঁশের বানা ও তালাই দিয়ে নদীর দুই পাশ সংকুচিত করা হয়েছে। মাঝে সোঁতিজাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে সোঁতিজালে। স্থানীয়রা জানান, সোঁতিজালের কারনে নদীতে প্রচন্ড ¯্রােতের সৃষ্টি হয়েছে। বাধাগ্রস্থ হচ্ছে নৌ চলাচল।
সোঁতিজালের সাথে সংশ্লিষ্ট রমিজুল ইসলাম ও রবিউল ইসলাম বলেন, সোঁতিজাল বসাতে লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তাছাড়া প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করা হয়েছে। পত্রিকায় সংবাদ লিখে সোঁতিজাল বন্ধ করা যাবেনা।
এ ব্যাপারে বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক জানান, সোঁতিজালের কারনে ¯্রােতের সৃষ্টি হয়ে আত্রাই নদীতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতবাড়ি হুমকীর মুখে রয়েছে। সোঁতিজালের সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা রাজনৈতিক দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতার পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় নির্বিঘেœ মাছ শিকার করে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে সোঁতিজাল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে তার পরিষদের পক্ষ থেকে রেজুলেশন করে জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author