১১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন কাল ৬ ই নভেম্বর আটঘরিয়ার যুদ্ধ দিবস

মোঃ জিল্লুর রহমান রানা
কাল ৬ ই নভেম্বর পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার যুদ্ধ দিবস। পাবনা জেলার সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধ সংগঠিত হয় এদিনে। সরাসরি যুদ্ধে পকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিহত হন ১১ জন বীরবাঙ্গালী। আটঘরিয়ার বীর সন্তানরা সেইদিন হানাদার বাহিনীর সাথে বীরদর্পে যুদ্ধ করে জন্মভূমির জন্য হায়ানাদের বন্দুকের গুলিতে নিহত হয়ে বাংলার মানচিত্রে ইতিহাস রচনা করেন, যা আজকের প্রজন্ম শ্রদ্ধাভরে স্মরন করছে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্বপ্রকাশ করে। কিন্তু স্বাধীনতার নেপথ্যে যে সংগ্রাম তার ইতিহাস যেমন ভয়াবহ তেমনি বেদনাদায়ক ।

১৯৭১ সালের ৬ নভেম্বর পাবনা জেলায় সবচেয়ে বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয় আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের বংশীপাড়া নামক স্থানে। সেই যুদ্ধে বাংলার বীর সন্তানেরা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়ে ঘটনাস্থলেই ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে ।

১৯৭১ সালের নভেম্বর মাস সারাদেশে যুদ্ধ দানা বেঁধে উঠেছে। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মুক্তিবাহিনীর ছোট ছোট দল আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে থাকে। ২২ অক্টোবর বেরুয়ান গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা ৯ জন রাজাকারকে হত্যা করে এবং দুইজন মুক্তিযোদ্ধা তোয়াজউদ্দিন ও হায়দার আলী সেখানে শহীদ হন। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাজাকার ও হানাদাররা ৬ নভেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজে বের হয়। এই সংবাদ পেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে হানাদারদের প্রতিরোধের পরিকল্পনা নেয়। সেদিন মুজিব বাহিনীর প্রধান আনোয়ার হোসেন রেণু, পাবনার কমান্ডার শাহ্জাহান আলী ও ঈশ্বরদীর ওয়াসের কমান্ডারের নেতৃত্বে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা একত্রিত হয়ে হানাদারদের গতিপথ বংশীপাড়ার চন্দ্রাবতী নদীর পাশে ঘাঁটি গাড়ে। মুক্তিযোদ্ধা ও হানাদাররা সামনা-সামনি আসামাত্রই শুরু হয় ভয়াল যুদ্ধ। হানাদারদের ক্যাপ্টেন তাহের ঘটনাস্থলেই মারা যায়। কয়েকঘন্টা ব্যাপী সম্মূখ যুদ্ধে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন ১১ জন। সম্মূখযুদ্ধে সেইদিন যুদ্ধে শহীদ হন আবুল কাশেম, আব্দুল খালেক, নায়েব আলী, আব্দুর রশীদ, আব্দুল মালেক, শহিদুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, মনসুর আলী, আব্দুর রাজ্জাক, ইউনুস আলী, ও মহসীন আলী।

আটঘরিয়ার যুদ্ধ দিবস ৬ নভেম্বর। এ দিবসটিকে প্রথম দিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলেও কালের আবর্তে এখন আর এ দিবসটি পালন উপলক্ষে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের তেমন কোন আগ্রহ নেই। স্বাধীনতার ৩৯ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর সেখানে বীরসেনানীদের স্মরণ করার জন্য স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেই স্মৃতিস্তম্ভটিও সংরক্ষণে এলাকার মানুুষের রয়েছে চরম অবজ্ঞা ও অবহেলা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও স্মৃতিস্তম্ভটি রক্ষণাবেক্ষনের জন্য চারিদিকে তৈরী হয়নি প্রাচীর। জীর্ন-শীর্ণ হয়ে পড়ে আছে আটঘরিয়ার শ্রেষ্ঠ তথা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতি। এভাবেই হারিয়ে যেতে বসেছে আটঘরিয়ার মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী বংশীপাড়া ঘাটের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এভাবেই দিনে দিনে আগামী প্রজন্মের কাছে গুরুত্ব হারাচ্ছে ও অজানাই থেকে যাচ্ছে বংশীপাড়ার ইতহাস। এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম চত্বও খিদিরপুরের সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন শেখ জানান, সরকারি ভাবে কোন কর্মসূচি না নিলেও । এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম চত্বও খিদিরপুরের উদ্যোগে এইদিন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author