উপজেলার নামকরণঃ

কথিত আছে যে, খ্রীষ্টিয় পঞ্চদশ শতাব্দীতে এখানে সোনার মোহর ক্রয়-বিক্রয় হতো। তখন ডাকাতদের উপদ্রব বেশী থাকায় বিক্রেতারা ডাকাতদের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চটের থলিতে সোনার মহর নিয়ে এসে বিক্রি করতো। সোনার মোহর চটের থলিতে ভরে নিয়ে এসে বেচা-কেনা হতো বলে এখানকার নামকরণ করা হয়েছে চাটমোহর

উপজেলার ভৌগলিক অবস্থানঃ

চাটমোহর উপজেলা পাবনা জেলার অন্যতম বৃহৎ উপজেলা। এটি বড়াল নদীর তীরে অবস্থিত। এর উত্তরে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা, দক্ষিণে পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা, পূর্বে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা অবস্থিত।

বর্তমান উপজেলার ইতিহাসঃ

পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা একটি অতি প্রাচীণ ও প্রসিদ্ধ জনপদ। এককালে এ উপজেলার সিংহভাগ অংশ তথা বর্তমান হান্ডিয়াল, নিমাইচড়া, ছাইকোলা ও বিলচলন ইউনিয়ন চলনবিলের অমত্মর্ভূক্ত ছিল। ধীরে ধীরে এখানে জনবসতি গড়ে ওঠে বর্তমানে একটি অমিত সম্ভাবনার উপজেলায় পরিণত হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে এই এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এখানে কেবলমাত্র একটি পুলিশ ষ্টেশন ছিল। পরবর্তীতে উহা ‘থানা’ নামে পূণনামকরণ করা হয়। ‘থানা’ যখন এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় তখন প্রথমে এটি ‘আপগ্রেড থানা’ এবং পরবর্তীতে ‘উপজেলায়’ রূপামত্মর করা হয়। আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয় দিক দিয়ে চাটমোহর পাবনা জেলার তৃতীয় বৃহত্তমউপজেলা। ১৯৪৯ সালে এখানে থানা প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৬০ সালে থানা উন্নয়ন সার্কেলে রূপামত্মর করা হয় এবং ১৯৮২ সালে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর তারিখে তৎকালীন আঞ্চলিক সামরিক আইন প্রশাসক কর্নেল এ.এম. হাম্মাদ কর্তৃক চাটমোহর থানা কে ‘আপগ্রেড থানা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় যা পরবর্তীতে ‘উপজেলা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

উপজেলার সার্বিক তথ্যাদিঃ

বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল ‘চলনবিল’ চাটমোহর উপজেলা সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত। বর্ষাকালে এখানে মনোরম দৃশ্যের অবতারনা হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য চলনবিলে সমবেত হয়। অতীতে চাটমোহর উপজেলা ব্যবসার একটি অন্যতম প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এ এলাকা ব্যবসার প্রধান কেন্দ্র বিন্দু না হলেও অতীতের ঐতিহ্য ধরে রেখে অনেক মানুষ ব্যবসার সাথে জড়িত আছে। উপজেলার ‘মির্জাপুর বাজার’ নদী বন্দর হিসেবে সুপরিচিত ছিল। এখনো নদীপথে বিশাল নৌকা যোগে ঢাকা থেকে মাল আনা-নেওয়ার কাজে মির্জাপুর বাজারকে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় সবসময় নৌকা চলাচল করতে পারে না। ব্যবসায়ীদের নিকট বর্তমানে নদীপথে পণ্য পরিবহন আর সুবিধাজনক পর্যায়ে নেই। চাটমোহরউপজেলার অভ্যন্তরে শতকরা ৬০% এলাকায় সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা নাই। বিগত সময়ে অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে একসময়ের খরস্রোতবহতা বড়াল নদীকে বাঁধ দিয়ে চাটমোহরকে একটি মৃতপ্রায় নগরীতে পরিনত করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে বাঁধ অপসারণ করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মৃতপ্রায় এ নগরে পুণরায় প্রাণ সঞ্চার সম্ভব। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের শহরগুলোর সংগে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় বিভিন্ন এলাকার সংগে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে চাটমোহর উপজেলার। বঙ্গবন্ধু বহুমূখী সেতু স্থাপিত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ভাগ্যাহত অনেকেই জ্বালানী গ্যাসের সুবিধা পেলেও চাটমোহরবাসী এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছেন। চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ রয়েছে ২২,৪৬০ হেক্টর আবাদযোগ্য ভূমি যার প্রায় ১০০০ হেক্টর ভূমি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। এককালে শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত অমিত সম্ভাবনার এই অঞ্চল প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাবে আজ পশ্চাদপদ এলাকায় পরিনত হয়েছে। প্রাণহীন এই দেহে জীবনের সঞ্জীবন ঘটাতে চাই যথাযথ পরিকল্পনা এবং তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। চাটমোহর উপজেলায় মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে কোন সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। বে-সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয ১৪৬টি, উচ্চ বিদ্যালয় ৪২টি, কলেজ ১৪টি ও মাদ্রাসা ৩৯টি। চাটমোহর উপজেলায় ১৬ বৎসরের উপরে শিক্ষার হার পুরুষ ২৯.৩% এবং মহিলা ১৮.৮%। চাটমোহর পৌর এলাকায় শিক্ষার হার ৪৩.৪%, পুরুষ ৫০.৫৬% এবং মহিলা ৪৯.৪৪%। রাজধানী শহর ঢাকা হতে চাটমোহর এর দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। রাজধানী এবং বিভাগীয় শহর উভয়ের সাথেই এ উপজেলার রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে। জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার এবং বিভাগীয় শহর থেকে দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এখানে ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ এর আওতায় উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান। চাটমোহরউপজেলার আভ্যমত্মরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া ইউনিয়নে এখনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।

উল্লেখযোগ্য স্থান বা স্থাপনা :চাটমোহরের উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে ,চাটমোহর ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ সমাজ শাহী মসজিদ, চাটমোহর হান্ডিয়াল জগন্নাথ মন্দির, হরিপুর জমিদারবাড়ীর পুকুর, রাজা চন্দ্রনাথ ও বাবু শম্ভুনাথ উচ্চ বিদ্যালয় মথুরাপুর মিশন, চলন বিল ইত্যাদি

এক নজরে চাটমোহর উপজেলাঃ

উপজেলার নাম চাটমোহর

 

আয়তন ৩১০ বর্গ কিলোমিটার।
জনসংখ্যা ২,৪১,৩২৩ জন
ঘনতবসতি ৭৭৮.৪৬/বর্গকিলোমিটার
নির্বাচনী এলাকা ৭০, পাবনা-৩
ইউনিয়ন ১১ টি
পৌরসভা ০১ টি
খানা ৫২,৪৪৯ টি
মৌজা ১৬৬ টি
গ্রাম ২৫৮ টি
সরকারী হাসপাতাল ০১ টি
স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিক ১০ টি
কমিউনিটি ক্লিনিক ২৯ টি।
পোষ্ট অফিস ১২ টি
নদ নদী ০৩ টি (গুমানী, বড়াল ও চিকনাই)
হাট-বাজার ২৭ টি
ব্যাংক ০৮ টি
Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author