কমলগঞ্জে বৃটিশ-বাংলাদেশীকে হয়রানীর মাধ্যমে সর্বশান্ত করার চেষ্টা

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার ঃ কমলগঞ্জে এক সাবেক জাসদ (ইনু) কর্মী বৃটিশ নাগরিককে জামাত শিবির নেতা সাজিয়ে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানীর মাধ্যমে সর্বশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ করেছেন উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নস্থিত কামুদপুর গ্রামের মৃত: নজির উদ্দিন আহমদের পুত্র, বিশিষ্ট সমাজ সেবক, কামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, কামুদপুর আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদ ও কামুদপুর নজিরউদ্দিন হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠিাতা, দক্ষিণ কামুদপুর জামে মসজিদের দাতা সদস্য, সাবেক জাসদ (ইনু) কর্মী বৃটিশ-বাংলাদেশী নজরুল ইসলাম ওরফে আব্দুল আহাদ। তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা কামনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন- কমলগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বধরুল হাসানকে প্রাইভেট কার ক্রয়ের জন্য ২ লাখ টাকা না দেয়ায় এবং গত ইউপি নির্বাচনে ফজলুল হক বাদশার সমর্থন না দেয়ায় বিমাতা সূলভ অচরণের শিকার হচ্ছেন তিনি। গত ১লা সেপ্টেম্বর ওসি বধরুল হাসানের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগও করেছেন। প্রধান বিচারপতি, পুলিশের মহা পরিদর্শকসহ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রতিকার প্রার্থনা করে অনেক আবেদন নিবেদনও করেছেন। অনেক অভিযোগের তদন্তও হয়েছে, কিন্তু কোন তদন্ত কাজে আসছেনা। অভিযোগে প্রকাশ- ওসি (তদন্ত) হিসাবে বদরুল হাসান কমলগঞ্জ থানায় যোগদানের পর নজরুলের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। নজরুল দেশে অবস্থানকালে সময়ে-অসময়ে ছুটে আসতেন তার কামুদপুরের বাড়িতে। নজরুলও তাকে আপ্যায়নসহ যথাযথ সম্মান ও সাধ্যমত সহযোগীতা করতেন। নিজ বাড়ীর ফল-ফসল ও খামারের গরুর দুধ প্রদান এবং তার দাবি অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাপারে অর্থিক সহযোগীতা করতেন প্রায় নিয়মিত। বদরুল হাসানের দাবির প্রেক্ষিতে নজরুল তাকে আইফোন-৬ ক্রয়ের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা দেন। গত মে মাসে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বাড়ীতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য তিনি নগদ ২৫ হাজার টাকা দেন। গত রমজান মাসে থানার ইফতার পার্টির জন্য দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি নগদ ১০ হাজার ও বদরুল হাসানকে ৫ হাজার টাকাও দেন। সর্বশেষ, গত জুন মাসে এক পুত্রসহ ওসি বদরুল হাসান তার বাড়িতে আসেন এবং প্রাইভেট কার ক্রয়ের জন্য ২ লাখ টাকা দাবী করেন। এ ২ লাখ টাকা প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করাই নজরুলের কাল হয়েছে। তার বাড়ী থেকে যাবার সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় ওসি বদরুল বলেন “তোমাকে আর কোনদিন লন্ডনে যেতে দেবনা। সে ব্যবস্থা আমি করব। টাকা তুমি কিভাবে দেবে তা আমার জানা আছে। ২ লাখ টাকা না দেয়ার কারণে কত ২ লাখ টাকা যে দেবে তা পরে বুঝবে”। এরপর গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলাপরত অবস্থায় একদল পুলিশসহ তাকে থানায় নিয়ে ২০১৫ সালের পুলিশ এসল্ট মামলার (নং- ০৯) সন্ধিগ্ন আসামী করে কোর্টে চালান দেন এবং চালান প্রতিবেদনে নজরুলকে ৯নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জামায়াতের ওয়ার্ড সেক্রেটারী বলে উল্লেখ করেন। ওই চালান প্রতিবেদনেই আবার বলা হয়েছে “বর্ণিত সন্ধিগ্ন আসামী মোঃ সেলিম উদ্দিন অত্র মামলার ঘটনার সহিত জড়িত আছে মর্মে বিশ্বস্থ সূত্রে তথ্যাদি পাওয়া যাইতেছে। ঘটনার পূর্বে উক্ত আসামীকে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, ওসি বদরুল হাসান কামুদপুর জামে মসজিদের ভূমি নিয়ে নজরুলের সাথে বিরোধে লিপ্ত দক্ষিণ কামুদপুর গ্রামের মৃতঃ আব্দুর রহমানের পুত্র জাফর আলীকে দিয়ে ওই ৩১ জুলাইয়েই নজরুলের বিরুদ্ধে মারপিট ও সাড়ে ৪ হাজার টাকা চুরির মামলা দায়ের করিয়ে সাথে সাথে তা এফআইআর (নং- ২৯), এসআই জাহিদকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং ওইদিনই গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কোর্টে চালান দেন। অর্থাৎ পুলিশ এসল্ট এবং মারপিট ও চুরি- এ দুটি মামলার আসামী হিসাবে নজরুলকে একইদিনে গ্রেফতার ও কোর্টে চালান দেয়া হয়। এ মামলায় নজরুল ২৫ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে- ৬নং আলীনগর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের স্থায়ী নাগরিক সাবেক জাসদ (ইনু) কর্মী বৃটিশ-বাংলাদেশী নজরুলকে ২০১৫ সালের ৯নং পুলিশ এসল্ট মামলায় গ্রেফতার এবং ৯নং ইসলামপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের জামায়াতের ওয়ার্ড সেক্রেটারী উল্লেখে কোর্টে দাখিলী চালান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার ঘটনার সহিত জড়িত এবং ঘটনার পূর্বে ঘটনাস্থলের আশপাশ এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে সেলিম উদ্দিনকে। তাহলে প্রকৃতপক্ষে সন্ধিগ্ন আসামী কে ? নজরুল না সেলিম নাকি উভয়েই ? অপরদিকে, গত ৩১ জুলাই ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত কমলগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় নজরুল বিরোধী বক্তব্য দিয়ে জোট বাঁধেন ফজলুল হক বাদশাও নজরুলের প্রতিপক্ষের সাথে। এভাবেই দক্ষিণ কামুদপুর গ্রামের জাফর আলীসহ স্থানীয় একটি চক্র, থানার সাবেক ওসি বদরুল হাসান মিলে বৃটিশ-বাংলাদেশী নজরুল ইসলামকে হয়রানীর মাধ্যমে সর্বশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সর্বশেষ- বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩নং আমল গ্রহনকারী আদালতের (পিটিশন মামলা নং- ২১৯/২০১৭ইং) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মৌলভীবাজার। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মৌলভীবাজার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ বশির মোল্লা স্বাক্ষরিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় বৃটিশ-বাংলাদেশী নজরুল ইসলাম ওরফে আব্দুল আহাদ এর বিরুদ্ধে দশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী, জাল- জালিয়াতি করে টাকা আন্তসাৎ এবং প্রাণে মেরে লাশ গুম করার ঘটনার সংশ্লিষ্টতার কোন স্বাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায়নি। তাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। সম্প্রতি বৃটিশ-বাংলাদেশী নজরুল ইসলাম তার বাড়ীতে গত ১৫ ডিসেম্বর কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বধরুল হাসান এর বদলি উপলক্ষে তার বে-আইনী কর্মকান্ডের উপর মতবিনিময় সভা, দোয়া মাহফিল ও শিরনী বিতরন করা হয়। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

Recommend to friends
  • gplus
  • pinterest

About the Author